Thursday, July 30, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ফের বিক্ষোভের হুমকি জেন-‌জি ছাত্রছাত্রীদের!‌ সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় ‘ককরোচ’রা

RK NEWZ ধর্মেন্দ্রের ইস্তফাতেও শেষ হয়নি স্নায়ুযুদ্ধ! সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় ‘ককরোচ’রা, চাপ বাড়াতে ফের বিক্ষোভের হুমকি। সিজেপি ঘোষিত ‘সব দাবি’র মধ্যে ছিল, দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না-করার নিশ্চয়তা এবং নিটের প্রশ্নফাঁসে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ। ৩৬ দিনের টানা লড়াইয়ের পর চার দিনের সাময়িক ‘যুদ্ধবিরতি’! মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপকে-র হুঁশিয়ারি এবং তার কয়েক ঘণ্টা পরে শিক্ষার্থী, কৃষক ও যুবপ্রজন্মকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের বার্তা দিতে কৃষকনেতা রাকেশ টিকায়েতের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ ‘অন্য ইঙ্গিতবাহী’ বলে মনে করছেন রাজনীতিকদের অনেকে। ধর্মেন্দ্রের ইস্তফা, প্রশ্নফাঁসের মামলার বিচারে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার খোলনলচে পাল্টানোর জন্য নন্দন নিলেকণির নেতৃত্বে ছ’জন সদস্যের ‘টাস্ক ফোর্স’ (বিশেষজ্ঞ কমিটি) গড়ার পাশাপাশি নতুন সংশোধনী বিলকেও ‘ককরোচ’-আন্দোলনের জয় বলে মনে করছেন অনেকেই। কিন্তু বিল পাশের পরেই দীপকে বলেন, ‘‘মানসিকতার পরিবর্তন না হলে শুধুমাত্র আইন সংস্কার করে সমস্যার সমাধান হবে না। দেশে অনেক আইন সংস্কার হয়েছে, কিন্তু মানুষের উদ্দেশ্য বা মানসিকতার উন্নতি না হলে কিছুই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সিবিআই-এর আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় প্রথম শুনানিই তো স্থগিত করতে হয়েছে!’’ সেই সঙ্গেই তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘সব আন্দোলনকারী বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আবার আন্দোলনে নামব আমরা।’’ তাঁদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশকে অস্ত্র করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র এবং বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে পুলিশি পদক্ষেপের উদ্যোগে ‘সিঁদুরে মেঘ’ দেখছে সিজেপি। তাই বৃহত্তর মঞ্চ গড়ে নতুন আন্দোলনের বার্তার মাধ্যমে এই ‘পাল্টা চাপের রণনীতি’। টানাপড়েনের এই আবহেই বুধবার সংসদে পাশ হয়েছে প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল। নিট-প্রশ্নফাঁস নিয়ে যন্তর মন্তরে অবস্থান-অনশনের পরে গত শনিবার (২৫ জুলাই) ইস্তফা দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এর পরে কেন্দ্রীয় সরকারের দুই মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে বৈঠকের পরে সিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের তরফে ‘সব দাবি’ মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি মেলায় তাঁরা যন্তর মন্তর থেকে অবস্থান প্রত্যাহার করছেন। সিজেপি ঘোষিত ‘সব দাবি’র মধ্যে ছিল, দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না-করার নিশ্চয়তা এবং নিটের প্রশ্নফাঁসে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ। সিজেপি-র বক্তব্য, সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত কেন্দ্রের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছিল। সেখানেও একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এর পরেই মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তিকালীন নির্দেশে প্রমাদ গুনছেন অভিজিৎ এবং তাঁর সঙ্গী সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কারা। তাঁদের আশঙ্কা, শীর্ষ আদালতের ওই নির্দেশের উপর দায় চাপিয়ে প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘ঘুরপথে’ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। মধ্যস্থতাকারী মন্ত্রী জেপি নড্ডার মন্তব্যে ‘ককরোচ’দের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। আর তাই বুধবার থেকেই শুরু হয়েছে নতুন আন্দোলনের প্রস্তুতি। সূত্রের খবর, যন্তর মন্তরের মঞ্চে (এবং পরবর্তী সময় হাসপাতালে) টানা ২৬ দিন অনশন চালিয়ে যাওয়া পরিবেশবিদ তথা সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুকের ‘বক্তব্য-বদল’ও শঙ্কা বাড়িয়েছে ‘ককরোচ’ বাহিনীর। গত ২৩ জুলাই মধ্যরাতে গুরুগ্রামের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওয়াংচুক দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নড্ডা এবং জিতেন্দ্রের হাতে ফলের রস খেয়ে অনশন ভাঙার সময় ভিডিয়োবার্তায় জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের তরফে মূলত তিনটি আশ্বাস পাওয়ার পরেই ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি— ১. ২০ জুলাই সংসদ অভিযানে শামিল হওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করবে না সরকার। ২. দেশে পরীক্ষাব্যবস্থার ত্রুটিগুলি নিয়ে সংসদে আলোচনা ও পদক্ষেপ হবে। ৩. নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর যে পড়ুয়ারা আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের পরিবারকে ‘পর্যাপ্ত’ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি ‘ইতিবাচক ভাবে বিবেচনা’ করে দেখবে কেন্দ্র।

২৭ জুলাই রাজঘাটে মহাত্মা গাঁধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার আগে দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ প্রসঙ্গে ওয়াংচুক যে মন্তব্য করেছিলেন, তাতে সিজেপি-র থেকে তাঁর দূরত্ব স্পষ্ট। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘‘শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।’’ কিন্তু সেই সঙ্গেই ওয়াংচুকের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘‘যাঁরা শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়। কিন্তু যদি দুষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু দুষ্কৃতকারী কাজ করে, তা হলে আমরা বলতে পারি না যে একেবারেই কিছু ঘটবে না। তবে আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার এবং সেটিকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। বাকি বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।” শীর্ষ আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছিল, নিট আন্দোলনে দেশ জুড়ে যে সব নাবালক বিক্ষোভকারীকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও দমনমূলক নীতি প্রয়োগ করা যাবে না। শুধু তা-ই নয়, অপরাধের ইতিহাস নেই এমন বিক্ষোভকারীদের আটক বা গ্রেফতার করে রাখা যাবে না। মুক্তি দিতে হবে তাঁদের সকলকেই। পাশাপাশি এই আন্দোলনে অশান্তির ঘটনায় নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্তের পক্ষেও সওয়ালও করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বার্তা দিয়েছে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনেরও। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেই তদন্ত হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ। কারা দায়ী, তা নির্দিষ্ট না হলে তদন্তের কোনও অর্থ হয় না। তাই যাঁরাই সীমা লঙ্ঘন করে থাকুন না কেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর সেখানেই তৈরি হয়েছে আশঙ্কা। সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস বুধবার বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট এখন বলছে, যাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে, তা প্রত্যাহার করা হবে না। সরকারের সঙ্গে আমাদের যে আলোচনা হয়েছিল, তার সঙ্গে এর কোনও মিল নেই। সুপ্রিম কোর্ট যে শর্ত দিয়েছে, তা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’’ তাঁরা এ-ও জানিয়েছেন, তাঁদের দাবির পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ কার্যকর করা হোক। তবে তাঁদের দাবি সর্বপ্রথম পূরণ করতে হবে। উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে সৌরভেরা জানিয়েছিলেন, সরকারকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতিমতো লিখিত চুক্তি করতে হবে। পাশাপাশি এ-ও জানান, সরকার যদি প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে আবার পথে নামবেন তাঁরা। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘‘এখন আমাদের যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা যে ভারত সরকার এবং বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের নির্দেশকে ব্যবহার করে এবং অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ করে এ বার প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে এফআইআর বহাল রাখতে এবং তাঁদের চরম হয়রানির শিকার করতে পারে। প্রথম দিন থেকেই এটাই ছিল আমাদের উদ্বেগ। শান্তিপূর্ণ ভিন্নমতকে নিশানা করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আদালতকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ব্যবহার করা হতে পারে।’’ সুপ্রিম কোর্টে শুনানির বিষয়ে কেন্দ্রের তরফে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করে সৌরভ লিখেছেন, ‘‘সমান ভাবে উদ্বেগজনক বিষয় হল, সরকারের আইনজীবীরা এই অন্তর্বর্তী আদেশের বিরোধিতা করেননি।’’ সেই সঙ্গে সৌরভের ঘোষণা, ‘‘অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে শীর্ষ আদালতের দেওয়া আদেশ সম্পূর্ণ ভাবে অগ্রহণযোগ্য।’’ তবে সেই সঙ্গেই তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে কোথাও বলা হয়নি, যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যেতে হবে। তাই মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি পুরোপুরি কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট বিজেপি বা এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলির সরকারের সদিচ্ছার উপর নির্ভরশীল। এ প্রসঙ্গে, বিহার এবং অসমের মতো রাজ্যে অভিযোগ প্রত্যাহারের উদাহরণও দিয়েছেন সৌরভ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের উল্লেখ করে মঙ্গলবার নিম্ন আদালত ধর্মতলায় হিংসাকাণ্ডে ধৃত ১৬ জনকে জামিন দিয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। গত ২৪ জুলাইয়ের ওই অশান্তির পরেই দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিধানসভায় জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিম্ন আদালত জামিন দেওয়ার পরে মঙ্গলবার বিকেলে নবান্নের তরফে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিট-কাণ্ডে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনও ‘দমনমূলক’ পদক্ষেপ করা হবে না। তবে যাঁরা অতীতে অপরাধে জড়িয়েছেন, তাঁরা ছাড় পাবেন না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই তা করা হবে। সিজেপি-র নেতাদের আশঙ্কাও ঠিক সেখানেই। তাঁদের দাবি, ২৫ জুলাইয়ের প্রতিশ্রুতি মতো ধরপাকড় বন্ধ এবং সমস্ত আন্দোলনকারীর নিঃশর্ত মুক্তি। সকলের বিরুদ্ধে মামলা যে প্রত্যাহার হচ্ছে না, ‘ককরোচ’ বাহিনীর সঙ্গে আলোচনায় মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নড্ডার মন্তব্যে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। বুধবার রাজ্যসভায় নিজের ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, “এগুলি সাধারণ বিষয়। আন্দোলন করতে গেলে যে এমনটা হতে পারে সেটা আমাদের বুঝতে হবে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পদক্ষেপ করে। জরুরি অবস্থার সময়ে আমাকেও বহু বার ক্লাসরুম থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।” বাম ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষকে ধরার চেষ্টায় মঙ্গলবার দিল্লিতে সিপিএমের সদর দফতরে পৌঁছে গিয়েছিল পুলিশ। সিপিএমের দাবি, যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কারণেই পুরনো মামলায় এসএফআইয়ের যুগ্ম সম্পাদক ঐশীকে গ্রেফতারের চেষ্টা হচ্ছে। বুধবার সংসদেও সেই অভিযোগ তোলে সিপিএম। দলীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের বিষয়টি রাজ্যসভায় তুলে ধরেন সিপিএম সাংসদ জন ব্রিট্টাস। তাঁকে সমর্থন জানান রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গেও। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি বলেন, “একটি সর্বভারতীয় দলের অফিসে ঢুকে এমনটা করা লজ্জাজনক।” তারই প্রেক্ষিতে ওই মন্তব্য করেন বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি নড্ডা। সুপ্রিম কোর্টের মঙ্গলবারের নির্দেশের পর বুধবার আবার এক বার কেন্দ্রকে ‘প্রতিশ্রুতি’র কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ‘ককরোচ’ দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, ‘‘পড়ুয়ারা যদি ক্রমাগত পুলিশের অত্যাচার বা নিপীড়নের শিকার হতে থাকেন, তা হলে আমরা আবার রাস্তায় নামব। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে কেন্দ্রকে জবাব দেবে সিজেপি। সরকারকে অবশ্যই পড়ুয়াদের লক্ষ্যবস্তু করা বা তাঁদের অযথা হয়রান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।’’ সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতার মতে, সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে এফআইআর করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে বলেনি। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা প্রত্যাহার করার ক্ষমতা এখনও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হাতে রয়েছে। সেই সঙ্গে সিজেপি প্রধানের হুঁশিয়ারি, কেন্দ্র যদি কথা না-রাখে তবে পুনরায় দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করা ছাড়া আর কোনও ‘উপায় নেই’। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘ভারতের যুবসমাজ সরল বিশ্বাসে কেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতায় এসেছিল। সেই সরল বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা যাবে না। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে ভারতের রাজপথ আবার তরুণদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে।’’ ‘রাজপথে’ নতুন করে নামার বার্তা বুধবার স্পষ্ট হয়েছে রাকেশ-সহ ভারতীয় কিসান ইউনিয়ন (বিকেইউ)-এর নেতাদের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের বৈঠকে। সাক্ষাতের পর সিজেপি-র অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘‘আশা করছি, আমাদের কৃষক ভাইরা, ছাত্রছাত্রীরা এবং এই দেশের তরুণ প্রজন্ম মোদী সরকারকে সব দিক থেকে ঘিরে ধরতে একসঙ্গে কাজ করবেন।’’ সূত্রের খবর, বৈঠকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কী ভাবে তরুণ প্রজন্ম, কৃষক-সহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিনিধিদের এক মঞ্চে আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত যাবে, তার কৌশল স্থির করার চেষ্টা করেছে সিজেপি এবং বিকেইউ। প্রসঙ্গত, ২০২০-২১ সালে ভারতের কেন্দ্র সরকারের তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকদের এক ঐতিহাসিক আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন পশ্চিম-উত্তরপ্রদেশের জাঠ নেতা টিকায়েত। সিজেপি-র আন্দোলনের মতোই সেই আন্দোলনেও পিছু হটে আইন প্রত্যাহার করতে হয়েছিল মোদী সরকারকে। সাম্প্রতিক প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে একাধিক বার যন্তর মন্তরের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভেও গিয়েছিলেন রাকেশ। রাজনীতির ময়দানে টানাপড়েনের এই আবহেই টানা দু’দিনের বিতর্কের পরে বুধবার বিকেলে ধ্বনিভোটে প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধী সংশোধনী বিল (পাবলিক এগ্‌জ়ামিনেশন—প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস—অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬) ধ্বনিভোটে পাস হয়েছে লোকসভায়। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বিতর্কে অংশ নিলেও ভোটাভুটির আগে ওয়াকআউট করেন কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির সাংসদেরা। বিতর্কপর্বে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপর পেলেট চলেছে। তাঁর এই অভিযোগের জেরে লোকসভায় অশান্তিও হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles