Saturday, July 25, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘ককরোচ’-এর জয়! অবশেষে নতিস্বীকার! প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইস্তফাপত্র পাঠালেন ধর্মেন্দ্র প্রধানের!‌

RK NEWZ ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি। বলা হয়েছিল, মন্ত্রীর ইস্তফা ছাড়া কোনও শর্তেই তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করবে না। এ বিষয়ে কোনও বোঝাপড়া চলবে না। দুর্নীতির দায় মন্ত্রীকে নিতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সিজেপি-র প্রতিনিধিদের দু’দফা বৈঠক হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা দাবিতে অনড় ছিলেন। শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফার আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র। অবশেষে নিট কেলেঙ্কারি ও নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে নতিস্বীকার করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দীর্ঘ জল্পনা ও বিরোধীদের ধারাবাহিক দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিলেন। পদত্যাগের পর ‘তরুণ বন্ধুদের’ জন্য দু’পাতার একটি খোলা চিঠি লিখে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেছেন— এটি তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিপত্তির বিষয় নয়। আন্দোলনকে হাতিয়ার করে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি যাতে সুযোগ নিতে না পারে এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে আইনি জটিলতায় আটকে না যায়, সেই কারণেই তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। “রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি যেন সুযোগ না পায়”, প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র চিঠির ছত্রে ছত্রে ধরা পড়েছে গত কয়েক দিনের ঘটনাক্রম নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বেদনা ও ক্ষোভ। যন্তর মন্তরের টানা বিক্ষোভ ও সার্বিক পরিস্থিতিকে ইঙ্গিত করে তিনি লেখেন, “গত ১০ দিনের ঘটনাক্রম দেখে আমার মন অত্যন্ত ব্যথিত। এটি আমার ব্যক্তিগত প্রতিপত্তির বিষয় নয়। ভারতমাতার যুবশক্তিই এই দেশের আসল শক্তি। যন্তর মন্তরে এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সুযোগ যেন কোনও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন অটুট থাকে এবং আমাদের সন্তানরা যাতে আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে পড়ালেখা ও ভবিষ্যতের দিকে মন দিতে পারে— এই সব দিক বিবেচনা করেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।” ধর্মেন্দ্র আরও জানিয়েছেন, তরুণ সমাজকে কোনও বিভ্রান্তির চক্রব্যূহে ফাঁসে যেতে দেবেন না, এটাই তাঁর মূল সংকল্প। কারণ যুবসমাজ কেবল ভারতের ভবিষ্যৎ নয়, বরং নতুন ও উন্নত ভারতের মূল কারিগর। খোলা চিঠিতে ৩ মে-র নিট-ইউজি পরীক্ষার অনিয়ম থেকে শুরু করে সরকারের নেওয়া একের পর এক কড়া ব্যবস্থার খতিয়ান তুলে ধরেছেন সদ্যপ্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, সিবিআই তদন্ত ও পুনর্মূল্যায়ন: অনিয়ম প্রকাশ্যে আসামাত্রই কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত তা খতিয়ে দেখে তদন্তের দায়িত্ব সিবিআই-এর হাতে দেওয়া হয়। বাতিল করা পরীক্ষার পর গত ২১ জুন আবার সফল ভাবে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। আগামী বছর থেকে সিবিটি মোড: পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে আগামী বছর থেকে নিট পরীক্ষা পুরোপুরি সিবিটি বা কম্পিউটার ভিত্তিক মাধ্যমে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১৬ জুলাই নিট-এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যা অত্যন্ত সন্তোষজনক এবং এতে দরিদ্র পরিবারের বহু মেধাবী পরীক্ষার্থী সফলতা অর্জন করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রথম দিন থেকেই তিনি এই পরিস্থিতির সমস্ত নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন এবং পরীক্ষা মাফিয়ার কারণে যাতে কোনও মেধাবী ছাত্রের সম্ভাবনা নষ্ট না হয়, তা সুনিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন। তবে এই প্রতিকূল সময়ে দায়িত্বশীল পদে বসে থাকা কিছু ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার ও বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বিগত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ছাত্র, শিক্ষক ও শিক্ষা সংস্কারের কাজে যুক্ত থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ধর্মেন্দ্র লেখেন, “একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দূরদর্শী শিক্ষাব্যবস্থাই শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তিশিলা।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বের অধীনে রাষ্ট্রসেবা করার সুযোগ পাওয়ার জন্য চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার সহকর্মী, শিক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিক ও কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান। শেষে জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে ভবিষ্যতেও ভারতমাতা, ওড়িশার জনগণ এবং দেশজুড়ে যুবসমাজের স্বপ্ন পূরণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার বার্তা দিয়ে ইস্তফার কথা জানান ধর্মেন্দ্র প্রধান। শিক্ষায় দুর্নীতি, নিটের প্রশ্নফাঁস এবং ধর্মেন্দ্রের ইস্তফা চেয়ে সিজেপি-র বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরের সামনে অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। টানা ২৬ দিন তিনি অনশন করেন। তাঁরও অন্যতম দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা। তবে বৃহস্পতিবার রাতে গুরুগ্রামের হাসপাতালে নড্ডা এবং জিতেন্দ্রের সঙ্গে সাক্ষাতের পর অনশন ভাঙেন তিনি। কেন ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার দাবি পূরণ হওয়ার আগেই অনশন ভেঙে ফেললেন সোনম, তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন। যদিও সিজেপি তাঁর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিল। অনশনপর্বে ১১ কেজি ওজন কমেছে তাঁর। অনশনভঙ্গের দু’দিনের মাথায় মন্ত্রী ইস্তফা দিলেন।

পুলিশি সূত্রের খবর, ২১ জুলাই থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে এই এফআরএস-এর ফেস ট্র্যাকিং প্রযুক্তির সাহায্যেই ধরা পড়ে যে, বিক্ষোভকারীদের ভিড়ের মাঝে অন্তত ২৫০০ জন এমন ব্যক্তি লুকিয়ে রয়েছে যাদের দীর্ঘ অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে। সর্বভারতীয় পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চরম অনিয়মের অভিযোগে দিল্লি জুড়ে যে উত্তাল বিক্ষোভ চলছে, তার পিছনে এবার এক বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের ভিড়ে মিশে নাকি হামলা চালাচ্ছে দাগি অপরাধীর দল! তাদের হাতে রয়েছে ধারালো অস্ত্র ও ছুরি। প্রযুক্তিকে অস্ত্র করে গত তিন দিনে কেবল যন্তর মন্তর এলাকা থেকেই অন্তত আড়াই হাজারেরও বেশি অপরাধীকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। পুলিশি সূত্রের খবর, গত ২০ জুলাই বিরোধী দলগুলির সমর্থনে ডাকা আন্দোলনে ব্যাপক হিংসা ছড়ায়। এরপরই আন্দোলনস্থলে নজরদারি বহু গুণ বাড়াতে বসানো হয় অত্যাধুনিক ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম’। ২১ জুলাই থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে এই এফআরএস-এর ফেস ট্র্যাকিং প্রযুক্তির সাহায্যেই ধরা পড়ে যে, বিক্ষোভকারীদের ভিড়ের মাঝে অন্তত ২৫০০ জন এমন ব্যক্তি লুকিয়ে রয়েছে যাদের দীর্ঘ অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে। দিল্লি পুলিশের গুরুতর অভিযোগ, সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং শিক্ষার্থীদের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে একদল দুষ্কৃতী টানা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের নিশানা করছে। সুযোগ পেলেই পুলিশকর্মীদের ওপর ছুরি এবং অন্যান্য ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হচ্ছে। দুষ্কৃতীদের ওপর নজরদারি বাড়াতে যন্তর মন্তরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও বেরোনোর মুখে ৪টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এফআরএস ইউনিট বসানো হয়েছে। এই ইউনিটগুলি সরাসরি যুক্ত রয়েছে দিল্লি পুলিশের মূল ক্রাইম ডেটাবেসের সঙ্গে। রিয়েল-টাইমে পুলিশ অফিসাররা মনিটরে এই দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে পুলিশের খাতায় নাম থাকা কোনও ওয়ান্টেড আসামি সমাবেশস্থলে ঢুকলেই সাথে সাথে তাঁদের শনাক্ত করে ফেলা সম্ভব হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সময় ঘটা হিংসার ঘটনার তদন্তে নেমে এই তথ্য হাতে এসেছে তদন্তকারীদের। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, গত ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ অভিযানের সময় যখন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের তুমুল সংঘর্ষ হয়, ঠিক তারপরই এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০ জুলাইয়ের ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৫টি এফআইআর রুজু করা হয়েছে। পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ জোরকদমে চলছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ও সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভূরি ভূরি অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং আমূল সংস্কারের দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। এই আন্দোলনের পারদ চড়ে গত ২০ জুলাই। সেদিন ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থিত আন্দোলনকারীরা সংসদের দিকে এগোতে থাকলে ‘সংসদ চলো’ মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। তখনই দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটানোর পাশাপাশি লাঠিচার্জ করে পুলিশ। সেই হিংসার ঘটনায় বেশ কিছু বিক্ষোভকারী এবং বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন। এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে টানা ২৬ দিন আমরণ অনশনে বসেছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবার ভোরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি অনশন প্রত্যাহার করে নেন। তবে জল ঘোলা হওয়া থামেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দ্রুত বিচারের লক্ষ্যে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। কিন্তু তা সত্ত্বেও যন্তর মন্তরের জল যেদিকে গড়াচ্ছে, তাতে চরম উদ্বেগে দিল্লি পুলিশ প্রশাসন।

নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার ধর্মতলার আন্দোলন ও রণক্ষেত্র পরিস্থিতির আঁচ এসে পড়ল বিধানসভায়। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িত কুখ্যাতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে ‘গুন্ডা দমন আইন’। শুক্রবারের মিছিলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। তিনি জানান, মিছিলে সাংবাদিকদের টার্গেট করে বোতল ও জুতো ছোড়া হয়। পাশাপাশি পুলিশের সংযমের প্রশংসা করেন তিনি। তিনি জানিয়েছে, পুলিশের ওপর প্ররোচনা সত্ত্বেও বলপ্রয়োগ এড়িয়েছে কলকাতা পুলিশ। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ৬টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং যুক্ত করা হয়েছে ‘গুন্ডা দমন আইন’। এছাড়াও অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের নাম জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আফরোজ, নাহিদ, তনভীর, রাহুল ও জামালদের বিরুদ্ধে তিন পুরুষ মনে রাখার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্মতলার ঘটনা প্রসঙ্গে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে গত কাল এসএসকেএম হাসপাতালে আহত সাংবাদিকদের দেখতে গিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, গণতান্ত্রিক দেশে সবারই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু কলেজের চৌহদ্দিতে যাদের কোনও অস্তিত্ব নেই, সেই এসএফআই, আইসা-র মতো বাম ও অতি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি সেদিন ‘ককরোচ’ ব্যানারে মিছিলের ডাক দিয়েছিল। পুলিশের হিসেবে সেই জমায়েত ছিল প্রায় নয় হাজার মানুষের। মুখ্যসচিব ও পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশকে শুরুতেই নজরদারি চালাতে বলা হয়েছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত বলপ্রয়োগ করতে কঠোরভাবে বারণ করা হয়েছিল। খিদিরপুর, রাজাবাজার, বেলগাছিয়া, আক্রা ও রাজারহাট থেকে লোক এনে ডোরিনা ক্রসিংয়ে বোতল ও জুতো ছোঁড়া হয়। পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের টার্গেট করা হয়। তবে পুলিশ সেই পাতা ফাঁদে পা দেয়নি। সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় ইতিমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “৬ জন সাংবাদিক বন্ধু সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ইতিমধ্যেই সাংবাদিক বন্ধুদের থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ছয়টি মামলা হয়েছে। বিধানসভায় পাশ হওয়া গুন্ডা দমন আইন এই মামলাগুলিতে যুক্ত করা হয়েছে।”

পুলিশের তদন্তে ইতিমধ্যে ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা আদতে কোনও ছাত্র বা নিট আন্দোলনের অংশ নয়। এই প্রসঙ্গে আফরোজ, নাহিদ, তনভীর, রাহুল ও জামালের নাম উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কুখ্যাত লোক, যাদের চিহ্নিত করা গিয়েছে, তাদের ছাড়ব না। এমন ব্যবস্থা নেব, যা এদের তিন পুরুষ মনে রাখবে। এই জন্যেই আইন এনেছিলাম।” সাংবাদিকদের ওপর এই হামলার প্রতিবাদে শাসকদলের মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ীর নেতৃত্বে আজ বুকে কালো ব্যাজ লাগিয়ে আম্বেদকর মূর্তির নীচে বিজেপি বিধায়করা কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর বিধানসভায় সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান কিছু বলার চেষ্টা করলে তাঁকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “আপনারা আগেই বলেছিলেন জলের বোতল আনতে। ডিম ছোঁড়া যদি সংস্কৃতি না হতে পারে, তবে সাংবাদিকদের ওপর বোতল ও জুতো ছোঁড়া কীভাবে সংস্কৃতি হতে পারে?”

শুক্রবার ধর্মতলায় সাংবাদিকদের উপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেছে কলকাতার প্রেস ক্লাব। ক্লাবের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লিতেও রক্তাক্ত হয়েছে সংবাদমাধ্যম। রীতিমতো টার্গেট করে হামলা চলছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই আক্রমণের বিরুদ্ধে ২৫ জুলাই বিকেল ৩টেয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। ক্লাবের সদস্য ও সাংবাদিক, চিত্র সাংবাদিক সকলকে ওই কর্মসূচিতে সামিল হতে আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, সাংবাদিকদের আক্রমণে প্ররোচনা দেবার জন্য যে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে চিহ্নিত করা হয়েছে, প্রেস ক্লাব, কলকাতায় তার প্রবেশ ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের একটি অংশ সোমবার এই ঘটনার প্রতিবাদের কথা জানিয়েছেন। উদ্যোক্তাদের তরফে জানা গিয়েছে রাজ্যপাল সোমবার বিকেলে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles