Saturday, July 25, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘‌শুক্রবারিরা তো করবেই, চিহ্নিত করেছি!’‌ ধর্মতলায় ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী

এসএসকেএম হাসপাতালে আহত সাংবাদিকদের দেখতে পৌঁছেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আন্দোলনকারীদের মধ্যে একটি বিশেষ শ্রেণিকে নিশানা করে কড়া তোপ দাগেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “শুক্রবার দিন… শুক্রবার দিন বিশেষ দিন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন না? শুক্রবার সব ছাড় আছে! ওই শুক্রবারের লোকেরাই করেছে, চিহ্নিত করেছি।” নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের আঁচ এবার এসে পড়েছে তিলোত্তমার রাজপথে। শুক্রবার ধর্মতলায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলির আন্দোলন ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ধর্মতলা চত্বর। ধস্তাধস্তি, কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জের মাঝে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চরম আক্রমণের মুখে পড়েন বহু সাংবাদিক। এই সংঘর্ষে জখম সাংবাদিকদের দেখতে গিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর স্পষ্ট অভিযোগ, এই তাণ্ডবের পেছনে ছাত্র আন্দোলনের কোনও সম্পর্কই নেই। তিনি আরও বলেন, “চিহ্নিত করেছি, মার্ক করেছি। এদের সঙ্গে নিটের (NEET) কোনও সম্পর্ক নেই। আগের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যিনি এখানে হেরেছেন, তিনি বারবার বলেন না শুক্রবার? শুক্রবার তো ওরা একটু করবেই। তাই আজকে সাংবাদিকরা আক্রান্ত হয়েছেন…। আমি আপনাকে বলি, ওসব ছাড়ুন। শুক্রবারেরাই… যারা করেছে চিহ্নিত হয়ে গেছে।” একই সঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি যোগ করেন, “কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন, এদের কী করতে হয় আমি জানি!” কেন্দ্রীয় পরীক্ষার দুর্নীতি ও শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে ধর্মতলায় ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে অবস্থানে বসেছিল সিজেপি ও আন্দোলনকারীরা। কিন্তু অবস্থান চলাকালীন পরিস্থিতি দ্রুত বদলায়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের লক্ষ্য করে বোতল ও জুতো ছুড়তে শুরু করে। বেশ কয়েকজন পুলিশের গায়ে জল ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কড়া পদক্ষেপ করে পুলিশ। লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। অন্য দিকে, ‘রাত জাগো, দেশ জাগো’ কর্মসূচির ডাক দিলেও রাতের দিকে সেই অবস্থান তুলে নেয় এসএফআই। তবে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের এই তুমুল খণ্ডযুদ্ধের মাঝে পড়ে একাধিক সাংবাদিক গুরুতর আহত হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষোভ ও উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো-বোতল ‘আরশোলা’দের, পাল্টা লাঠিচার্জ-কাঁদানে গ্যাস! রণক্ষেত্র ধর্মতলা। ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে মিছিল শেষে আচমকা চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অবস্থান বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ উপস্থিত পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে পরপর জুতো ও জলের বোতল ছুঁড়তে শুরু করে। এমনকী একাধিক পুলিশকর্মীর গায়ে জল ছিটিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ সামনে এসেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশ একপর্যায়ে লাঠিচার্জ করে। এছাড়া কাঁদানে গ্যাসও ছোড়া হয়। পুলিশের আচমকা এই কড়া পদক্ষেপে পুরো এলাকাজুড়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে পুলিশ। বর্তমানে ধর্মতলা এলাকা কার্যত উত্তপ্ত। নিট পরীক্ষায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ফেরানো এবং শিক্ষা কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এক বিশাল মিছিলের ডাক দিয়েছিল বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। তবে দিল্লির আন্দোলনের সরাসরি আঁচ যে কলকাতায় এইভাবে এসে পড়বে, তা হয়তো পুলিশ-প্রশাসনও আঁচ করতে পারেনি। অন্যান্য ছাত্র সংগঠন ও আন্দোলনের সমর্থকরা পুলিশের কাছে আলাদা মিছিলের অনুমতি চেয়েও পাননি। কিন্তু অনুমতি না মিললে কী হবে? শেষ পর্যন্ত বামেদের ডাকা এই বিশাল মিছিলেই এসে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় কলকাতার ‘ককরোচ’রা। কিন্তু মিছিল শুরু কয়েক মূহূর্ত পর থেকেই দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় ধর্মতলায়। শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল যত এগোতে থাকে, ততই তাতে যোগ দিতে থাকেন সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের কারও মুখে ব্যাটম্যানের মুখোশ, কারও হাতে সরকারকে চরম কটাক্ষ করে পোস্টার, কারও মুখে স্লোগান। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, দিল্লির যন্তর মন্তরে যা চলছে, তা শুধু রাজধানী শহরের বিষয় নয় – গোটা দেশের লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের লড়াই। সেই কারণেই কলকাতার রাজপথে নেমে সোচ্চার হয়েছেন। এই মিছিলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায় শহরে। যদিও ইতিমধ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দেশবিরোধী শক্তিকে উৎখাত করা হবেই। কোনও রকম রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ এই রাজ্যে মেনে নেওয়া হবে না।

একই সঙ্গে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী। যন্তর মন্তর এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সিবিআইয়ের ভূমিকাও তাঁর সমালোচনার মুখে পড়ে। শিক্ষামন্ত্রীকে রক্ষা করতেই কেন্দ্র এতটা সক্রিয় কি না, সেই প্রশ্ন শোনা যায়। কলকাতাতেও নিট ইস্যুতে বড় ছাত্র মিছিল হয়। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা মিছিলে যোগ দেন ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকরাও। নিট পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরব হন আন্দোলনকারীরা। ব্যাটম্যানের মুখোশ, ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার এবং নানা স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে শহরের রাজপথ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যন্তর মন্তরে উপস্থিতি হলে নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিরোধী রাজনীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের। তবে তাঁর সফরসূচি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles