Saturday, July 18, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

নিউ ইয়র্কে সূর্যরশ্মি আর্জেন্টিনা!‌ ‘ওকে কিডন্যাপ করো’, স্পেনের হয়ে মেসিকে খেলাতে তৈরি ছক!

RK NEWZ আটলান্টায় অনুশীলনে শুরুর দিকে মেসিকে দেখা যায়নি। ফাইনালের আগে সুস্থ-সতেজ মেসিকে পাওয়ার জন্য বল নিয়ে অনুশীলনের বদলে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে না কি জিমে বেশি ব্যস্ত রেখেছিলেন স্কালোনি। কারণ ফাইনালে স্পেন ম্যাচের আগে দ্রুত রিকভারি করতে হবে মেসিকে। মেসি না কি ফুটবলারদের সতর্ক করে দিয়েছেন, ফাইনালের আগে স্পেন ছাড়া অন্য কোনও নেতিবাচক বিষয়ে এই মুহূর্তে মাথা না ঘামাতে। ফাইনালের ফোকাস নষ্ট হতে পারে তাতে। তবে ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে মেসির খেলতে নামা, একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়া বলে মনে করছেন অনেকে। এই স্পেন থেকেই তাঁর ফুটবল কেরিয়ার শুরু। আর সেই স্পেনের বিরুদ্ধেই দেশের হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার মোটামুটি শেষের পথে। স্প্যানিশ ফুটবলের জল হাওয়ায় বড় হয়ে মহীরুহ হওয়া মেসির অস্তাচলের ম্যাচেই আবার উনিশ বছরের এক তরুণ, স্প্যানিশ ফুটবলের লামিনে ইয়ামালের বিশ্বকাপে সাফল্যর সূর্যোদয়ের হাতছানি নাকি ঊনচল্লিশ বছরের মেসির বিশ্বজয়ের পুনরাবৃত্তি। মধ্যরাতে আর্জেন্টিনা দলকে নিউ জার্সিতে পৌঁছতে হয়েছে, ফাইনালের প্রস্তুতি হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে আটলান্টাতে দলকে অনুশীলন করিয়ে নিয়েছিলেন কোচ স্কালোনি। অনুশীলনের বাইরে আর্জেন্টিনা শিবিরে এখন একটাই শঙ্কা– ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড এবং ফিফার আইনি জটিলতায়, ফকল্যান্ড নিয়ে সেমিফাইনাল ম্যাচে মাঠে বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শনের জন্য কোনও নির্বাসন বা জরিমানার শাস্তি নেমে আসবে না তো? কারণ, এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া না কি শুরু হয়ে গিয়েছে। বাতাসের দূষণের জন‌্য চিন্তার মাঝেই আরও একটা অস্বস্তি থাকছে আর্জেন্টিনা শিবিরে। অস্বস্তি ফাইনালের রেফারি নিয়ে। ফাইনালে দায়িত্বে স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। এই রেফারিকে নিশ্চয়ই ভুলতে পারেননি আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে শুরুতে সৌদি আরবের কাছে হেরে গিয়ে যে টেনশনের আবহ তৈরি হয়ে গিয়েছিল, সেই ম্যাচের দায়িত্বে ছিলেন এই স্লোভানিয়ার রেফারি। ফলে আর্জেন্টিনার সৌভাগ্যের সঙ্গে এই রেফারি ভীষণভাবে জড়িত এরকমটা দাবি করা যায় না। ফাইনালের রেফারি সম্পর্কে তার থেকেও একটা মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। ছয় বছর আগে মাদক, অস্ত্র এবং পতিতাবৃত্তির চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার জন্য ভিনচিচকে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিলজিনা শহর থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ! মনে হতেই পারে, এরকম একজনকে ফাইনালে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব কীভাবে দিল ফিফা? কিন্তু পরে স্লোভেনিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এবং পুলিশ তদন্ত করে দেখে অপরাধ চক্রের যিনি প্রধান ছিলেন, তাঁর একটা আমন্ত্রণে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নন। ফলে বিনা শর্তে মুক্তি দেওয়া হয় ভিনচিচকে। ফাইনালের বাকি দুই সহকারী রেফারিও স্লোভেনিয়ার। চতুর্থ রেফারি জর্ডনের।

বিশ্বকাপ ফাইনাল। আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন। ১৯ জুলাই, ২০২৬। নীল-সাদা জার্সিতে তৈরি লিওনেল স্কালোনির ছাত্ররা। অন্যদিকে লাল জার্সিতে তৈরি ইয়ামাল-পেদ্রিরা। সঙ্গে বিশ্বকাপের সর্বকালের ‘সেরা’ ফুটবলার। একাধিকবার বিশ্বজয়ী। ৩৯ বছর বয়সি ফুটবলার শেষবার বিশ্বকাপ জিততে মাঠে নামছেন নিজের মাতৃভূমির বিরুদ্ধে। সেই স্প্যানিশ ফুটবলারের নাম- লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। হ্যাঁ, স্পেনের জার্সি পরে পুরো আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলেছেন। জিতেছেন অসংখ্য ট্রফি। এবার শেষবার মাঠে নামছেন। কী, অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে? নীল-সাদা জার্সি ছাড়া মেসিকে ভাবাই যায় না। কিন্তু তার বহু আগেই স্পেনের হয়ে খেলার সুযোগ ছিল মেসির কাছে। সেটার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। কেন ও কীভাবে সেই অঙ্কটা বদলে গেল? এর নেপথ্যে ছিল একটি ভিডিও টেপ ও ‘অপহরণের’ ছক। ১৩ বছর বয়সে আর্জেন্টিনা ছেড়ে বার্সেলোনায় চলে আসেন মেসি। ভর্তি হন লা মাসিয়া অ্যাকাডেমিতে। দীর্ঘদিন সেখানে থাকার সুবাদে স্পেনের হয়ে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করেন মেসি। অন্যদিকে রয়েছে মাতৃভূমি আর্জেন্টিনা। ২০০২ সালের কথা। ততদিনে লা মাসিয়া মাতিয়ে দিয়েছেন ১৫ বছরের কিশোর। বার্সেলোনার মূল দলে সুযোগ পাওয়া সময়ের অপেক্ষা। স্কাউটদের কাছে খবর চলে গিয়েছে। কিন্তু না স্পেন, না আর্জেন্টিনা, কেউই যুব দলের জন্য মেসির খোঁজ পর্যন্ত করেনি। অথচ, লা মাসিয়ায় তাঁর সতীর্থ জেরার্ড পিকে, সেস ফ্যাব্রেগাসরা স্পেনে সুযোগ পেয়ে যান। তখন এগিয়ে আসেন লা মাসিয়ার কোচ অ্যালেক্স গার্সিয়া। স্পেনের যুব দলের তৎকালীন ডিরেক্টর গিনেস মেলেন্দেজকে তিনি বলেন, “আমাদের এখানে একটি ছেলে আছে। আর্জেন্টিনার হলেও সেখান থেকে এখনও ডাক আসেনি। মনে হয়, একটু চেষ্টা করলে সে স্পেনের হয়ে খেলতে পারবে। কিন্তু আর্জেন্টিনার ফেডারেশনকে চটানো যাবে না। আপনার উচিত ওর সঙ্গে কথা বলা।” এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে কী করা উচিত? মেলেন্দেজের পরামর্শ ছিল, “আমি জানি না। ওকে অপহরণ করা যাক। যাতে আর্জেন্টিনা ওকে খুঁজে না পায়। আর ও স্পেনের হয়ে খেলতে পারে।” এদিকে আর্জেন্টিনা থেকে ডাক আসছে না। কিছুটা বাধ্য হয়েই মেসির বাবা জর্জে যোগাযোগ করেন তাঁদের এজেন্ট হোরাসিও গাজ্জিওলির সঙ্গে। কিছুই কী করা যায় না, যাতে মেসি আর্জেন্টিনার নির্বাচকদের চোখে পড়ে। সেই সময় গাজ্জিওলি একটি ভিডিও ক্যাসেট তৈরি করেন। যেখানে লা মাসিয়ায় মেসির খেলার বিভিন্ন ফুটেজ ছিল। সেই সময় আর্জেন্টিনার কোচ ছিলেন মার্সেলো বিয়েলসা। তিনি দল নিয়ে কিছুদিনের জন্য বার্সেলোনায় গিয়েছিলেন। তখন গাজ্জিওলি গিয়ে বিয়েলসার হাতে সেই ক্যাসেটটি তুলে দেন। বিয়েলসা জিজ্ঞেস করেন, “ছেলেটা কী ভালো খেলে?” জবাবে গাজ্জিওলি বলেন। “অবিশ্বাস্য খেলে।” এরপর ভিডিও চালাতেই বিয়েলসা বলেন, “আরে স্বাভাবিক গতিতে খেলা চালাও।” গাজ্জিওলি জবাব দেন, “এটা ওই ছেলেটার স্বাভাবিক গতি।” বিয়েলসা বাকরুদ্ধ। তবে তখন আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের দল বেছে নেওয়া হয়েছিল। তাই বাদ পড়ল মেসি। ঘটনাচক্রে সেই টুর্নামেন্ট আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছেই হেরেছিল। টুর্নামেন্ট শেষ হতেই ওই দলের কোচ তোকাল্লি ঠিক করেন, যেভাবেই হোক মেসিকে খেলাতেই হবে। বাধ্য হয়ে দ্রুত একটা বয়স ভিত্তিক প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়। তখন নিয়ম ছিল, বয়স ভিত্তিক ফুটবলে একবার খেলে ফেললে আর দেশবদল করা যায়। তড়িঘড়ি অনূর্ধ্ব-২০ দল তৈরি করে মেসির নাম ফিফায় পাঠানো হল। ইতিমধ্যে আর্জেন্টিনার কোচের পদে জোসে পেকারম্যান এসেছেন। তাঁর মনে হয়েছিল, মেসিই পারবেন দিয়েগো মারাদোনার পথ অনুসরণ করতে। ২০০৪ সালের ২৯ জুন। অনূর্ধ্ব-২০ ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৮-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। হাফটাইমে বদলি হিসেবে নামেন মেসি। একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেন। নীল-সাদা জার্সির সঙ্গে চিরকাল গাঁটছড়া বেঁধে ফেললেন মেসি। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। ২০০৮ ও ২০১২-র ইউরো। অন্যদিকে ২০১৪-য় আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে হারে। মেসিকে অপেক্ষা করতে হল ২০২২ পর্যন্ত। এবার সেই স্পেনের বিরুদ্ধেই দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ লা পুলগার কাছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles