RK NEWZ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ ভিডিওগ্রাফি করা হবে। ন্যূনতম ২৫টি স্টিল ফোটোগ্রাফিও বাধ্যতামূলক। বারুইপুরে পুলিশের উপর হামলা, পথ অবরোধ, অগ্নিসংযোগ, পিটিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল আরও ২২ জন জনকে। বুধবারই এ ঘটনায় ১৮ জনকে পাকড়াও করা হয়। এ নিয়ে গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে হল ৪০। বারুইপুর কাণ্ডে এনকাউন্টারে মৃত অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের ময়নাতদন্তে তিন সদস্যের বিশেষ বোর্ড গঠন করল স্বাস্থ্যদপ্তর। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিয়ম মেনে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ওই বোর্ডে রয়েছেন তিনটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগে বিশিষ্ট চিকিৎসক। এছাড়া গুলির অবস্থান জানতে ডিজিটাল এক্স রে করা হয় প্রভাসের। তারপরই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে হবে ময়নাতদন্ত। প্রথমে প্রভাসের দেহ কাঁটাপুকুর মর্গে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। তারপর তার দেহ পাঠানো হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। রাত সওয়া ৮টা পর্যন্ত ওই হাসপাতালের ইডেন বিল্ডিংয়ের সামনে শববাহী গাড়িতেই ছিল। ময়নাতদন্ত শুরুর আগে প্রভাসের দেহের ডিজিটাল এক্স রে করা হয়। ঠিক কোথায় গুলি লেগেছে, তা জানতে ডিজিটাল এক্স রে করা হয়। ময়নাতদন্তের বিশেষ বোর্ডে রয়েছেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর শাশ্বত বিশ্বাস, এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সায়ক শোভন দত্ত এবং ন্যাশনাল মেডিক্য়াল কলেজের প্রফের অলোক মজুমদার। জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ ভিডিওগ্রাফি করা হবে। ন্যূনতম ২৫টি স্টিল ফোটোগ্রাফিও বাধ্যতামূলক।
গত রবিবার বারুইপুরে উদ্ধার হয় নাবালিকার দেহ। প্রথমে গ্রেপ্তার হয় প্রভাস মণ্ডল। মঙ্গলবার দিনভর তাকে জেরা করে পুলিশ। রাতে ঘড়ির কাঁটায় পৌনে ১ টা নাগাদ প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুরে অর্থাৎ অকুস্থলে যান সিটের সদস্যরা। নিয়ম অনুযায়ী ধৃতদের জেরায় বলা বক্তব্যের সঙ্গে পুর্ননির্মাণের তথ্য মিলিয়ে দেখতে হয়। সেই সময়ই শুরু হয় পুনর্নিমাণের কাজ। জানা যাচ্ছে, আচমকা সিটের সদস্য রনি সরকারের কোমরে থাকা পিস্তল কেড়ে নেয় প্রভাস। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক রাউন্ড গুলি চালায় সে। বিপদ বুঝে এরপরই আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান বারুইপুর থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বে থাকা অর্ঘ্য মণ্ডল। তাতেই খতম প্রভাস। বারুইপুর কাণ্ডে ‘অতৃপ্ত আত্মাদের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ বার গোলমাল-তাণ্ডবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশের উপর হামলা, রাস্তা অবরোধ, অগ্নিসংযোগ এবং পিটিয়ে খুনের অভিযোগে রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও ২২ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গোলমালের ঘটনায় বুধবারই ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের নিজেদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে বাকি অভিযুক্তদের খোঁজেও রাতভর চলে তল্লাশি। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তাতে আরও ২২ জনকে পাকড়াও করা হয়। এই নিয়ে গোলমালের ঘটনায় মোট ৪০ জন অভিযুক্ত ধরা পড়লেন তদন্তকারীদের হাতে।
বারুইপুরের নির্যাতিতা নাবালিকার দেহ উদ্ধারের দিন, রবিবার, দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। বারুইপুর কাণ্ডে স্রেফ সন্দেহের বশে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করে একদল জনতা। রেল অবরোধ, সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে। পুলিশ সূত্রে খবর, সমাজমাধ্যমে ওই বিশৃঙ্খলার যে সব ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছিল, সেগুলি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়। ধৃতদের বৃহস্পতিবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে পুলিশ। বারুইপুরে কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পরে রবিবারই নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন তিনি। দোষীদের বিরুদ্ধেও সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেন, গোলমালের ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদেরও কাউকে রেয়াত করা হবে না। গণপিটুনির যে মামলা হয়েছে, তার নেপথ্যে ‘সাম্প্রদায়িক যোগ’ থাকতে পারে বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী। নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর বারুইপুরে যে তাণ্ডব চলেছে, তাতে বিরোধীদের প্ররোচনার অভিযোগ তুলেছেন। বারুইপুরের তাণ্ডব প্রসঙ্গে গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাকি যাঁরা অতৃপ্ত আত্মা রয়েছেন, ভোটে হেরে যাঁরা ঘরে ঢুকে গিয়েছিলেন, এখনও ঘরে রয়েছেন, তিন জন মিলে যে তিনটে কাণ্ড করেছেন, তাঁদেরও ভুগতে হবে। এমন ভোগাব বুঝতে পারবে।’’ পরের দিন, মঙ্গলবার বারুইপুরে যান শুভেন্দু। সেখানে তিনি জানান, নির্যাতিতার দেহ উদ্ধার হওয়ার পরে যে যুবককে সন্দেহভাজন মনে করে পিটিয়ে খুন করা হয়, তিনি নির্দোষ ছিলেন। কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর রবিবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয় বারুইপুর। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর, রেললাইন উপড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, ভিডিয়ো দেখে ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে এই ঘটনায় যাঁরা উস্কানি দিয়েছেন, তাঁদেরও শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।




