Thursday, July 9, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

নিজের দলের কর্মীকেই সপাটে চড় মমতার!‌ তৃণমূলনেত্রী এক ব্যক্তিকে কষিয়ে চড় মারেন!‌ কেন?‌

RK NEWZ দুপুরে কালীঘাট তৃণমূলের মিছিল ঘিরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরে রাস্তায় নামেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যাপক বিশৃঙ্খলার মধ্যে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে মেজাজ হারান তিনি। এক ব্যক্তিকে কষিয়ে চড় মারেন তিনি। ওই ব্যক্তি তৃণমূলেরই কর্মী বলে জানা গিয়েছে। বারুইপুর-কাণ্ডের প্রতিবাদে আজ, বুধবার মিছিলের ডাক দিয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে দুপুরে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে এই মিছিল শুরু হয়। কিন্তু মিছিল কিছুটা এগোতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মিছিলকে কেন্দ্র করে ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। এমনকী রাস্তার একপাশ দিয়ে ভেসে আসে ‘মাছ চোর’ গান। বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তৃণমূলের অভিযোগ, দলের কর্মীদের ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। পরে কালীঘাটের বাড়ি থেকে বের হন মমতা। সেই সময় বাড়ির বাইরে ভিড় জমে গিয়েছিল। সেই ভিড় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছলে তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। সামনে থাকা দলেরই এক কর্মীকে সপাটে চড় মারেন তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর মানসিকভাবে বিভ্রান্ত হয়ে গেছেন মমতা। এই সমস্ত আচরণ দুর্ভাগ্যজনক হলেও তিনি এখন ঠিকই করছেন। তাঁর মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তিনি এখনও মেনে নিতে পারছেন না, বাংলার মানুষ তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।” বুধবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেন মমতা। বারুইপুরের ‘দাঙ্গাকারী’দের প্রতিবাদী বলেও উল্লেখ করেন মমতা। এদিন মমতা বলেন, “হাই কোর্টের অনুমতি নিয়ে মিছিল করেছে ছাত্র-যুবরা। সকলের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। বিজেপির গুন্ডারা আমার বাড়ির সামনে ঘুরে বেড়িয়েছে। চিৎকার করেছে। আমাকে ভয় দেখিয়েছে। ভালো করে সরকার চালাও।”

বারুইপুর কাণ্ডের পর থেকেই তৎপর পুলিশ। গ্রেপ্তার হয়েছে অভিযুক্তরা। বুধবার সকালে এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। অথচ প্রতিবাদের নামে কলকাতার রাস্তায় মিছিলের ডাক দিয়ে উসকানির অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। বুধবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। বারুইপুরের ‘দাঙ্গাকারী’দের প্রতিবাদী বলেও উল্লেখ করে মমতা বলেন, “হাই কোর্টের অনুমতি নিয়ে মিছিল করেছে ছাত্র-যুবরা। সকলের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। বিজেপির গুন্ডারা আমার বাড়ির সামনে ঘুরে বেড়িয়েছে। চিৎকার করেছে। আমাকে ভয় দেখিয়েছে। ভালো করে সরকার চালাও।” তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগ, “গৃহবন্দি করে রেখেছে। পুলিশ আমাদের উপর নজর রেখেছে। আমাদের হ্যান্ডমাইক কেড়ে নিয়েছে। সকাল ৬টা থেকে ডিজে বাজিয়েছে। ভাড়াটিয়া গুন্ডাদের নিয়ে এসে তাণ্ডব করেছে। আমার বাড়ি থেকে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি পর্যন্ত। মেয়েদের গায়ে হাত দিয়েছে। আমি তাদের বাঁচাতে বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলাম। আমি দেখেছি মেয়েদের গাল, বুক, গোপনাঙ্গ থেকে। এই পরিবর্তন বাংলার মানুষ কি চেয়েছিল? আমরা চাই ধর্ষণ কমুক। অত্যাচার কমুক।” রাম মন্দিরে চুরির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মমতা বলেন, “মিছিলের মধ্যে ঢুকে বিজেপি কর্মীরা অশান্তি করেছে। যারা রামের টাকা চুরি করে খায়। তারা রামের নামে স্লোগান দিয়ে রামের নাম বদনাম করেছে।” পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বলেন, “আমি বিজেপিকে দোষ দিচ্ছি না। দোষ পুলিশের। তাদের দায়িত্ব ছিল নিরাপত্তার। কেন মিছিলে বিজেপি কর্মীদের ঢুকতে দিল? আইন কোথায়? উত্তরপ্রদেশের বেশি অশান্তি। এটা আদালত অবমাননার শামিল। আমরা ধিক্কার জানাই। দলদাসদের ধিক্কার জানাই। পুলিশ সমানে আমার উপর নজর রেখেছে। বিজেপিকে সব তথ্য পাঠাচ্ছে। আইসি ব্লক সভাপতি, মণ্ডল সভাপতি। সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ চলছে। আমরা আদালতের নির্দেশ অমান্য করিনি। পুলিশ করেছে।” মমতার বক্তব্য, “সারা বাংলা জুড়ে তাণ্ডব চলছে। মহিলাদের উপর অত্যাচার বেড়েছে। মানুষের শান্তি নষ্ট করবেন না। মানুষের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারেন না।”

বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয় ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র তরফে। মিছিল কিছুটা এগোতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মিছিলকে কেন্দ্র করে ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। এমনকী রাস্তার একপাশ দিয়ে ভেসে আসে ‘মাছ চোর’ গানও। বেশ কয়েকজন মিছিলকারী জখম হন। এরপর দুপুর সাড়ে তিনটের পর কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরন মমতা। হ্যান্ড মাইক হাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles