Monday, July 6, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মোহনবাগানের নতুন কোচ পানাজিয়োটিস ডিমপেরিস!‌ এক বছরের চুক্তি লাল-হলুদের কোচ আন্তোনিয়ো লোপেস হাবাস

মোহনবাগান-সহ ভারতের একাধিক ক্লাবে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে আন্তোনিয়ো লোপেস হাবাসের। ভারতের প্রায় সব ফুটবলারকে চেনেন। পুণে সিটি এফসি, ইন্টার কাশীকে কোচিং করিয়েছেন। ২০১৪ সালে প্রথম এটিকের কোচ হিসাবে ভারতে আসেন। স্প্যানিশ কোচ দায়িত্ব নিতে রাজি বলেও জানা গিয়েছিল ক্লাব সূত্রে। সোমবার নতুন কোচ হিসাবে হাবাসের নামই সরকারি ভাবে ঘোষণা করেছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তৃপক্ষ। গত মরসুমে প্রথম বার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইস্টবে‌ঙ্গল। তার পরও সফল কোচ অস্কার ব্রুজ়োকে ধরে রাখতে পারেননি লাল-হলুদ কর্তারা। তাঁর শূন্য স্থান পূরণ করতে ভারতীয় ফুটবল সম্পর্কে অভিজ্ঞ হাবাসকে নিয়ে এল ইস্টবেঙ্গল। গত মরসুমে তিনি ছিলেন ইন্টার কাশীর কোচ। হাবাসের সহকারী হিসাবে আসছেন আর এক অভিজ্ঞ কোচ কার্লোস আগুস্তিন ফনসেকা তেজেইরো। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিজ্ঞতা, কৌশলগত দক্ষতা এবং অতীত সাফল্যের কথা বিবেচনা করেই হাবাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইস্টবেঙ্গল স‌ভাপতি মুরারি লাল লোহিয়া নতুন কোচকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘‘ইস্টবেঙ্গল পরিবারের সদস্য হিসাবে আন্তোনিয়ো লোপেস হাবাসকে স্বাগত। ভারতীয় ফুটবলে অন্যতম সম্মানীয় কোচ হাবাস। সাফল্য, পেশাদারিত্ব, কৌশলগত দক্ষতা, জয়ের মানসিকতা তাঁকে ইস্টবেঙ্গলের জন্য আদর্শ কোচ করে তুলেছে। ইস্টবেঙ্গল শুধু ফুটবল ক্লাব নয়। কোটি কোটি সমর্থকের আবেগ। গর্ব এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। আমাদের বিশ্বাস, হাবাসের নেতৃত্বে দল আরও সাফল্য পাবে এবং সমৃদ্ধ হবে।’’ লাল-হলুদ শিবিরের দায়িত্ব নিয়ে খুশি হাবাসও। তিনি বলেছেন, ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিতে পেরে আমি সম্মানিত। উৎসাহ এবং দায়িত্বের সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি। আজ থেকে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ক্লাবের পতাকাকে আরও উপরে তুলে ধরা। ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই করে ক্লাবের স্বপ্ন এবং লক্ষ্যপূরণ করা। খুব দ্রুত কলকাতায় আসব। সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি।’’

মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কোচ হলেন পানাজিয়োটিস ডিমপেরিস। গত মরসুমে পঞ্জাব এফসিকে কোচিং করানো গ্রিক কোচ প্যানোস নামেই পরিচিত। তাঁর সঙ্গে এক বছরের চুক্তি হয়েছে সবুজ-মেরুন কর্তৃপক্ষের। ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে একই দিনে আসন্ন মরসুমের কোচের নাম ঘোষণা করল মোহনবাগান। গ্রিসের প্রথম ডিভিশনের একাধিক ক্লাবে কোচিং করানো প্যানোসের প্রশিক্ষণে গত মরসুমে বেশ ভাল খেলেছে পঞ্জাব। ফুটবল মহলে প্রশংসিত হয়েছিলেন। সেই প্য়ানোসকেই আগামী মরসুমের জন্য কোচ হিসাবে বেছে নিল কলকাতার অন্যতম প্রধান ক্লাব। ভারসাম্য বজায় রেখে আগ্রাসী ফুটবলে বিশ্বাসী প্যানোস। তাঁর রণকৌশলও বেশ ভাল। ৫১ বছরের কোচ সিনিয়র ফুটবলারদের পাশাপাশি জুনিয়র ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করতেও স্বচ্ছন্দ। চুক্তি সই হওয়ার পর এমবি এসজি মিডিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজের ফুটবল দর্শন, তারকা সমৃদ্ধ দল নিয়ে ভাবনার কথা বলেছেন ডিমপেরিস। গ্রিক কোচের কাছে বেশ কয়েকটি ক্লাবের প্রস্তাব ছিল। তা-ও তিনি বেছে নিয়েছেন মোহনবাগানকে। এ ব্যাপারে তিনি বলেছেন, ‘‘মোহনবাগান শুধু একটা ফুটবল ক্লাব নয়। একটা ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। গৌরবময় ইতিহাস, জয়ের সংস্কৃতি এবং এশিয়ার অন্যতম সেরা আবেগপ্রবণ ও অনুরাগী সদস্য সমর্থক রয়েছে। যা ভারতের আর কোনও ক্লাবের নেই।’’ হাতে যে দল পাচ্ছেন, তা কি আপনার পছন্দ হয়েছে? ডিমপেরিস বলেছেন, ‘‘আমি সন্তুষ্ট। শক্তিশালী এবং প্রতিভাবান দল পাচ্ছি। অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার সুন্দর ভারসাম্য রয়েছে। প্রত্যেক কোচই সব সময় উন্নতির পথ খোঁজেন। আমার মূল লক্ষ্য থাকবে, দলের সকলকে সক্ষমতার শীর্ষে নিয়ে গিয়ে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করতে। সাফল্য কখনও একক ব্যক্তিগত প্রতিভা থেকে আসে না। সঠিক মানসিকতা, শৃঙ্খলা এবং দায়বদ্ধতার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে আসে।’’ মোহনবাগানের কোটি কোটি সমর্থকের প্রত্যাশার চাপ কি সামলাতে পারবেন? এ প্রসঙ্গে সবুজ-মেরুনের নতুন কোচ বলেছেন, ‘‘একটা কথা রয়েছে, চাপই হল বিশেষাধিকার। বিশ্বের সব বড় ক্লাবে প্রত্যাশা সব সময় আকাশচুম্বী থাকে এবং সেটাই স্বাভাবিক। মোহনবাগান সমর্থকদের এই আবেগই ক্লাবের অন্যতম শক্তি। আমাদের দায়িত্ব হলো কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং ক্লাবের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রতিদিন তাদের বিশ্বাস অর্জন করা। আমরা প্রতি সপ্তাহে জয়ের প্রতিশ্রুতি দেব না। তবে এমন একটা দল তৈরি করার চেষ্টা করব, যারা সাহসিকতা, শৃঙ্খলা এবং প্রতিটি ম্যাচ জেতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মাঠে নামবে। লড়াই করবে।’’ ডিমপেরিস জানিয়েছেন এমন ক্লাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। যে ক্লাবের সমর্থকেরা সাফল্য ছাড়া কিছু বোঝেন না। দায়িত্ব নিয়েই কলকাতা ডার্বি। এই ম্যাচ নিয়ে আপনার কোনও ধারণা রয়েছে? ডিমপেরিস বলেছেন, ‘‘ফুটবল দাঁড়িয়েই আছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার উপর। ভারতে আসার পরই জেনে গিয়েছি কলকাতা ডার্বি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বৃহত্তম এবং সবচেয়ে ঐতিহাসিক ম্যাচগুলোর একটা। সমর্থক, খেলোয়াড় এবং ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের কাছে এর গুরুত্ব কতটা, তা জানি। এই ধরনের ম্যাচের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার উপায় শুধু আবেগ নয়। চমৎকার প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামতে হয়। আমরা প্রতিপক্ষকে সম্মান করব। একই সঙ্গে মোহনবাগানের ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই সাহসিকতা নিয়ে ডার্বি জিততেও চাইব।’’ সবুজ-মেরুনের নতুন কোচ জানিয়েছেন, তাঁর দল প্রতিটি ট্রফির জন্য লড়াই করবে। ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করবে। প্রতিটি মরসুম নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। তার মোকাবিলা করতে পারাই আসল। দল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতেই ইস্তফা মেক্সিকোর কোচ আগুইরের, বেছে দিয়েছেন উত্তরসূরিও। মোহনবাগান সমর্থকদের প্রতিও বার্তা দিয়েছেন ডিমপেরিস। গ্রিক কোচ বলেছেন, ‘‘মোহনবাগান সমর্থকদের বলতে চাই,এই ক্লাব আপনাদের কাছে কতটা আবেগের তা আমি জানি। এই ক্লাবের জার্সি পরার পর দায়িত্ব কতটা বেড়ে যায়, তা-ও বুঝি। ক্লাব প্রশাসন, আমার কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করব। যাতে সবুজ-মেরুন সমর্থকেরা গর্বিত হতে পারেন। আপনাদের সমর্থন প্রয়োজন।কারণ দল এবং সমর্থকরা যখন এক হয়ে লড়াই করে, তখনই ফুটবল সবচেয়ে শক্তিশালী হয়। ট্রফি জয়ের জন্য যা দরকার।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles