RK NEWZ সোমবার নিজের বাড়ির সামনে থেকেই মোমবাতি হাতে হাঁটতে শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে রয়েছে কালীঘাট তৃণমূলের একাধিক নেতা ও কর্মীরা। বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে পথে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নিজের কালীঘাটের বাড়ির সামনে থেকেই মোমবাতি হাতে মিছিল শুরু করেন তিনি। বাড়ির গলির সামনেই মমতা ও তৃণমূলের নেতা কর্মীদের বাধা দেয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায় মিছিল। এই নিয়ে মমতার বাড়ির সামনে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই মিছিলের মূল স্লোগান ‘জাস্টিস ফর বারুইপুর’। মমতার পাশে এদিন দেখা গিয়েছে কালীঘাট তৃণমূলের মহিলা নেতৃত্বকে। বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড, মোমবাতি হাতে মিছিলে শামিল হন দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, অপরূপা পোদ্দাররা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে ব্যাপক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। মিছিলটি মমতার কালীঘাটের বাড়ির গলি থেকে বেরতে গেলেই বাধা দেয় পুলিশ। ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায় মিছিল। পরে মমতা নিজের কালীঘাটের বাড়িতেই মিছিল শেষ করেন।এক নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বারুইপুরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনার খবর পেয়ে গতকালই নাবালিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দ্রুত অ্যাকশন নেয় পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে মূল অভিযুক্ত-সহ ৩ জনকে। আটক হয়েছেন আরও ৩ জন। দোষীদের কঠোরতম শাস্তির আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন রাতেই পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল থেকেই তাঁর বাড়ির সামনে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল নেত্রী। আজ দুপুরেই বারুইপুরে গিয়ে ওই নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল। সেই প্রতিনিধি দল কলকাতায় ফিরে মমতাকে ঘটনার রিপোর্ট দেন। এরপরেই কালীঘাটে বাড়ির সামনে মোমবাতি হাতে মিছিল করেন তৃণমূলনেত্রী। রাজ্যে পালাবদলের পর হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন তিনি। এবার বারুইপুরে মৃত নাবালিকার জন্য বিচার চেয়ে প্রতিবাদে শামিল হলেন মমতা।
খুন করে নয়, জীবিত অবস্থাতেই বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বারুইপুরের কিশোরীকে। সোমবার ময়নাতদন্তের যে প্রাথমিক রিপোর্ট এসেছে, তা থেকে এমনটাই ধারণা পুলিশের। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, নাবালিকার ফুসফুসে কাদা জল পাওয়া গিয়েছে। খুন করার পরে দেহ জলে ফেলা হলে যেটা হওয়ার কথা নয়। ডুবে মৃত্যু হলেই ফুসফুসে জল পাওয়া যায়। ফলে নাবালিকাকে যখন জলে ফেলা হয়, তখনও সে বেঁচে ছিল বলেই পুলিশের অনুমান। তবে তার আগে বীভৎস অত্যাচারের শিকার হয়েছিল সে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, নাবালিকার যৌনাঙ্গে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ক্ষত রয়েছে মাথাতেও, যা ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করার কারণে বা শক্ত কোনও জায়গায় ঠুকে দেওয়ার কারণে হতে পারে। এই আঘাত থেকে প্রচুর পরিমাণ রক্তপাত হয়েছিল বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং জলে ডুবে শ্বাসরোধ—মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে এই দু’টি বিষয়ের উল্লেখ করেছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকেরা। শনিবার গভীর রাতে ওই নাবালিকার মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকদের ধারণা। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ধৃতদের বয়ান মিলিয়ে তদন্তকারীরা গোটা ঘটনা পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছেন। এখনও পর্যন্ত যা তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে বলে সন্দেহ জোরালো হচ্ছে তাঁদের। পুলিশের হাতে যে সিসিক্যামেরা ফুটেজ হাতে এসেছে, তাতে শনিবার বিকেল ৪টে ৪১ মিনিটে সূর্যপুর বাজারের মূল রাস্তা দিয়ে ওই নাবালিকাকে হেঁটে যেতে দেখা যাচ্ছে। তার কয়েক কদম পিছনে লাল টি শার্ট এবং নীল টুপি পরে যাচ্ছেন এক যুবক। ঠিক তিন মিনিট পরে ওই যুবকের সঙ্গে ফিরতে দেখা যায় নাবালিকাকে। এই ফুটেজ দেখেই ওই যুবককে প্রভাস মণ্ডল বলে চিহ্নিত করেন স্থানীয়রা। তাঁকে সঙ্গে নিয়েই রবিবার সকাল সাতটা নাগাদ প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়।
প্রভাস এলাকায় মাদকাসক্ত বেকার যুবক হিসেবেই পরিচিত। তাঁকে জেরা করে এই ঘটনায় যুক্ত বাকিদের নাম জানতে পারে পুলিশ। তবে জেরায় প্রভাস যা বলেছেন, তাতেও অসঙ্গতি বিস্তর। প্রথমে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছিলেন। পরে পুলিশকে জানান, চার জন তাঁর কাছ থেকে ওই নাবালিকাকে নিয়ে চলে যান। এঁদের মধ্যে একমাত্র আনন্দ সর্দারকেই তিনি চেনেন। আনন্দ নাবালিকাকে অপহরণ করে তার বাবার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলেও দাবি করেন প্রভাস। প্রভাস এখনও পর্যন্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে বলেই তদন্তকারীদের ধারণা। কারণ, ওই নাবালিকা মাঝপথ থেকে কেন প্রভাসের সঙ্গে ফিরে এল তার ব্যাখ্যা মেলেনি। প্রভাস জেরায় দাবি করেছেন, আনন্দই শ্বাসরোধ করে ওই নাবালিকাকে খুন করেছেন। প্রশ্ন হল, প্রভাস যদি ঘটনাস্থলে না-ই থেকে থাকেন, তা হলে কে, কী ভাবে খুন করেছে, সেটা তিনি জানলেন কী করে? একই সঙ্গে কোথায় দেহ ফেলা হয়েছে সেটাও বা তিনি কী করে জানলেন? শুধু প্রভাস নয়, বাকি ধৃতদের বয়ানেও একই রকম অসঙ্গতি রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য মিলিয়ে পুলিশের অনুমান, অভিযুক্তরা ঘটনার সময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। যৌন নির্যাতনের পর নাবালিকাকে খুন কেন করা হল, তা নিয়ে দু’টি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এক, নির্যাতিতা এবং অভিযুক্তরা সকলেই একই এলাকার বাসিন্দা। ফলে ওই নাবালিকা হয়তো অভিযুক্তদের হয়তো চিনতে পেরেছিল। তাই প্রমাণ লোপাট করতে খুন। দ্বিতীয় সম্ভাবনা হল, শনিবার রাত আটটা থেকে নির্যাতিতার খোঁজ শুরু হয়ে যায়। সেই খবর অভিযুক্তদেরও কানে যায়। ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই নাবালিকাকে খুন করার জন্য তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে সুযোগ বুঝে দেহ ফেলে দেওয়া হয় পুকুরে। তদন্তকারীদের ধারণা, মাথার আঘাত গুরুতর হলেও পুকুরে ফেলার সময়েও বেঁচে ছিল ওই নাবালিকা। অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। সেই অবস্থাতেই তাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলা হয়। নির্যাতিতার এক প্রতিবেশীর বক্তব্য, ‘‘তার দিয়ে বাঁধা বস্তাটা ছেঁড়া ছিল। নিশ্চয়ই বের হওয়ার একটা শেষ চেষ্টা করেছিল মেয়েটা।’’
পরিবার প্রথম থেকেই দাবি করছিল ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে ১২ বছরের কিশোরীকে। বারুইপুরে কিশোরীর দেহ উদ্ধারের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে গণধর্ষণের মামলা রুজু হল। সোমবার বারুইপুর আদালতে খুনের পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারা ৭০ (২)-ও যোগ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে সোমবার আদালতে হাজির করানো হয়। তাঁদের ১৪ দিনের হেফাজতে চায় পুলিশ। আদালত তা মঞ্জুর করেছে। ২০ জুলাই আবার তাঁদের আদালতে হাজির করানো হবে। সোমবার ধৃত তৃতীয় জনকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করানো হবে। বারুইপুরের ঘটনায় প্রথমে প্রভাস মণ্ডল এবং পরে দিবাকর সর্দারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের দু’জনকেই সোমবার বারুইপুর আদালতে হাজির করানো হয়। আদালতে সরকারি আইনজীবী সওয়াল করে জানান, এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা। তদন্তের স্বার্থে এখনও গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করানো বাকি রয়েছে। পাশাপাশি, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই দুই অভিযুক্তকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়, যা মঞ্জুর হয়েছে। তবে এই মামলায় পকসো ধারা যুক্ত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে শুনানি হতে পারে কি? সোমবার দুই অভিযুক্তের পক্ষে কোনও আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। বারুইপুরের ঘটনায় সোমবার আনন্দ সর্দার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করানো হবে। বারুইপুরের ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-র ধর্ষণ (৬৫), গণধর্ষণ (৭০ [২]), খুন (১০৩ [১]), তথ্যপ্রমাণ লোপাট (২৩৮), অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (৬১) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারাতেও মামলা হয়েছে।
বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার লক্ষ্যেও কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও মহিলাদের উপর অত্যাচার রুখতেও কমিটি গড়ার কাজ করেছে সরকার। বিধানসভায় পাশ হয়েছে গুন্ডাদমন বিল। নির্বাচনের আগে অমিত শাহ নিজে বাংলায় এসে গুন্ডাদের উলটো করে ঝুলিয়ে সোজা করার কথা বলেছিলেন। সেই কথাই রাখলেন শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। গুন্ডাদমন বিল পাশ গুন্ডাদের সবক শেখানোর ক্ষেত্রে শুভেন্দু সরকারের প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে দেশ থেকে বের করার কথা দিয়েছিলেন তিনি। সেই কথাও রেখেছে শুভেন্দুর সরকার। এর মধ্যেই অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে গুন্ডাদের উলটো করে ঝোলানোর কথা বলেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই ‘সংকল্প’ই পূরণ করেছে শুভেন্দুর সরকার। রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয়েছে গুন্ডাদমন বিল। এছাড়াও রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করতে আগস্টেই বিধানসভায় এই বিল পেশ হবে। এই নিয়ে শুভেন্দু সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন অমিত শাহ। এত কম সময়ে এত কাজ করায় শুভেন্দুকে শুভেচ্ছাও জানান। রাজ্যে পালাবদলের পর কেটেছে মাত্র কয়েকদিন। আর এই কয়েকদিনের মধ্যেই একাধিক কাজ করেছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। অমিত শাহ জানান, ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, লাখপতি দিদি-সহ বিভিন্ন প্রকল্প রাজ্যে চালু হয়েছে। উত্তরবঙ্গে ক্যানসার হাসপাতালের নির্মাণ শুরু হয়েছে। এমনকী সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফকে জমি দেওয়ার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। দুর্নীতির তদন্তের জন্য কমিটি গড়েছে শুভেন্দুর সরকার। এবিষয়ে অমিত শাহ বলেন, “যাঁরা দুর্নীতি করেছিলেন তাঁরা তৈরি থাকুন। কমিটির রিপোর্ট এলেই গুণে গুণে হিসাব হবে।” দুর্নীতির তদন্তের জন্য় আগে অনুমতি পাওয়া যেত না। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর সব দুর্নীতির তদন্তের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুপুর ১২টায় এই নিয়ে ফোন করেছিলেন তিনি। আর আড়াইটের মধ্যেই তদন্ত শুরুর অনুমতি দেয় রাজ্য সরকার।
দু’বছর আগে ‘জাস্টিস’, ‘রাতদখল’ শব্দগুলো যেন শেল হয়ে বিঁধত। শুনলেই মেজাজ হারাতেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪ সালে আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের সুবিচার চেয়ে পথে নামা আন্দোলনকে ‘হুজুগ’ বলে মনে করতেন। আন্দোলনকারীদের কাউকে নকশাল, কাউকে অতি বাম বলে দাগিয়ে দিতে পিছপা হননি। ‘জাস্টিস ফর আর জি কর’ স্লোগান শুনলে সপাটে জবাব দিতেন, জাস্টিস তো পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। কাট টু ২০২৬। বিধানসভা ভোটে গোহারা হেরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্ব হারিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাশও তাঁর হাতে থাকবে কি না, ঠিক নেই। কিন্তু সেদিনের সেই ‘জাস্টিস’ সুরই এখন মমতার গলায়! বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুন কাণ্ডের প্রতিবাদে মোমবাতি হাতে রাস্তায় নেমে স্লোগান তুললেন ‘তোমার আমার এক সুর/ জাস্টিস ফর বারুইপুর।’ এ কেমন দ্বিচারিতা? কেনই বা? এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর জি করের ঘটনার সঙ্গে জড়িত পছন্দের লোকজনকে ‘অপরাধী’ হওয়া থেকে আড়াল করতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর, এই অভিযোগ উঠেছে বারবার। সম্প্রতি রাজ্যে পালাবদলের পর আর জি কর ফাইল নতুন করে খোলার পর নয়া নয়া তথ্য সামনে আসছে। এও জানা যাচ্ছে, নির্যাতিতার ভিসেরার নমুনা নষ্ট করার নির্দেশ নাকি দিয়েছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই! যে কারণে আসল অপরাধীদের ধরাই যায়নি বলে অভিযোগ। এমনকী সিবিআইও তদন্তে আসল ক্লু খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও মামলার দ্রুত শুনানি, রায়দান, সাজা কার্যকর সবই হয়েছে। তা সত্ত্বেও অপরাধ আড়ালে মমতার ভূমিকা বরাবর সমালোচিতই হয়েছে। তার কারণও আছে ঢের।




