RK NEWZ বারুইপুর থানা এলাকায় যে পুকুর থেকে নাবালিকার বস্তায় মোড়া দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেখান থেকে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। এ নিয়ে শোরগোল এলাকায়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বারুইপুর কাণ্ডে নতুন মোড়। যে পুকুর থেকে ১২ বছরের মেয়ের নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেই পুকুর থেকেই এক ব্যক্তির দেহ পাওয়া গেল সোমবার! এই ঘটনার সঙ্গে নাবালিকার গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃত ব্যক্তির নাম কৃষ্ণকান্ত হালদার। গত শুক্রবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এক ‘প্রত্যক্ষদর্শী’কে নিয়ে বারুইপুরের নিখোঁজ নাবালিকার দেহ উদ্ধার করেছিলেন স্থানীয় কয়েক জন যুবক। নাবালিকার কাকা দাবি করেন, তাঁদের মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। তার পর দেহ বস্তায় ভরে পুকুরের এক জায়গায় পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। বারুইপুরের সেই পুকুরে সোমবার তল্লাশি অভিযান করছিল পুলিশ। বিকেলে সেখান থেকে এক জনের দেহ মেলে। এ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। ইতিমধ্যে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে পুলিশ। তারা মৃতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। স্থানীয়দের দাবি, মৃত যুবকের নাম কৃষ্ণকান্ত। তাঁর সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল কি না, তিনি কী করতেন, কী ভাবে ওই স্থানে গেলেন, এ সব নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। বারুইপুরে কিশোরীর দেহ উদ্ধারের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে সোমবার গণধর্ষণের মামলা রুজু হয়েছে। বারুইপুর আদালতে খুনের পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারা ৭০ (২)-ও যোগ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে সোমবার আদালতে হাজির করানো হয়। তাঁদের ১৪ দিনের হেফাজতে চায় পুলিশ। আদালত তা মঞ্জুর করেছে। ২০ জুলাই আবার তাঁদের আদালতে হাজির করানো হবে। সোমবার ধৃত তৃতীয় জনকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করানো হবে।
রবিবার ১২ বছরের ওই তরুণীর দেহ উদ্ধারের পর উত্তপ্ত হয়েছিল বারুইপুর। অভিযুক্ত সন্দেহে ক্ষিপ্ত জনতার গণপ্রহারে মৃত্যু আর এক ব্যক্তির। এই দুই ঘটনার জেরে রবিবার অশান্ত হয় বারুইপুর। শিয়ালদহ-নামখানা লাইনে অবরোধের জেরে ঘণ্টাখানেক বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকে সড়কও। পুলিশ প্রথমে গেলে তাদের ঢিল ছুড়ে মারার অভিযোগ ওঠে উন্মত্ত জনতার বিরুদ্ধে। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। কিশোরীর বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার তাঁকে ভবানীভবনে যেতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবারই শুভেন্দুর বারুইপুরে যাওয়ার কথা।
বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় মুখ খুললেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। এই ঘটনার জন্য বিগত তৃণমূল সরকারকেই দায়ী করেন তিনি। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে হওয়া দুর্নীতির ফল ভুগতে হচ্ছে সমাজকে। তৃণমূল এতদিন মানুষকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে দূরে সরিয়ে রেখে খেলা, মেলা, মদ, জুয়ায় মত্ত রেখেছিল। সেই কারণে সামাজিক অধঃপতন হয়েছে। এই সামাজিক অবক্ষয়ের শিকার হতে হয়েছে বারুইপুরের নাবালিকাকে। এই ঘটনার ধিক্কার জানিয়ে তাঁর সাফ কথা, বারুইপুরের ঘটনায় বিজেপি সরকার বিচার দেবেই। ওই নাবালিকা ও তাঁর পরিবার বিচার পাবে। সোমবার পানিহাটিতে কার্যালয়ে বসে রত্না বলেন, বারুইপুরের ঘটনা বেদনাদায়ক। আমাদের সরকার মাত্র দু’মাস এসেছে। আমি বলব সরকারকে শক্ত হাতে এগুলোই দমন করতে হবে। এই ধরনের ঘটনা কেন হবে? আমি জানি ও বিচার পাবে। তবে এটাও ঠিক বাবা, মা তো আর সন্তানকে ফিরে পাবে না। বিচার আমিও অবশ্যই পাব। নতুন সরকার এসেছে। আমাদের সব তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হয়েছে, তাই বিচারের অগ্রগতিতে একটু সময় লাগছে। তবে তমন্নার মা এসে আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। সব অপরাধী ধরা পড়েছে। বারুইপুরের পরিবারও বিচার পাবে।’ তিনি জানান, আজ সময় পেলে তিনি বারুইপুরে যাবেন। আর তা না হলে আগামিকাল তিনি নাবালিকার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করবেন। আগামীদিনে বিধানসভায় নারী সুরক্ষা নিয়ে সরব হওয়ার বার্তাও দেন রত্না। তিনি সমাজমাধ্যমেও এই নিয়ে একটি পোস্ট করেন। লেখেন, “বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন। নৃশংস ঘটনা। ৪ জন তুলে নিয়ে গিয়ে বাচ্চাটাকে অত্যাচার করে। তার মধ্যে এক অভিযুক্তর গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে। তবে, পুলিশ কয়েকঘণ্টার মধ্যেই বাকি ৩ জনকেই আটক করেছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নাবালিকার বাবাকে ফোন করে কথা বলেছেন। ভবানীভবনে মঙ্গলবার তাঁকে যেতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকার পাশে আছেন পরিবারের। মা-বাবার কোল যারা খালি করল তাদের কড়া শাস্তি হওয়া উচিত। নরপিশাচদের সঙ্গে আপসহীন বর্তমান রাজ্য সরকার।” নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের অভিযোগকে ঘিরে গতকাল অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বারুইপুর। এই ঘটনায় দ্রুত অ্যাকশন শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আরও ৩ জনকে আটক করে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। অন্যদিকে, গতকালই এক অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা। মারধরে তাঁর মৃত্যু হয়। বারুইপুর কাণ্ডে সব দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের সব দাবি মেনে নেওয়া হবে বলেও জানান। বারুইপুরে পুলিশের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, অভিযুক্তকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় আরও তিনটি মামলা রুজু করে তদন্ত করছে পুলিশ।



