RK NEWZ রাজ্য জুড়ে প্রথমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মদিন উদযাপন, একাধিক নতুন ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যে প্রথম মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন। এবছর আবার তাঁর ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী। ফলে জাঁকজমক কিছুটা বেশি। প্রথমবার মহাকরণে পালন করা হল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন। সরকারি ছুটি থাকলেও সোমবার কর্মীরা সেখানে গিয়ে তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান। বাংলার ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা যে এতদিন আড়াল হয়ে ছিল, তা সামনে আনতে এমন পবিত্র দিনে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। তারই একটি ইকো পার্কে ১২৫ ফুট দীর্ঘ শ্যামাপ্রসাদের মূর্তির শিলান্যাস ও ফলক উন্মোচন। সোমবার কলকাতায় এসে বিকেলে সেই শিলান্যাস করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ প্রশাসন ও শাসকদলের অনেকেই। এদিন বিকেলে দমদম বিমানবন্দর নেমেই শাহ সরাসরি চলে যান ইকো পার্কে। এদিন শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে কলকাতায় ঝটিকা সফরে তাঁর আসা।
‘জঘন্যতম অপরাধ, সর্বোচ্চ শাস্তি দেব,’ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর! গোলমাল পাকানো ‘অতৃপ্ত আত্মাদের’ বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা। রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সাফ জানিয়েছেন, গত ১৫ বছর ধরে যে বিভাজনের রাজনীতি মমতা করেছেন, তা আর করতে দেওয়া হবে না। সে জন্যই মমতাকে বারুইপুরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বারুইপুরে কিশোরীর অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং গণপিটুনির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি, ‘জঘন্যতম’ যে অপরাধ হয়েছে, তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বলেছেন, গোলমাল ও গণপিটুনির ঘটনায় যে তিন মামলা রুজু হয়েছে, তার সঙ্গে জড়িতদেরও রেয়াত করা হবে না। গণপিটুনির যে মামলা হয়েছে, তার নেপথ্যে তিনি ‘সাম্প্রদায়িক যোগ’ দেখছেন। প্ররোচনার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদের বিরুদ্ধে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ভোটে হেরেই বারুইপুরে গোলমাল পাকিয়েছে বিরোধীরা। মঙ্গলবার বারুইপুরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। অন্য দিকে, নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ঘরবন্দি’ হয়ে থাকলেও সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়েছেন তাঁর অনুগামী তিন নেতা-নেত্রী। রবিবার বারুইপুরের এক পুকুরে কিশোরীর দেহ উদ্ধার হওয়ার পরেই তার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন শুভেন্দু। সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাবা যা যা চেয়েছেন, সব করবে মুখ্যমন্ত্রী। আমি খুশি, ওঁরা আস্থা রেখেছেন।’’ তিনি জানান, পরিবারের তরফে চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিন জনকে আটক করা হয়েছে, যাঁদের সঙ্গে পলাতক দু’জনের কথোপকথন হয়েছে। আইজি, এসটিএফ কাজ করছে। তবে বারুইপুরে গোলমালের যে ঘটনা হয়েছে, তাতেও কাউকে রেয়াত করা হবে না বলেই হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর কথায়, ‘‘বাকি যাঁরা অতৃপ্ত আত্মা রয়েছেন, ভোটে হেরে যাঁরা ঘরে ঢুকে গিয়েছিলেন, এখনও ঘরে রয়েছেন, তিন জন মিলে যে তিনটে কাণ্ড করেছেন, তাঁদেরও ভুগতে হবে। এমন ভোগাব বুঝতে পারবে।’’
কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পরে রবিবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বারুইপুর। রেললাইনে অবরোধ করা হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ ছিল সড়ক। ঘটনায় জড়িত রয়েছেন, এই সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগও উঠেছে। তার নেপথ্যে ‘সাম্প্রদায়িক-যোগ’ দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘গণপিটুনির নেপথ্যে সাম্প্রদায়িক অ্যাঙ্গল ছিল। রেললাইন যে ভাবে উপড়ানো হয়েছে, তাতে অতীত মনে পড়ছে। ২০১৯ সালে সিএএ বিরোধী আন্দোলন বা কিছু দিন আগে ওয়াকফ আইন বিরোধী আন্দোলনের কথা মনে পড়ছে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই ঘটনাগুলির নেপথ্যে রয়েছে ভোটে হেরে যাওয়া রাজনৈতিক দলগুলি। তাদের ভুগতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এ-ও জানিয়েছেন, বারুইপুরের ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘জঘন্যতম অপরাধের মামলা ছাড়া আরও তিনটি হয়েছে। প্রথমটার বিচার দেব। ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দেব।’’ বাকি তিনটি কাণ্ডে যাঁরা জড়িত, তাঁরাও ছাড় পাবেন না, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কালীঘাটপন্থীদের দাবি, বারুইপুরে রবিবারই নেত্রী মমতা যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বাড়ির বাইরে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেই ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েন। কালীঘাটপন্থী এক তৃণমূল সদস্যের ফেসবুক লাইভে মমতা অভিযোগ করেন, তিনি একাই বারুইপুরে গিয়ে মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তার পর থেকে তাঁকে কার্যত নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সোমবার দুপুরে বারুইপুরে যান সাংসদ দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, রাজ্যের প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের দাবি, বারুইপুরে যাওয়ার পথে বার বার তাঁদের বাধা দেওয়া হয়েছে। গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সাফ জানিয়েছেন, গত ১৫ বছর ধরে যে বিভাজনের রাজনীতি মমতা করেছেন, তা আর করতে দেওয়া হবে না। সে জন্যই মমতাকে বারুইপুরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অগ্নিমিত্রার কটাক্ষ, বারুইপুরের ঘটনা নিয়ে ‘রাজনীতি’ করার চেষ্টা করছেন মমতা। সে কারণেই তাঁকে সেখানে যেতে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘উন্নাওতে লোক পাঠিয়েছিলেন (মমতা)। মণিপুরে লোক পাঠিয়েছেন। এ রাজ্যের গ্রামে গ্রামে যা হয়েছে, সেখানে লোক পাঠাননি। ধামাচাপা দিয়েছেন। আজ তিনি সেখানে রাজনীতি করতে যাবেন, আমরা অনুমতি দেব? কেন হাউস অ্যারেস্ট হবে না।’’ এখানেই থামেননি অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, ‘‘১৫ বছর ধরে বিভাজনের রাজনীতি করেছেন (মমতা)। আর করতে দেব না। সে দিনও আপনি যাননি, আজও যাবেন না। আমরা আগে গিয়েছিলাম। এখনও যাব।’’ পাশাপাশি অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘‘কাকে মেরেছে, কী ধরনের মানুষকে মেরেছে, কোন জাতের মানুষকে মেরেছে, সেগুলি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। যে কোনও মহিলার উপরে যদি অত্যাচার করা হয়, তা হলে দোষীকে ছাড়া হবে না। এটা আগের যে কোনও সরকার নয়।’’ রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও বারুইপুরের ঘটনাকে ‘জঘন্য’ বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘কালপ্রিট’দের দ্রুত ধরা হবে। সোমবার বারুইপুরে গিয়ে কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। নওশাদ সিদ্দিকির সোমবার বারুইপুর যাওয়ার কথা থাকলেও সেই কর্মসূচি হচ্ছে না বলে জানিয়েছে আইএসএফ।




