RK NEWZ দু’জনেই বাংলার হয়ে খেলেছেন। দু’জনেই বাংলা থেকে ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন। প্রথম জন, অনূর্ধ্ব উনিশ ভারতীয় দলে। দ্বিতীয় জন, ইমার্জিং ইন্ডিয়া টিমে। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে তাঁরা দু’জনই বাংলার বিবিধ সম্ভাব্য দলে ব্রাত্য। দু’জনের একজনও কেউ কোথাও নেই! প্রথম জন, রোহিত। যিনি দিন কয়েক আগে বাংলা থেকে ডাক পেয়েছেন শ্রীলঙ্কা সফরের অনূর্ধ্ব ১৯ ভারতীয় টিমে। কিন্তু গতকাল যে বাংলা অনূর্ধ্ব ১৯ দলের সম্ভাব্য প্লেয়ার তালিকা প্রকাশ করেছে (প্রোবাবল প্লেয়ার্স লিস্ট), তাতে লেগস্পিনার রোহিতের নাম নেই। দিন কয়েক আগে ইমার্জিং ইন্ডিয়া দলে সুযোগ পাওয়া পেসার-অলরাউন্ডার রবি কুমার-তাঁর নামও বাংলার অনূর্ধ্ব ২৩ দলের সম্ভাব্য ক্রিকেটার তালিকায় কোথাও নেই! সোজা কথায়, বাংলারই প্লেয়ার তাঁরা। বাংলা থেকেই ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু বাংলা দলের সম্ভাব্য তালিকাতেই তাঁদের জায়গা হচ্ছে না! কোনও এক ‘অজানা’ কারণে!
যদিও ‘অজানা’ নয় মোটে। তা সে সিএবি সরকারি ভাবে পুরো বিষয়টা নিয়ে যতই নিশ্চুপ থাকুক। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, দু’জনেরই জন্মসাল এবং জন্মস্থান নিয়ে ঘোরতর গোলযোগ দেখা গিয়েছে। আসলে ভারতীয় বোর্ড এবার থেকে প্লেয়ারদের আধার কার্ড ‘আপডেট’ করা নিয়ে ভালোরকম কড়াকড়ি শুরু করে দিয়েছে। প্রত্যেক প্লেয়ারের আধার ‘আপডেট হিস্ট্রি’ খতিয়ে দেখতে বলা হচ্ছে বোর্ড অনুমোদিত সংস্থাদের। সিএবিও যার ব্যতিক্রম নয়। এত দিন নাম নথিভুক্ত করার আগে প্লেয়ারদের কাছ থেকে সাধারণ কিছু নথি চাওয়া হত। যেমন প্লেয়ারের ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট। প্লেয়ারের বাবা বা মা. যে কোনও একজনের ভোটার কার্ড। স্থানীয় আধার কার্ড। আর স্কুলের একটা নথি। কিন্তু বোর্ড এবার আধার কার্ড ‘আপেডট হিস্ট্রি’ খুঁটিয়ে তল্লাশি করতে বলে দিয়েছে। যা থেকে বেরিয়ে আসবে, নির্দিষ্ট প্লেয়ারের জন্ম কোথায়? কোন সালে? যে বয়স সে জমা করছে, তা আদৌ সত্যি কি না? ত্রুটিমুক্ত কি না?
এবং সেখানেই বেঁধেছে গণ্ডগোল।
রবি কুমারের চেয়েও বেশি কঞ্ঝাট রোহিতকে নিয়ে। যিনি ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কা সফরের উদ্দেশে রওনা হয়ে গিয়েছেন! এবং ছানবিন করে দেখা যাচ্ছে, রোহিতের আধার কার্ড আপডেট হয়েছে সাত-সাত বার। ২০১৪ সালে প্রথম বার আধার রেজিস্ট্রেশনের সময় তাঁর জন্মতারিখ ছিল ৭-৭-২০০৭। ঠিকানা ছিল উত্তরপ্রদেশের। এবং পরের আপেডট-নামা নিয়ে পরের পর তুলে দেওয়া হল: ১) পরবর্তী আধার আপডেট: ২০১৭ সাল। জন্ম তারিখ করে দেওয়া হল: ২০০৬ সাল। ঠিকানা: উত্তরপ্রদেশ।
২) পরবর্তী আধার আপডেট: ২০২০ সাল। জন্ম সাল: ২০০৬। ঠিকানা: উত্তরপ্রদেশ।
৩) পরবর্তী আধার আপডেট: ২০২১ সাল। জন্ম সাল: ২০০৬ থেকে হয়ে গেল ২০০৯! ঠিকানা: উত্তরপ্রদেশ।
৪) পরবর্তী আপডেট: ২০২২ সাল। জন্ম সাল: ২০০৯। ঠিকানা: কোনা, হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ!
৫) পরবর্তী আপডেট: ২০২৩ সাল।
বিজয় হাজারেতে বাংলার জার্সিতে অভিষেক হওয়া রোহিতকে (মাঝে) নিয়ে বিতর্ক। সমস্যায় রবি কুমারও (ডানদিকে)।
রোহিতের আধার-আপডেট
প্রথম রেজিস্ট্রেশন (২০১৪): জন্ম তারিখ ৭-৭-২০০৭। ঠিকানা উত্তরপ্রদেশ।
প্রথম আপডেট: ২০১৭। জন্ম সাল: ২০০৬। ঠিকানা: উত্তরপ্রদেশ।
দ্বিতীয় আপডেট: ২০২০। জন্ম সাল: ২০০৬। ঠিকানা: উত্তরপ্রদেশ।
তৃতীয় আপডেট: ২০২১। জন্ম সাল: ২০০৯। ঠিকানা: উত্তরপ্রদেশ।
চতুর্থ আপডেট: ২০২২। জন্ম সাল: ২০০৯। ঠিকানা: কোনা, হাওড়া।
পঞ্চম আপডেট: ২০২৩। জন্ম সাল: ২০০৯। ঠিকানা: লিলুয়া।
ষষ্ঠ আপডেট: ২০২৪। জন্ম সাল: ২০০৯। ঠিকানা: লিলুয়া।
জন্ম সাল: ২০০৯। ঠিকানা: লিলুয়া!
৬) শেষ আপডেট: ২০২৪ সাল। জন্ম সাল: ২০০৯। ঠিকানা: লিলুয়া, হাওড়া (ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা,
ফোন নম্বর আপডেট হয়েছে)।
প্রশ্ন হল, রোহিতের তা হলে কোনটা আসল বয়স? ২০০৬? ২০০৭? নাকি ২০০৯? ২০০৬ সাল হলে রোহিতের বয়স ইতিমধ্যে কুড়ি হয়ে গিয়েছে। তিনি ভারতের হয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ টিমে থাকতেই তো পারবেন না! অথচ চলে গিয়েছেন শ্রীলঙ্কায় খেলতে! রবি- আধার আপডেট হিস্ট্রি চেক করে তাঁরও দু’টো জন্ম সাল পাওয়া গিয়েছে। ২০০০ এবং ২০০৩। ২০০৩ সালে রবির জন্ম হয়ে থাকলে, তিনি অনূর্ধ্ব ২৩ পর্যায় খেলতে পারবেন এক বছর। আর জন্ম ২০০০ সালে হয়ে থাকলে, তাঁর ইতিমধ্যে বয়স ছাব্বিশ।
জানা নেই, এরপর এঁরা দু’জন আর বাংলার হয়ে খেলতে পারবেন কি না? শোনা যাচ্ছে, রোহিত-রবি দু’জনকেই শুনানিতে সুযোগ দেওয়া হবে। বলা হবে, ভুলটা তাঁদের ক্ষেত্রে নাকি অন্যত্র, তা জানাতে। অন্যত্র ভুল হলে, তা পেশ করতে হবে প্রমাণ সহ। লিখিত ভাবে। নইলে বাংলার জার্সি আর তাঁরা পরতে পারবেন না। আর সেই কারণেই রবি বা রোহিত-দু’জনের একজনও বাংলার সম্ভাব্য কোনও প্রাথমিক দলে নেই!



