RK NEWZ সময় যত এগোচ্ছে, তত একা হয়ে পড়ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে যাকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন নেত্রী, এবার দলের যাবতীয় পদ ছাড়লেন সেই জ্য়োতিপ্রিয় মল্লিক। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, গত শনিবারই জ্যোতিপ্রিয় ওরফে বালুকে দলের জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য করা হয়েছিল। সপ্তাহ পেরনোর আগেই ইস্তফা দিলেন। ১৯৯৮ সালে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা থেকেই দলের সঙ্গে ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের সঙ্গী ছিলেন তিনি। নেত্রীও তাঁকে ভরসা করেছেন। একাধিকবার টিকিট দিয়েছেন। বিধায়ক-মন্ত্রিত্ব সবই পেয়েছেন। পরবর্তীতে রেশন দুর্নীতি মামলায় জেলযাত্রা হওয়ার পরও সেই ভরসা অটুটই ছিল। বারবার মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বালুকে ফাঁসানো হয়েছে।’ ছাব্বিশে হাবড়ায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মমতা বলেছিলেন, “আমার মন্ত্রিসভায় বালু সবথেকে ভালো কাজ করেছে।” দুর্নীতির অভিযোগে জেলখাটা বালুকে এবারও টিকিট দিয়েছিলেন মমতা। যদিও জিততে পারেননি। তারপর থেকে সে অর্থে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি জ্যোতিপ্রিয়কে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থা ছিল, এই দুর্দিনে বালু সঙ্গ ছাড়বে না। তাই গত শনিবারই বালুকে দলের জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য করেন নেত্রী। কয়েকদিনের মধ্যেই বদলে গেল ছবি। সদ্য পাওয়া পদ-সহ দলের যাবতীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জ্যোতিপ্রিয়। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু কেন আচমকা এই সিদ্ধান্ত? প্রাক্তন মন্ত্রীর কথায়, “আমার ৩৫০-এর উপর সুগার, কিডনি খারাপ হয়ে গিয়েছে। তাই এই অবস্থায় দলের কোনও কাজকর্মে আমি এখন যুক্ত থাকতে পারছি না। তাই সব পদ ছেড়ে দিলাম।” তৃণমূলের জাহাজ ডুবেছে, আর মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই বুঝেই এই পদত্যাগ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিধানসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চর্চা চলছে। কারণ, এই পদটি বিরোধী শিবিরকে দেওয়াই রীতি। গত কয়েকবছরে দেখা গিয়েছে, বিশেষ কৌশলে এই পদে বিরোধী শিবিরের ‘পছন্দের’ লোককেই বসিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্দেশ্য একটাই, এমন একজনকে বেছে নেওয়া হয় যিনি বিরোধী দলের গলার কাঁটা হয়ে থাকবেন। শোনা যাচ্ছে, সেই কৌশলেই এবার ফিরহাদ হাকিমকে পিএসির চেয়ারম্যান পদে বসানোর পরিকল্পনা চলছে। পালাবদলের পর থেকেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূল। যারা এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাখতেন, তাঁরাই এখন নানারকম দোষারোপ করে দূরত্ব বাড়িয়ে নিয়েছে শতযোজন। ফলে পরিষদীয় দলের রাশ হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমোর। ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন এনসিপিআই নামে একটি অচেনা পার্টির সঙ্গী হয়েছেন এনডিকে সমর্থন জানাতে। এদিকে কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। ফলে মমতার হাতে আর কার্যত কিছুই নেই। মুখে কিছু না বললেও দীর্ঘদিন ধরেই আচরণে ফিরহাদ বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি আর ‘দিদি’র সঙ্গে নেই। বৃহস্পতিবার জল্পনা অন্য মাত্রা পেয়েছে। কারণ, রাজ্যপালের ভাষণের সময় দেখা গেল ফিরহাদের আসন নির্দিষ্ট হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খানদের সঙ্গে একই বেঞ্চে। অর্থাৎ তিনি যে ঋত-পন্থী তৃণমূলে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এরপরই শোনা যাচ্ছে, ফিরহাদকেই পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান করা হতে পারে মমতার সঙ্গ ছাড়ার পুরস্কার হিসেবে। পিএসি? এর পুরো কথা পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি। বিধানসভার এই কমিটি রাজ্য সরকারের খরচ-খরচার উপর নজর রাখে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাধারণত কমিটির চেয়ারম্যান করা হয় বিরোধী বিধায়কদের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এমন দু’জনকে পিএসির চেয়ারম্যান করেছিল যাঁরা খাতায় কলমে পদ্ম প্রতীকে বিধায়ক হলেও দলবদল করে তৃণমূলে নাম লেখায়। এঁরা হলেন প্রয়াত মুকুল রায় ও আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল। দু’জনের ক্ষেত্রেই দলবদলের রেকর্ড রয়েছে। তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির তরফে বারবার এই দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও তৃণমূলের তরফে অস্বীকার করা হয়। বারবারই তৎকালীন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, সংসদীয় রীতি মেনেই পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছে। সেই পথে হেঁটেই ফিরহাদকে পিএসির চেয়ারম্যান করার ভাবনা চলছে বলেই খবর। যদিও ফিরহাদের ক্ষেত্রে বিষয়টা ঠিক মুকুল রায়দের মতো নয়। কারণ, তিনি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে গুঞ্জন শোনা গেলেও খাতায় কলমে ফিরহাদ তৃণমূলেরই।





