RK NEWZ আরও এক দিন বাড়ানো হল জনকল্যাণ শিবিরের সময়। বুধবারই এই শিবিরের শেষ দিন। কিন্তু রাজ্যের জনকল্যাণ শিবিরগুলিতে এত বেশি ভিড় হচ্ছে, তাই এই শিবিরের সময় আরও এক দিন বাড়ানো হচ্ছে বলে ফলতা থেকে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে সরকার গঠনের পর দ্বিতীয়বার এবং ফলতা বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর প্রথমবার ফলতা সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই এলাকায় তাঁর একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। তৎপর রয়েছে জেলা বিজেপিও। বুধবার ফলতার ফতেপুর ফুটবল মাঠে একটি বড় জনসমাবেশে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ফলতার মাটি থেকেই দলীয় প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডাকে বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই আহ্বানের পর ফলতা কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা এক লক্ষ নয় হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। একসময় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রের বিজেপির জয় যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ফলতায় ফল প্রকাশের পর এই প্রথম ফলতায় যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং স্থানীয় উন্নয়ন সংক্রান্ত কোনও বার্তা উঠে আসে কি না, সেদিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। সভাকে ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। অনেকে বলছেন, পুষ্পা অর্থাৎ ফলতার জাহাঙ্গির ইস্যুতেও কথা বলতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী। কড়া বার্তা দিতে পারেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে। আজই ফলতার শ্রীনাথ ইনস্টিটিউশনের মাঠেও একটি জনকল্যাণ শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের নিয়ে এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা ও প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সভাস্থলে প্রস্তুতি তুঙ্গে। মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। সভাস্থলে আগেভাগেই কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গিয়েছে।
মগজাস্ত্রের খেলায় দিল্লিতে ওজন বাড়ল শুভেন্দুর! মোদী-শাহের দরবারে সবচেয়ে ‘ব্লু আইড বয়’। সিটিজেন্স পার্টির ভবিষ্যৎ কী ভগবান জানে! তবে লোকসভায় তৃণমূলের ২০ জন সাংসদকে এনডিএ জোটে টেনে এনে দিল্লির বুকে এক চরম মাস্টারস্ট্রোক দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই মেগা অপারেশনের পর দিল্লির সমীকরণ যেভাবে বদলে গেল, তাতে বাংলার গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও শুভেন্দুর গুরুত্ব এখন আকাশছোঁয়া বলে মনে করছেন অনেকেই। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের কাছে তিনি এই মুহূর্তে সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও সফল বাজি। এই রাজনৈতিক অঙ্কের সবটা বুঝতে গেলে ফিরে যেতে হবে ১৫ বছর আগের ইতিহাসে। দিল্লিতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন ইউপিএ সরকারে তৃণমূল তখন অন্যতম প্রধান শরিক। লোকসভায় তাঁদের সাংসদ সংখ্যা ছিল ২০। আবার বাংলাতেও তখন ক্ষমতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে সংসদের ভেতরে ও বাইরে কংগ্রেসের পরেই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক গুরুত্ব উপভোগ করত তৃণমূল। সেই চেনা সমীকরণকেই ফিরিয়ে আনলেন শুভেন্দু অধিকারী। মজার ব্যাপার হল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন, তখন তাঁর বয়স ছিল আনুমানিক ৫৫ বা ৫৬ বছর। কাকতালীয়ভাবে এখন শুভেন্দু অধিকারীর বয়সও ঠিক ৫৫ বছর এবং তিনিও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। একদিকে বাংলা থেকে বিজেপির নিজস্ব ১২ জন নির্বাচিত সাংসদ লোকসভায় রয়েছেন, তার সঙ্গে শুভেন্দুর মগজাস্ত্রে যুক্ত হলো সিটিজেন্স পার্টির আরও ২০ জন সাংসদ। ফলে সব মিলিয়ে ৩২ জন সাংসদের একটা মস্ত বড় ‘বেঙ্গল ব্লক’ তৈরি করে ফেললেন শুভেন্দু, যাঁরা প্রতি মুহূর্তে মোদী-অমিত শাহর পাশে ঢাল হয়ে থাকবেন। দিল্লিতে মোদী-শাহকে এই কঠিন সময়ে বড়সড় সংসদীয় স্বস্তি দিয়েই শুভেন্দু নিজের রাজনৈতিক ওজন বহুগুণ বাড়িয়ে নিলেন। এখন দিল্লির অলিন্দে সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয় হল— এনসিপিআই-এর এই বিদ্রোহী নেতারা কি মোদী মন্ত্রিসভায় কোনও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক পাবেন? তাঁদের কি আদৌ সেই দরকষাকষি করার ক্ষমতা রয়েছে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, লোকসভায় এনসিপিআই-এর সাংসদদের দরকষাকষির জায়গাটা আদতে অত্যন্ত দুর্বল। তার মূল কারণ— এই ২০ জন সাংসদের মধ্যে এমন কোনও অবিসংবাদিত বা সর্বজনগ্রাহ্য ‘একক’ নেতা নেই, যাঁর কথায় সবাই এককাট্টা। এমনকি এঁরা কেউই এই মুহূর্তে ভাবতেই পারছেন না যে নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহ নিজে থেকে যেচে তাঁদের কাউকে মন্ত্রী করবেন। এই বিদ্রোহী ব্লকের নিজেদের মধ্যেই পদের রেষারেষি তুঙ্গে। লোকসভায় তাঁদের দলনেতা কে হবেন (সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়), উপ-দলনেতা কে হবেন (শতাব্দী রায়) বা মুখ্য সচেতক কে হবেন— তা নিয়েই গত কয়েকদিন ধরে পর্দার আড়ালে তীব্র টানাপোড়েন চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে যদি এই ২০ জনের মধ্য থেকে কোনও একজনকে মন্ত্রী করা হয়, তবে অন্যজন তা আদৌ মেনে নেবেন কিনা, তা নিয়ে মস্ত বড় সংশয় রয়েছে। ফলে, এই দল থেকে যদি কাউকে মন্ত্রী করাও হয়, তবে তা সম্পূর্ণ নির্ধারণ করবে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বই। কাকে মন্ত্রী করা হবে আর কাকে বাদ দেওয়া হবে— সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বা স্বাধীনতাও এনসিপিআই নেতাদের নেই। এনডিএ জোটে বর্তমানে বিজেপির বাইরে সবচেয়ে বড় শরিক দল হলো চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলুগু দেশম পার্টি। লোকসভায় তাদের সাংসদ সংখ্যার ভিত্তিতে তারা কেন্দ্রে দুটি মন্ত্রক পেয়েছে— যার মধ্যে একজন পূর্ণ মন্ত্রী (ক্যাবিনেট) এবং একজন প্রতি মন্ত্রী। আসন সংখ্যার সমীকরণে এনসিপিআই-এর হাতেও এখন ২০ জন সাংসদ। সেই সাধারণ গাণিতিক হিসেব ধরলে, এনসিপিআই থেকে অন্ততপক্ষে একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং একজন প্রতি মন্ত্রী হওয়া উচিত। তবে চন্দ্রবাবুর মতো আঞ্চলিক স্তরে জিতে আসা দল আর তৃণমূল থেকে দলবদল করে আসা নেতাদের গুরুত্ব যে মোদী-শাহের দরবারে এক হবে না, তা বলাই বাহুল্য। তাই এই নতুন দল থেকে কেউ মন্ত্রিত্ব পাবেন কিনা, তা নিয়ে এখনও রহস্য বজায় রয়েছে। পূর্ণ মন্ত্রী পাচ্ছে বাংলা! মন্ত্রিত্বের দৌড়ে শমীক থেকে সৌমিত্র। এনসিপিআই মন্ত্রক পাবে কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, একটি বিষয়ে রাজনৈতিক মহল এখন একপ্রকার নিশ্চিত— পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেন্দ্রে এবার এক বা দু’জনকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী তথা পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে। বর্তমানে রাজ্য থেকে সুকান্ত মজুমদার এবং শান্তনু ঠাকুর কেন্দ্রে প্রতি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। দিল্লির অন্দরের খবর, রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে এবার সরাসরি কেন্দ্রে পূর্ণ মন্ত্রী করে দেওয়া হতে পারে। আর শমীকবাবু দিল্লিতে মন্ত্রী হলে, রাজ্য সংগঠনে স্বাভাবিক নিয়মেই সভাপতি পদে নতুন মুখ আনা হতে পারে। তা ছাড়া, এবারের ক্যাবিনেট সম্প্রসারণে মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতার নিরিখে অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-ও। সব মিলিয়ে, দিল্লির কুর্সি সুরক্ষিত করার এই মেগা নাটকে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে মন্ত্রিত্বের শিকে ছেঁড়ে এবং শুভেন্দু অধিকারী তাঁর কোটা থেকে কতজনকে দিল্লির মসনদে বসাতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।




