RK NEWZ সঞ্জয় দাসের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া বলেন, ‘‘দুর্ভাগ্যজনক যে, সিএবি পদাধিকারীরা কর্তা হয়েও সংস্থার গঠনতন্ত্র জানেন না। মিডিয়ায় কিছু বলার আগে সব সময় হোমওয়ার্ক করে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের নামে মন্তব্য করার আগে। আমি নিশ্চিত, যদি উনি ভালো করে সব খতিয়ে দেখেন, তা হলে বুঝবেন যে ডিসকোয়ালিফিকেশন আর কুলিং, দু’টো আলাদা বিষয়। উনি (পড়তে হবে সঞ্জয়) লিগ্যাল ব্যাকগ্রাউন্ডের নন। বুঝতে ওঁর অসুবিধে হতেই পারে। উনি তাই সিএবি-র লিগ্যাল কাউন্সেল সম্রাটবাবুর (সেন) সাহায্য নিতে পারেন।’’
প্রত্যুত্তরে সঞ্জয় বলেন, ‘‘আমার কম শিক্ষা থেকে এটুকু বুঝি, পরপর দু’টো টার্ম হয়ে গেলে থাকা যায় না। অভিষেক আমাকে এটা বুঝিয়ে দিন, সমস্যা না থাকলে, উনি তা হলে চুরাশি মাসই বা থাকলেন কেন? আরও তো বেশি সময় থাকতে পারতেন। তা হলে তো ন’-দশ বছরও অনায়াসে থাকতে পারতেন। প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় টার্ম শেষ হওয়ার আগে চার মাস আগে পদ ছেড়ে দেন। তিনি তা হলে আটষট্টি মাস থাকলেন কেন? ছ’বছর, অর্থাৎ বাহাত্তর মাস কেন থাকলেন না? অভিষেক ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই সরে যেতে পারতেন। কিন্তু উনি সেটা করেননি। পরের বছর অক্টোবরে গিয়ে সরে যান। সেটাও বা তা হলে কেন সরলেন? আরও থেকে যেতে পারতেন। সেটা হল না কেন?’’
অভিষেক ঘনিষ্ঠদের যুক্তি ছিল, কর্তাদের ‘ইনএলিজিবিলিটি’ দুই রকম। প্রথম শর্ত, সত্তরোর্ধ্ব হয়ে গেলে কিংবা ভারতীয় না হলে, প্রভৃতি। দ্বিতীয়ত, কোনও পদাধিকারী যদি দু’টো টার্ম সম্পন্ন করার পর তিন বছরের কুলিং অফে না যান, নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। বলা হচ্ছিল, অভিযেক তো নির্বাচনে লড়েননি। তা হলে কত দিন বাড়তি থাকলেন, তাতে সমস্যা কোথায়? অভিষেক নিজেও বলেন, ‘‘২০০ সালের ২ আগস্টে সম্রাটবাবুর একটা মতামত দেওয়া হয়েছে বোর্ডকে। তার মধ্যে এই তুলনার ব্যাপারটা বিশদে বলা রয়েছে। উনি পুরোটা পড়লে বুঝতে পারবেন যে, আমি কোনও নিয়ম ভাঙিনি। সিএবি-র কোনও কমিটিতেও থাকিনি।’’

সিএবিতেও ‘ব্যান’ কালচার? সিএবির আভ্যন্তরীন কার্যকলাপে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়কের থাবা বসানোর অভিযোগ শোনা যায়। সাংবাদিকদের টিকিট বন্টন নাকি আপ্তসহায়কেই করেন, বলে অভিযোগ। এমনকি কোনও কারণ ছাড়াই এক সৎ-নিষ্ঠাবান সাংবাদিকের উপর ‘ব্যান’ তকমাও সেঁটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২২ বছর বিসিসিআই ও আইসিসির প্রায় সব টুর্ণামেন্ট কভার করা ক্রীড়া সাংবাদিককে বিনা অপরাধে অলিখিত নিষিদ্ধ জারি করা রয়েছে। অথচ, সেই সাংবাদিকই সিএবি কর্তাদের (স্কোরার) টিকিট কালোবাজারী ছবি পুলিশের সামনে হাজির করেছেন(ভাইরাল ভিডিওতেই স্পষ্ট)। অন্দরমহলের এই ছবি ধরে দেওয়া কি অপরাধ? প্রশ্ন ক্রিকেটপ্রেমীদের? সব ঘটনার সিএবি প্রেসিডেন্টকে বারবার জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। সিএবি কোষাধ্যক্ষ বারবার সৌরভকে বিষয়টা দেখতে বললেও, মহারাজ জানান, ‘আমি বিষয়টা দেখে নিচ্ছি’। সব মিলিয়ে, বাংলার ক্রিকেট সংস্থায় নিয়োগ দুর্নীতি, অবৈধ নিয়োগে স্বজনপোষন ও দাগি অস্বচ্ছ ব্যক্তি নিয়োগের অভিযোগ থেকে শুরু করে কর্তার বয়স ভাঁড়ানোর অভিযোগে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের রাজত্বে সিএবিতে তীব্র অভিযোগ ও বিতর্কের আগুন যেন থেমেও থামছে না। কখনও লোধা আইন ভেঙে সংস্থার যুগ্ম সচিব মদন ঘোষের পদ ‘আঁকড়ে’ (লোধা আইন অনুযায়ী সত্তরোর্ধ্ব হলে প্রশাসনিক পদ ছেড়ে দিতে হয়, মদন যা এখনও করেননি) থাকার প্রেক্ষিতে সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস টেনে আনছেন প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়ার প্রসঙ্গ। বলে দিচ্ছেন, ‘‘উনিও তো কুলিং অফ শুরু হয়ে যাওয়ার পরেও দশ-এগারো মাস বাড়তি ছিলেন।’’ অভিষেক যার পালটা দিচ্ছেন। সেই পালটার প্রেক্ষিতে ফের মুখ খুলছেন সিএবি কোষাধ্যক্ষ সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’। মাঝেমধ্যেই কথায় কথায় সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ বন্ধু কর্তাকে বলতে শোনা যায় — মহারাজ নাকি এই কর্তাকে আশ্বাস দিয়ে থাকেন —‘তুই যা করার কর, আমি বাকিটা বুঝে নেবো’।
তাহলে কী টলিউড ইন্ডাস্ট্রির মতোই সিএবিতে হুমকি রাজ, স্বজনপোষন, কালো অধ্যায়ের রাজত্ব প্রাধান্য?
প্রশ্ন ক্রিকেট মহলের।





