RK NEWZ নয়া দিল্লির ৬-এ, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপি সদর দপ্তরে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ও বাংলার বিজেপি পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। রাজ্য মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বন্টন হওয়ার কথা। কোন নেতাকে কোন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা ঠিক করতেই এ দিন সকালে দিল্লি উড়ে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে হাসিমুখে বিজেপির সদর দপ্তর থেকে বেরতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। রাতেই তিনি ফিরে আসছেন কলকাতায়। তারপরই দায়িত্ব বণ্টনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে জানা যাচ্ছে। নয়া দিল্লির ৬-এ, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপি সদর দপ্তরে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ও বাংলার বিজেপি পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময়ের বৈঠকের শেষে হাসি মুখে বেরিয়ে যান তিনি। সব কিছু ঠিক থাকলে ফিরে এসে শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বন্টনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারেন বলেই খবর। ৯ মে, রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে বাংলায় গেরুয়া শিবিরের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবেশ শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে অগ্নিমিত্রা পল, দিলীপ ঘোষ-সহ মোট ৬ জন পশথ নেন। তারপর থেকে তাঁরাই বিভিন্ন দপ্তর সামলাচ্ছেন। সোমবার পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা পান শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী-সহ এখন মন্ত্রিসভার মোট সদস্য ৪১। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী। অগ্নিমিত্রা, দিলীপ, ক্ষুদিরাম, অশোক কীর্তনীয়ারা প্রথম দিন দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তবে নতুন ৩৫ জন এখনও কোনও দপ্তরের দায়িত্ব পাননি। ক্যাবিনেট বৈঠকে তাঁদের দপ্তর বন্টনের কথা থাকলেও তা হয়নি। সেই কাজ শেষ করতেই আজ, শুক্রবার দিল্লিতে যান মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। একদিকে শাসক ও বিরোধী শিবিরের একাধিক সাংগঠনিক রদবদল, অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে ঘিরে চলা তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া – সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহ বর্তমানে অত্যন্ত উত্তপ্ত। এমন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর এবং সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককে ঘিরে নানা মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সংসদে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনের জল্পনা, আসন্ন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ, সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলি আলোচনার তালিকায় ছিল কি না, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সরকারি সূত্রে কোনও তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় বৈঠকের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও ধোঁয়াশায়। ফলে দিল্লির এই উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। এখন নজর রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার দিকে। বৈঠকের বিস্তারিত সামনে এলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





