RK NEWZ ম্যাচের ২৮ মিনিটে মায়ামির প্রাক্তন স্ট্রাইকার হোসে মার্তিনেজ় পেনাল্টি থেকে গোল করে কলম্বাসকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর, ৩৩ মিনিটে তৈরি হয় সেই জাদুকরী মুহূর্ত। ডানপ্রান্তে, ১৮ গজ বক্সের বাইরে এবং কর্নার পতাকার একদম কাছাকাছি অঞ্চল থেকে ফ্রি-কিক পায় মায়ামি। বিপক্ষের গোলরক্ষক প্যাট্রিক শুল্ট থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের প্রতিটি দর্শক যখন বক্সে উড়ে আসা ক্রসে হেডের অপেক্ষায় ছিলেন, তখনই নিজের বাঁ পায়ের জাদু দেখান মেসি। নিখুঁত মাপে বলটিকে হাওয়ায় বাঁক খাইয়ে হিউম্যান ওয়ালের ওপর দিয়ে সেকেন্ড পোস্টের টপ কর্নারে জড়িয়ে দেন তিনি। শুল্টের মরিয়া ডাইভও আটকাতে পারেনি সেই গোলা। এই অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখে ধারাভাষ্যকররাও অবাক হয়ে যান। পেশাদার ফুটবলে মেসির গোল সংখ্যা। এই গোলের মাধ্যমে পেশাদার ফুটবলে মেসির মোট গোলসংখ্যা গিয়ে পৌঁছল ৯৩১-এ। তবে সবচেয়ে বড় আলোড়ন তৈরি হয়েছে ফ্রি-কিকের পরিসংখ্যানে। এটি ছিল তাঁর কেরিয়ারের ৭৬তম ফ্রি-কিক গোল। ফলে ব্রাজ়িলীয় কিংবদন্তি মার্সেলিনো ক্যারিওকার সর্বকালের সর্বাধিক ৭৭টি ফ্রি-কিক গোলের বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করা এখন মেসির জন্য শুধুই সময়ের অপেক্ষা। ইন্টার মায়ামির জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাঁর ১২তম ফ্রি-কিক গোল, যার মধ্যে ৬টিই এসেছে চলতি মরশুমে। এছাড়া চলতি MLS-এ ২১টি গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিন গোলে এগিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি। তবে বিশ্বমানের ফ্রি কিকের দিনেও দলের পরিণতি সুখকর হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে সান্তিয়াগো মোরালেস লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে চাপে পড়ে মায়ামি। এরপর অতিরিক্ত সময়ের অষ্টম মিনিটে জামাল থিয়ারে গোল করে কলম্বাসকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন। এই পরাজয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে ২৭ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরেই থাকতে হলো মায়ামিকে। ৩৯ বছর বয়সটা অধিকাংশ ফুটবলারের ক্ষেত্রে যেখানে অবসরে কাটে, সেখানে লিওনেল মেসির কাছে বয়স যেন স্রেফ ক্যালেন্ডারের একটি পাতা। নিজের বিশের কোঠার সেই চেনা ক্ষিপ্রতা আর তুলির টানে প্রতি ম্যাচেই অসম্ভবকে সম্ভব করে চলেছেন আর্জেন্তাইন মহাতারকা। জাতীয় দলের জার্সি চিরতরে তুলে রাখার ঠিক প্রাক্কালে ইন্টার মায়ামির হয়ে ওহাইওর স্কটসমিরাকল গ্রো ফিল্ডে কলম্বাস ক্রুর বিরুদ্ধে তেমনই এক অবিশ্বাস্য ফুটবলীয় মাস্টারপিসের সাক্ষী থাকল গোটা বিশ্ব।



