Thursday, March 19, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘বাংলার উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’ তৃণমূলের নতুন স্লোগান!‌পুরানো স্লোগান ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ বাতিল?‌ জোর প্রচার শুভেন্দুরও

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর কেন্দ্র। জোর টক্কর। কলকাতা পুরসভার ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ ও ৮২ ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ভবানীপুর বিধানসভা। বর্তমানে সব ক’টি ওয়ার্ডেই কাউন্সিলরেরা তৃণমূলের। কিন্তু লোকসভা কিংবা বিধানসভা নির্বাচনে এই সব ওয়ার্ডগুলির মধ্যে পাঁচ-ছ’টিতে ভালো ব্যবধানে এগিয়ে যায় বিজেপি। যেহেতু এ বার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, তাই সাবধানে পা ফেলছে শাসকদল তৃণমূল। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে সেই একই ধাঁচে স্লোগান তৈরি করে ফেলল শাসকদল। ভবানীপুরে মমতার জন্য নতুন স্লোগান। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ স্লোগান দিয়ে ভোটে বাজিমাত করেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। ’২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে সেই একই ধাঁচে স্লোগান তৈরি করে ফেলল শাসকদল। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর নেতৃত্বে ভবানীপুরের প্রিয়নাথ মল্লিক রোডের কার্যালয়ে এক বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলরেরা। সেই বৈঠকে দলের কাউন্সিলরদের ভোটের কৌশল এবং প্রচারের রণনীতি ঠিক করে দেওয়ার পাশাপাশি, নতুন একটি স্লোগান ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি। তা হল, ‘বাংলার উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’। বৈঠকে রাজ্য সভাপতির দেওয়া নির্দেশ প্রসঙ্গে দলের কোনও কাউন্সিলর বা নেতা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। তবে দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নম্র ভাবে জনসংযোগ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কাউন্সিলরদের। পাশাপাশি সব ওয়ার্ডে কর্মিসভা করতেও বলা হয়েছে। সেই সব কর্মিসভায় হাজির থাকবেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত-সহ কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা রাসবিহারীর বিধায়ক দেবাশিস কুমার। দলীয় প্রচার যাতে কোনও ভাবেই আগ্রাসী না হয়, সেই বিষয়ে কাউন্সিলর এবং নেতাদের বিশেষ নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন বক্সী। বৈঠকে হাজির এক নেতার কথায়, ‘‘বক্সীদা আমাদের সবাইকে ‘গো ইন অ সফট মোড’ লাইনটি মেনে চলতে বলেছেন। সঙ্গে বিরোধীদের কোনও প্ররোচনায় পাওয়া দেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবানীপুরের জন্য বিধায়ক হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী কী উন্নয়নের কাজ করেছেন, তা লিফলেটের মাধ্যমে প্রচার করতে বলা হয়েছে। সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে ‘বাংলার উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’ স্লোগানটি বিধানসভা এলাকার মানুষের মনে গেঁথে দিতে হবে।’’ কলকাতা পুরসভার ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ ও ৮২ ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ভবানীপুর বিধানসভা। বর্তমানে সব ক’টি ওয়ার্ডেই কাউন্সিলরেরা তৃণমূলের। কিন্তু লোকসভা কিংবা বিধানসভা নির্বাচনে এই সব ওয়ার্ডগুলির মধ্যে পাঁচ-ছ’টিতে ভালো ব্যবধানে এগিয়ে যায় বিজেপি। যেহেতু এ বার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, তাই সাবধানে পা ফেলছে শাসকদল তৃণমূল।

ভবানীপুর বিধানসভার বিজেপি কর্মীদের নিয়ে প্রচারে নামেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রচার সেরে কর্মীদের অভিযোগ পেয়ে ভবানীপুর থানাতেও যান। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভোটযুদ্ধ হতে চলেছে ভবানীপুর বিধানসভায়। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোটের ময়দানে বিজেপি প্রার্থী করেছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। সেই যুদ্ধে নিজের প্রথম চাল হিসাবে প্রচার শুরু করে দিলেন পদ্মশিবিরের প্রার্থী। বৃহস্পতিবার সকাল সকাল কলকাতা পুরসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে ভবানীপুর বিধানসভার বিজেপি কর্মীদের নিয়ে প্রচার নামেন তিনি। প্রচার সেরে কর্মীদের অভিযোগ পেয়ে ভবানীপুর থানাতেও হানা দেন শুভেন্দু। বদলির আবহেই পুলিশকে হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। বিজেপি নেতা তাপস রায় এবং দক্ষিণ কলকাতা বিজেপির সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্যকে সঙ্গে নিয়ে চক্রবেড়িয়া এলাকার একটি বাজারে দীর্ঘক্ষণ প্রচার চালান তিনি। কথা বলেন এলাকার বাসিন্দা ও দোকানিদের সঙ্গেও। ভবানীপুরের বাসিন্দাদের সুবিধা অসুবিধার কথা যেমন জানতে চান, তেমনই এলাকার তৃণমূলের নেতারা কোনও অন্যায় বা অত্যাচার করছেন কি না, তা-ও জানাতে চান নন্দীগ্রামের বিদায়ী বিধায়ক। কোথাও কোথাও শুভেন্দুকে মেটে সিঁদুরের তিলক পরিয়ে, কোথাও আবার তাঁর গলায় মালা পরিয়ে কর্মী সমর্থকেরা বরণ করে নেন। ঢাকঢোল পিটিয়ে শুভেন্দুর নামে জয়ধ্বনি দিয়েও কর্মীরা প্রচার করেন। মাঝে একটি জায়গায় তৃণমূলে জনা দশেক কর্মী পতাকা হাতে, ‘মমতা ব্যানার্জি জিন্দাবাদ’, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। তাতে সাময়িক উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হলেও পুলিশি হস্তক্ষেপে বড়সড় কোনও গোলমালের ঘটনা ঘটেনি।মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার আগে চক্রবেড়িয়া রোডে নিজের একটি পার্টি অফিসও তৈরি করেছেন শুভেন্দু। এলাকা প্রদক্ষিণ করে সেই পার্টি অফিসে গিয়ে প্রচার শেষ করেন। সেখানেই ভবানীপুর বিধানসভার আটটি ওয়ার্ডের সভাপতি এবং তিনটি মণ্ডলের সভাপতিদের নিয়ে বৈঠকে বসেন বিরোধী দলনেতা। দক্ষিণ কলকাতা বিজেপি সূত্রে খবর, সেখানেই সভাপতিরা তাঁকে অভিযোগ করেন, ভবানীপুর থানা থেকে অপরিচিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে বিজেপি কর্মীদের ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ, বলা হচ্ছে, বিজেপির হয়ে ভোট করাতে নামলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে, নানা অসুবিধার মধ্যে পড়তে হবে। এমন অভিযোগ পেয়েই দলবদল নিয়ে চক্রবেড়িয়ার পার্টি অফিস থেকে রওনা দেন ভবানীপুর থানার উদ্দেশে। থানায় পৌঁছেই উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের উপর ক্ষোভ উগরে দেন শুভেন্দু। সেখানেই তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ ওয়েলফেয়ার প্রধান শান্তুনু সিংহ বিশ্বাসের নির্দেশেই বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। এমনটা হলে তিনিও যে পুলিশ প্রশাসনকে ছেড়ে কথা বলবেন না, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles