মুস্তাফিজুর রহমান নেই। হর্ষিত রানা চোটের জন্য ছিটকে গিয়েছেন। মাথিশা পাথিরানা কবে থেকে যোগ দেবেন সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আপনি যদি কেকেআর সমর্থক হন, তাহলে হয়তো ইতিমধ্যেই আপনার হৃদকম্প শুরু হয়েছে। দাঁড়ান, আরও বাকি আছে। মরশুমের শুরুতে এই অনিশ্চিত তারকাদের তালিকাটা আরও অনেকটাই লম্বা হতে চলেছে। এই তালিকায় জুড়তে চলেছে সুনীল নারিন, রভম্যান পাওয়েলের নামও। আর হ্যাঁ, আন্দ্রে রাসেল যিনি এবার নাইট ডাগআউটে বসবেন পাওয়ার কোচ হিসাবে তাঁরও কেকেআরে যোগ দেওয়ার দিনক্ষণের কোনও নিশ্চয়তা নেই। সৌজন্যে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। আসলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জন্য দুবাই, দোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্টে এখনও স্বাভাবিক নয় বিমান পরিবহণ। যার জেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটাররা সদ্য বাড়ি ফিরেছেন। সমস্যা হল ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ভারতে আসার বিমান এখনও মিলছে না। সুনীল নারিন, রভম্যান পাওয়েলরা বারবার টিকিট কেটেও ভারতে আসার রাস্তা পাচ্ছেন না। বারবার বিমান বাতিল হচ্ছে। তাছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ভারতে আসতে আগে ভিসা অন অ্যারাইভাল পাওয়া যেত। আগাম ভিসার প্রয়োজন হত না। কিন্তু যুদ্ধের আবহে আগাম ভিসার প্রয়োজন পড়ছে। যে ভিসা আবার সুনীল নারিনের নেই।

কলকাতা নাইট রাইডার্সের কর্তাব্যক্তিরা বারবার বলেন, এটা সাধারণ ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়। এটা পরিবার। ক্রিকেটারদের সঙ্গে কেকেআরের আত্মিক যোগ। যে কারণে প্রতি বছর নিলামে একটা চমকপ্রদ ব্যাপার দেখা যায়। সেটা হল যেখানে অন্য দলের ক্রিকেটাররা রিটেন হওয়ার জন্য বোর্ডের বেঁধে দেওয়া সর্বোচ্চ সীমার চেয়েও বেশি টাকা দাবি করেন, সেখানে কেকেআর তারকারা অনেক কম টাকায় রাজি হয়ে যান। গত মরশুমেই ধরা যাক না, আরসিবি, সানরাইজার্সের মতো দল যেখানে দলের সেরা তারকাদের রিটেন করতে ২১ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করেছে, সেখানে কেকেআর নিজেদের সেরা তারকাদের রিটেন করেছে মাত্র ১৩ কোটি টাকায়। শুধু রিটেনশনের ক্ষেত্রে নয়। অনেক ক্রিকেটারকেই চুক্তি না থাকলেও সাহায্য করে নাইটরা। চোটের পর যেভাবে কমলেশ নাগারকোটি, চেতন সাকারিয়া, শিবম মাভিদের কেকেআর লোকচক্ষুর আড়ালে সাহায্য করেছে, সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়। দল থেকে বিদায় নেওয়ার পরও ক্রিকেটারদের দেখভাল করে কেকেআর। এবার তেমনই একজনকে নতুন করে চাকরি দিল নাইটরা। একজন চরিত্র। যাঁকে গত দু’দিন ধরে নাইট সংসারে ক্রমাগত দেখা যাচ্ছিল। কেকেআরের প্রথম আইপিএল ফাইনালের মহানায়ক যিনি। মনবিন্দর বিসলা। কেকেআরের জার্সিতে বেশ কয়েকটি মরশুম খেলেছেন এই উইকেটরক্ষক ওপেনার। এমনিতে যে নাইট জার্সিতে তাঁর সাফল্য বা অর্জন বিরাট, তেমন বলা যাবে না। কিন্তু এই বিসলাকে কেকেআর মনে রাখবে একটা ম্যাচের জন্যই। সেটা ২০১২ আইপিএলের ফাইনাল। ৪৮ বলে ৮৯ রানের সেই মহানায়োকচিত ইনিংসে কেকেআর ভক্তদের মনের মণিকোঠায় স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছেন বিসলা। ওইদিন বিসলা জ্বলে না উঠলে হয়তো অন্যরকমভাবে লিখতে হত নাইট ইতিহাস। অথচ ইদানিং ক্রিকেটমহল থেকে একপ্রকার হারিয়ে গিয়েছিলেন। বেশ কিছুদিন সেভাবে দেখা পাওয়া যায়নি। সেই বিস্মৃত নায়ককে এবার নতুন ভূমিকায় নিয়োগ করল নাইটরা। হেড অফ স্কাউট। অর্থাৎ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিভা অন্বেষণ করাটা তাঁর কাজ। এই স্কাউটিং করেই বহু তারকাকে তুলে এনেছে কেকেআর। তবে এই কাজে সিদ্ধহস্ত মুম্বই। এবার কেকেআরও চায় আরও প্রতিভা তুলতে। সেই গুরুদায়িত্ব বিসলার কাঁধে।
দিন দশ পরেই আইপিএলের ঢাকে কাঠি। ইডেনে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আগে বিতর্কে জড়ালেন আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি বিদেশি ক্যামেরন গ্রিন। অজি তারকাকে বাঁচাতে ক্ষমা চাইতে হল সহকারী কোচকে। অস্ট্রেলিয়ার শেফিল্ড শিল্ডের একটি ম্যাচের। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বনাম নিউ সাউথ ওয়েলসের ম্যাচ চলছিল। কিন্তু তাল কাটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমের বাইরের একটি ঘটনায়। তৃতীয় দিনের শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন গ্রিন। শুরুটা স্বাভাবিকই ছিল। প্রথম ইনিংসে শতরান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গ্রিন বলেন, “হ্যাঁ, এটা অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়। প্রথম তিন দিন আমরা ভালো খেলেছি, আশা করছি ম্যাচও জিতব।” সাম্প্রতিক অতীতে তাঁর খারাপ ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিতিবিরক্ত হয়ে ওঠেন। “আমি এই প্রশ্নের উত্তর দেব না। পরের প্রশ্ন করুন,” রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে ওঠেন কেকেআরের এই ক্রিকেটার। ঘটনার শেষ এখানেই নয়। সাংবাদিক সম্মেলন শেষে ওই সাংবাদিককে গ্রিন বলেন, “আপনি সময় নষ্ট করেন।” পালটা জবাবে ওই সাংবাদিক জানান, গোটা দিন অপেক্ষা করেছেন তিনি। এমন কথা শোনার পর গ্রিনের উত্তর, “তাহলে কেন আমার পিছনে পড়ে আছেন?” পরে অবশ্য য়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সহকারী কোচ বিউ কাসন ক্ষমা চেয়ে নেন। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘দ্য এজ’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মাঠের বাইরেও মানসিকভাবে খুব একটা স্বস্তিতে নেই গ্রিন। সাংবাদিক টম ডেসেন্ট তাঁর সাক্ষাৎকার নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।
আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি বিদেশির তকমা এখন ক্যামেরন গ্রিনের। অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডারকে মিনি নিলামে রেকর্ড ২৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় কিনে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। আন্দ্রে রাসেলের পরিবর্ত হিসাবে তাঁকে দলে নিয়েছে নাইটরা। তবে দেশের জার্সিতে তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম কেকেআরের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নেটিজেনরা বলছেন, আইপিএলের মতো বিশ্বমানের লিগে মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে হবে। সেখানে মেজাজ হারালে চলবে না। এখন দেখার, আসন্ন আইপিএলে নাইটদের কতটা অক্সিজেন জোগাতে পারেন





