বাংলায় ভোটের তর্জন গর্জন শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দুষ্কৃতীরাও। পুলিশ সতর্ক থাকায় ভেস্তে যাচ্ছে দুষ্কৃতীদের প্ল্যান। শহর কলকাতায় বড়সড় অস্ত্র পাচারের ছক বানচাল করেছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কসবা থানা এলাকায় হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ সহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল গুণ্ডাদমন শাখারবিশেষ টিম। ধৃতের নাম মহম্মদ ইশতিয়াক (৩৮)। সে বিহারের গয়া জেলার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে খবর, মোট ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১১ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি ৭ এমএম পিস্তল, ৩টি ওয়ান শটার ও ১১ রাউন্ড কার্তুজ। পুলিশ সূত্রে খবর, বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে ওই অস্ত্রগুলি এ রাজ্যে আসছিল। তবে ধৃত ব্যক্তি কোথায় বা কাদের কাছে এত পরিমাণ অস্ত্র পৌঁছে দিচ্ছিল, তা এখনও জানা যায়নি। ধৃত মহম্মদ ইশতিয়াককে জেরা করছে পুলিস। ঘটনার পিছনে কোনও প্রভাবশালী যোগ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের গুণ্ডাদমন শাখা।ভোটের মুখে চলছে কড়া নজরদারি। বাগুইআটিতে নাকা চেকিংয়ের সময় পিস্তল সহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সল্টলেক, নারায়ণপুর, এয়ারপোর্ট এবং নিউটাউনে আরও চারটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার। এই চারটি পৃথক ঘটনায় অস্ত্র আইনে চারজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার নাইট পেট্রোলিংয়ের সময় সল্টলেক থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানা। ধৃতের নাম মহম্মদ সোনু। তার থেকে একটি দেশি পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। ওইদিন রাতে নাকা চেকিংয়ের সময় এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র সহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম শেখ নাজিম। তার থেকে একটি দেশি পিস্তল এবং এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। ইকোপার্ক থানার পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র সহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম সাজিদ আলি। তার কাছ থেকে একটি দেশি পিস্তল এবং এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র সহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণপুর থানার পুলিশ। ধৃতের নাম শেখ ফিরোজ। তার কাছ থেকে একটি দেশি পিস্তল এবং এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার। ভিনরাজ্য থেকে বঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র আদানপ্রদান নিয়ে তৎপর রেল পুলিশ। আর তাতেই বিহারের ভাগলপুর থেকে উদ্ধার প্রচুর দেশি অস্ত্র। তার মধ্যে রয়েছে দেশি কার্তুজ, পিস্তল তেমনই রয়েছে ছুরিও। এছাড়া মোবাইল ফোন, আধার কার্ডও উদ্ধার হয়েছে। আরপিএফ এবং জিআরপি-র টাস্ক ফোর্সের যৌথ অভিযানে এসব বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর। ‘রেল মদত’ অ্যাপে মহিলা যাত্রীর সোনার হার ছিনতাইয়ের অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমে এসব আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পর আরও সতর্ক রেল পুলিশ। নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতেই রাজ্যজুড়ে কার্যকর হয়েছে নির্বাচনী আচরণবিধি। তার পর থেকেই প্রশাসনের তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আলিপুরদুয়ারে নাকা তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অসমের নম্বর প্লেট লাগানো একটি গাড়ি দেখে সন্দেহ হয় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের। নিয়মমাফিক সেই গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়ির বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখার সময়ই সামনে আসে নগদের বান্ডিল। ৫০০ ও ১০০ টাকার নোটে ভরা একাধিক গুচ্ছ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা বলে জানা গিয়েছে। যার গাড়ি থেকে এই টাকা উদ্ধার হয়েছে, তিনি অসমের বাসিন্দা এবং পেশায় রেশন ডিলার ও সুপারি ব্যবসায়ী। তাঁর নাম বিকেন ঈশ্বরারি। ঘটনার দিন তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে আলিপুরদুয়ারে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় একটি হোটেলে রাত কাটানোর পর মঙ্গলবার সকালে যখন তাঁরা বেরোচ্ছিলেন, সেই সময় এলাকাজুড়ে নাকা চেকিং চলছিল। নির্বাচন আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই জেলা জুড়ে এই ধরনের তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। গাড়িটি থামানোর পর পুলিশ ধাপে ধাপে প্রতিটি অংশ পরীক্ষা করে। তখনই নগদ টাকার হদিস মেলে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, নির্বাচনের ঠিক আগে এত পরিমাণ টাকা নিয়ে রাজ্যে প্রবেশের কারণ কী। যদিও অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর দাবি, তিনি নিয়মিতই অসম থেকে আলিপুরদুয়ারে আসেন এবং বিভিন্ন জিনিস কেনাকাটার জন্য নগদ টাকা সঙ্গে রাখেন। তাঁর কথায়, উদ্ধার হওয়া অর্থ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং বৈধ। পুলিশ এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। নির্বাচনের আবহে এই ধরনের নগদ উদ্ধারের ঘটনায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এই টাকার প্রকৃত উৎস কী এবং তা অন্য কোনও কাজে ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সব মিলিয়ে ভোটের আগে প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্যেই এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আগামী দিনে তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর থাকবে।





