Monday, March 16, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মহিলা কল্যাণ থেকে ভোটের কল্যাণে সঙ্ঘমিত্রাকে স্বরাষ্ট্রে!‌ দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে কমিশন নিয়ে এল ভোটের বিপর্যয় রুখতে!

সম্রাট অশোকের মেয়ের নাম ছিল সঙ্ঘমিত্রা। তাঁর নিষ্ঠার কথা ছিল সুবিদিত। আমলা সঙ্ঘমিত্রা ঘোষও তাঁর কাজে নিষ্ঠার জন্য আমলা মহলে পরিচিত। ৬ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন কমিশন কি কোনও আইএএস অফিসারকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব পদে তুলে আনতে পারে? হয়তো পারে। তবু আমলা মহলের ধারণা হল আগে থেকে নিশ্চয়ই ম্যাপিং করে রেখেছিল কমিশন। সে যাই হোক। ঘটনা হল, রবিবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তার পর ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টার ঘর পার করার আগেই পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিব পদ থেকে জগদীশ প্রসাদ মিনাকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। পরিবর্তে নিয়ে এলো ১৯৯৭ ব্যাচের আইপিএস অফিসার সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে। তাৎপর্যপূর্ণ হল, এই প্রথম বিধানসভা ভোটের সময়ে বাংলায় স্বরাষ্ট্র সচিব পদে থাকবেন কোনও মহিলা আইএএস। সঙ্ঘমিত্রার ৭ বছরের জুনিয়র অফিসার জগদীশ প্রসাদ মিনাকে স্বরাষ্ট্র সচিব করার পর রাজ্য সরকারের ক্ষমতার অলিন্দে অসন্তোষ দেখা গেছিল। জগদীশের সিনিয়র অনেক আইএএস-ই অনুজ আমলাকে এতো উপরে তোলায় খুশি ছিলেন না। তাঁরা মনে করছিলেন, এটা ঠিক পদ্ধতি নয়। সেই ক্ষত শুকোনোর আগেই কমিশন চমক দিল। হতে পারে জগদীশ প্রসাদ মিনাকে ভোটের সময়ে ভিন রাজ্যে পাঠিয়ে দিতে পারে নির্বাচন কমিশন। সম্রাট অশোকের মেয়ের নাম ছিল সঙ্ঘমিত্রা। তাঁর নিষ্ঠার কথা ছিল সুবিদিত। আমলা সঙ্ঘমিত্রা ঘোষও তাঁর কাজে নিষ্ঠার জন্য আমলা মহলে পরিচিত। মহিলা ও শিশু কল্যাণের ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে পশ্চিমবঙ্গ। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে পরিষেবার সম্প্রসারণ বিভিন্ন সূচকে রাজ্যের উন্নতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আইএএস আধিকারিক সঙ্ঘমিত্রা ঘোষের। প্রশাসনিক জীবনে সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হাওড়া জেলার জেলাশাসক ও জেলা সংগ্রাহক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজ্যের সবচেয়ে বড় ও জনবহুল দুই জেলার প্রশাসনিক নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দফতরের সচিব হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এই পদে থেকে তিনি রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এবং নারী, শিশু ও প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ তদারকি করছেন। ১৯৯৭ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের এই আইএএস আধিকারিক প্রায় আড়াই দশকের প্রশাসনিক জীবনে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। বিশেষ করে ন্যাশনাল হেলথ মিশনের (এনএইচএম) রাজ্য প্রধান হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করার সময়ে মহিলা ও শিশুস্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো ও পরিষেবার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলে মনে করা হয়। কমিশন সূত্রে বলা হচ্ছে, সঙ্ঘমিত্রা সৎ ও নিষ্ঠাবান এবং আপসহীন অফিসার বলে পরিচিত। কমিশন স্বরাষ্ট্র সচিব পদে এমন একজনকে খুঁজছিল যিনি খুব নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করবেন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে যে রাজনৈতিক হিংসার সংস্কৃতি রয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে একজন রক্ষণশীল অফিসারই জরুরি বলে মনে করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার ৬ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের মুখ্য সচিব পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। পরিবর্তে সেই পদে নিয়োগ করেছে প্রবীণ আইএএস অফিসার দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে। যে অভিজ্ঞ ও দক্ষ অফিসারকে নবান্ন একদা পাঠিয়ে দিয়েছিল বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরে। সেই আমলাকেই এবার ভোটের সময়ে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তার পদে, যাঁর কাজ হবে ভোটে যাতে কোনও বিপর্যয় না হয় তার মোকাবিলা করা। তাৎপর্যপূর্ণ হল, কেন্দ্রীয় সরকারের সচিব পদে দুষ্যন্ত এমপ্যানেলড হতেই তাঁকে বাংলার মুখ্য সচিব পদে নিয়োগ করা হল। প্রশাসনিক দক্ষতা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন, এই তিন ক্ষেত্রেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে আইএএস আধিকারিক দুষ্যন্ত নারিয়ালার। কয়েক দশকের প্রশাসনিক জীবনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং জাতীয় স্তরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে দুষ্যন্ত নারিয়ালা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই পদে থেকে উত্তরবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের কাজ তদারকি করছেন তিনি। এর পাশাপাশি তাঁর উপর রয়েছে সংশোধনাগার প্রশাসন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের দায়িত্বও। এই ভূমিকায় রাজ্যের জেল প্রশাসন ও সংশোধনাগার ব্যবস্থার সংস্কার এবং আধুনিকীকরণের কাজেও নজর রাখছেন। দুষ্যন্ত নারিয়ালা গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জিটিএ-এর প্রশাসনিক কাজের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি জিটিএ-র প্রধান সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দার্জিলিং পাহাড় এবং সংলগ্ন এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং রাজ্য সরকার ও জিটিএ-র মধ্যে নীতিগত সমন্বয় রক্ষার দায়িত্ব তাঁর উপর বর্তেছে। এর আগে তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা ও সিভিল ডিফেন্স দফতরের প্রধান সচিব হিসেবে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের অগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে রাজ্যে দুর্যোগ মোকাবিলা, ঝুঁকি হ্রাস এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও রয়েছে বৈচিত্র্য। দুষ্যন্ত নারিয়ালা কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক বি.এসসি. এবং আইন বিষয়ে স্নাতক এলএল.বি. ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বিজ্ঞান ও আইন দুটি ক্ষেত্রেই তাঁর শিক্ষা প্রশাসনিক কাজের বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করা হয়। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরে দায়িত্ব পালনের কারণে রাজ্যের নীতি বাস্তবায়ন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে দুষ্যন্ত নারিয়ালার ভূমিকা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে প্রশাসনিক মহলে মনে করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles