“একটা-দুটো ঘটনা তো হতেই পারে। গুলি না চললে তো পুলিশ-আদালতই উঠে যাবে। বিহার-উত্তরপ্রদেশ থেকে অস্ত্র-শার্প শ্যুটারদের আসা-যাওয়া রোখা মুশকিল।” কলকাতায় গুলিকাণ্ডে মন্তব্য মেয়র ফিরহাদ হাকিমের। খুন, গুলি, বোমা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম ওরফে ববি হাকিম বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ। কলকাতার তিলজলা রোডে গুলি চলে। বেনিয়াপুকুর থানা এলাকায় কয়েক জন স্থানীয় যুবক এবং মহম্মদ নিয়াজ ওরফে রাজা নামে বছর তেইশের এক যুবকের মধ্যে অশান্তি হয়। সেই অশান্তির জেরেই রাতে রাজাকে লক্ষ্য করে গুলি চলে বলে অভিযোগ পরিবারের। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
কিছুদিন আগেই হাওড়ায় ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক’ থেকে গুলি করে এক যুবককে খুন করার ঘটনা। উত্তর হাওড়া বিধায়ক গৌতম টৌধুরী ঘনিষ্ঠ এই খুনের অভিযুক্ত খুনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ দিবারাত্র গৌতম চোধুরীর বাইকে পিছনে বসে ঘোরাঘুরি করে এই খুনি। এছাড়া সবসময় গৌতমের ছায়াসঙ্গী এই হারুন। নিহত যুবক এলাকায় প্রোমোটার বলে পরিচিত। নিহত যুবকের নাম সৌফিক খান। পিলখানা এলাকায় ঘটে গুলিকাণ্ড। নিহতের পরিবারের দাবি, হারুন খান এবং রোহিত নামে দুই যুবকই গুলি করেছেন সৌফিককে। হারুন হাওড়ার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব নেতা বলে দাবি বিজেপি নেতা উমেশ রাইয়ের। উমেশের দাবি, উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর ‘ঘনিষ্ঠ’। বাইকে চেপে ঘুরতে দেখা গিয়েছে। সেই ছবি ভাইরাল। অন্য অভিযুক্ত রোহিত অস্ত্র ডিলার। জেলখাটা অভিযুক্ত। খুন হওয়া সৌফিকের সঙ্গে স্থানীয় অপরাধ গ্যাংয়ের যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ বিজেপির। অভিযোগ, বিধায়কের মদতে এলাকায় সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বেড়েছে। দাবি মানতে নারাজ গৌতমেরর সাফাই, মিটিং-মিছিলে আমার সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ যান। কে কী কাজে যুক্ত তা সব সময় জানা সম্ভব নয়। তবে পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে কথা হচ্ছে। এলাকা অশান্তিমুক্ত করা হবে। দুষ্কৃতীরা জেলে থাকবে।
হাওড়ার ডোমজুড়ের সাঁপুইপাড়ায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাবুকে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা গুলি চালায়। বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে কনুই ও কোমর লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা গুলি করে, গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার পেছনে পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছে পরিবার। গুলিবিদ্ধ ওই পঞ্চায়েত প্রধানের নাম দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাবু মণ্ডল। বেলুড়ে সাঁপুইপাড়া বসুকাঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। এলাকায় প্রভাব রয়েছে তাঁর। পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ দেবব্রত মণ্ডল এক সঙ্গীর সঙ্গে বাইকে করে বিয়ের একটি অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন। সেই সময় ষষ্ঠী তলা মালিবাগানের সামনে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, দুটি গুলি লাগে পঞ্চায়েত প্রধানের শরীরে। বাবু মণ্ডলের সঙ্গেই বাইকে ছিলেন অনুপম রানা নামে এক সঙ্গী। তাঁর শরীরেও গুলি লাগে। একেবারে রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জনে সেখানেই লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার খবর পেয়েই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেবব্রতকে দেখতে যান তৃণমূলের জেলা সদর সভাপতি গৌতম চৌধুরী। গুলিবিদ্ধ তৃণমূল নেতা দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাবু৷ রাতে বাড়ির কাছেই একটি বিয়েবাড়িতে গিয়েছিলেন দেবব্রত মণ্ডল৷ রাতে সেই বিয়ে বাড়ি থেকে বেরোতেই এক দুষ্কৃতী খুব কাছ থেকে তৃণমূল নেতাকে গুলি করে৷ সেই সময় ওই তৃণমূল নেতার সঙ্গে তাঁর সাত থেকে আট জন সঙ্গীও ছিলেন৷ তাঁর বাঁ হাতের কনুইয়ের পাশে একটি গুলি লাগে৷ দ্বিতীয় গুলিটি লাগে তাঁর কোমরের কাছে৷ রাতেই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় তৃণমূল নেতা দেবব্রত মণ্ডলকে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয়৷
কলকাতায় অভয়া কাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। কলকাতা আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে নারী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, যার জেরে গত কয়েকমাস ধরে জুনিয়র ডাক্তাররা লাগাতার প্রতিবাদ ও কর্মবিরতি পালন করেছেন। এই ঘটনার পর প্রাক্তন অধ্যক্ষের ভূমিকা, প্রশাসনের গাফিলতি, এবং সরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ‘থ্রেট কালচার’ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক। আরজি কর-কাণ্ডের পর বছর না ঘুরতে কলকাতারই আইন কলেজে ছাত্রীকে ধর্ষণ! ধৃতদের তৃণমূল-যোগে সরব বিরোধীরা। কলকাতায় ল কলেজের ভিতরে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে এক জন ল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং কর্মী। ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তিন জনকে। তাঁদের মধ্য এক জন কলেজের প্রাক্তনী এবং বর্তমান কর্মী। অন্য দু’জন এখনও ওই কলেজের পড়ুয়া। এই তিন জনেরই তৃণমূল-যোগ প্রকাশ্যে এসেছে। তার পরেই সরব বিরোধীরা। রাজ্যের শাসকদল মেনে নিয়েছে, মূল অভিযুক্ত তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে এ-ও জানিয়েছে, এখন কোনও পদে নেই তিনি। সেই সঙ্গে এই ঘটনায় দোষীদের কড়া সাজা দাবি করেছে তৃণমূল।
“একটা-দুটো ঘটনা তো হতেই পারে। গুলি না চললে তো পুলিশ-আদালতই উঠে যাবে। বিহার-উত্তরপ্রদেশ থেকে অস্ত্র-শার্প শ্যুটারদের আসা-যাওয়া রোখা মুশকিল।” কলকাতায় গুলিকাণ্ডে মন্তব্য মেয়র ফিরহাদ হাকিমের। খুন, গুলি, বোমা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম ওরফে ববি হাকিম বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ। বিধায়ক, কলকাতা মেয়র, রাজ্যের মন্ত্রীর এ হেন মন্তব্যে রাজ্যবাসীর সামনে রাজ্যের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে?





