ভোট অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করতে এবার বেনজির পদক্ষেপ করবে কমিশন। বেগতিক দেখলে ‘শক্ত সে শক্ত’ কারওয়াই হবে। তাঁর সেই মুখের কথাটাই ধারণায় বদলে দিতে ও রাজ্যের মানুষের আস্থা অর্জনে রবিবার রাতে এক ধাক্কায় রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের ৫ শীর্ষ কর্তাকে সরিয়ে দিল কমিশন। বাংলায় ভোট ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চ নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বাংলায় ভোট ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চ নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বেগতিক দেখলে ‘শক্ত সে শক্ত’ কারওয়াই হবে। তাঁর সেই মুখের কথাটাই ধারণায় বদলে দিতে ও রাজ্যের মানুষের আস্থা অর্জনে রবিবার রাতে এক ধাক্কায় রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের ৫ শীর্ষ কর্তাকে সরিয়ে দিল কমিশন। এঁদের কেউই ভোটের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। পরিবর্তে এমন ৫ জনকে আনা হল, যাঁদের কথা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। শুধু তা নয়, কমিশন সূত্রে এও জানা যাচ্ছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা বা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জেলাওয়াড়ি ডিএম ও এসপি বদলের পালাও শুরু হয়ে যাবে। ভোট ঘোষণার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের ৫ শীর্ষ কর্তাকে এক ধাক্কায় সরিয়ে দেওয়া শুধু বড় ঘটনা বললে কম বলা হবে। এক প্রকার বেনজির। অতীতে কখনও ঘটেনি। ভোট ঘোষণার পর পরই রাজ্যের মুখ্য সচিব পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তী ও স্বরাষ্ট্র সচিব পদ থেকে জগদীশ প্রসাদ মিনাকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। নয়াদিল্লির নির্বাচন সদনের নির্দেশ অনুযায়ী, আইএএস অফিসার দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে (১৯৯৩ ব্যাচ) পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি সিনিয়র আইএএস অফিসার সঙ্গমিত্রা ঘোষকে (১৯৯৭ ব্যাচ) স্বরাষ্ট্র সচিব তথা প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, হোম অ্যান্ড হিল অ্যাফেয়ার্স পদে বসানো হয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আমলা ও পুলিশ মহলের একাংশ ধরে নিয়েছিলেন কমিশন রাজ্য পুলিশের ডিজি পদ থেকে পীযূষ পাণ্ডেকে সরালে পরিবর্তে সেই পদে আনা হতে পারে ফায়ার সার্ভিসের ডিজি অনুজ শর্মাকে। অতীতেও একবার তাই হয়েছিল, তৎকালীন ফায়ার সার্ভিসের ডিজি সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে ভোটের সময়ে ডিজি করেছিল কমিশন। ঘটনা হল, ভোটের ঠিক আগে সঞ্জয়কে ফরেনসিক থেকে ফায়ারে এনেছিল নবান্ন। এবার চমকে দেওয়ার মতো ঘটনা হল, কমিশন সেই চেনা ফাঁদে পা দেয়নি। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সুপারিশ ও পরামর্শই এখানে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি করা হয়েছে সিনিয়র আইপিএস অফিসার সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে। যাঁর নাম একদা সম্ভাব্য ডিজি-র তালিকায় ছিল, কিন্তু নবান্ন তাঁকে সেই পদে বসায়নি। তাতে হয়তো মর্মাহতই ছিলেন সিদ্ধিনাথ। এমন নয় যে কলকাতা পুলিশের কমিশনার সুপ্রতীম সরকারের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছিল। তবে কমিশনের মনে হয়েছে তিনি শাসকের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন। সম্ভবত সেই কারণেই নিষ্ঠাবান দুঁদে অফিসার অজয় নন্দাকে পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, নবান্নের খুব একটা গুড বুকে ছিলেন না অজয় নন্দা। আরজি কর কাণ্ডের সময়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদে থাকা বিনীত গোয়েলকে তাঁর বর্তমান পদ থেকে সরানোও কম অর্থবহ নয়। আরজি কর প্রতিবাদের ধাক্কায় বিনীতকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরাতে বাধ্য হয়েছিল নবান্ন। তবে তাতে তাঁর পদোন্নতি থেমে থাকেনি। পরে পরিস্থিতি থিতু হয়ে যেতেই তাঁকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব দিয়ে এডিজি পদে বসানো হয়। ভোট ঘোষণা করতেই কমিশন তাঁকে সরিয়ে সেই পদে বসিয়েছে সিনিয়র আইপিএস অফিসার অজয় মুকুন্দ রানাড়ে-কে। আরও একটি বড় পদক্ষেপ কমিশন ১২ ঘণ্টার মধ্যেই সেরে ফেলেছে। কমিশনের কাছে অভিযোগ ছিল, ভোটের সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেল থেকে অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তা যাতে এবার না হয় তাই রাজ্যের সংশোধনাগারগুলির দায়িত্বে থাকা ডিজি (কারেকশনাল হোম) পদেও নতুন মুখ নিয়ে এসেছে কমিশন। নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিনিয়র আইপিএস অফিসার নটরাজন রমেশ বাবু। মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতর সূত্রে খবর, বেশ কয়েকটি জেলায় জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার বদলের নকশাও তৈরি হয়ে গেছে। কিছু জেলায় দু’জনকেই সরানো হবে। কিছু জেলায় কোনও একজনকে সরানো হবে। তা ধাপে ধাপে ঘোষণা করতে শুরু করে দেবে কমিশন।





