Monday, March 16, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় একঝাঁক নতুন মুখ? বাদ পড়তে চলেছেন মনোজ তিওয়ারী সহ বেশ কয়েকজন বিধায়ক?‌

হাওড়ার শিবপুরের মনোজ তিওয়ারীকে নিয়ে ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি থেকে বিভিন্ন তোলাবাজির অভিযোগও রয়েছে মনোজের বিরুদ্ধে। শেষমেশ প্রত্যাশামতি বাদ পড়তে চলেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার বলে সূত্রের খবর। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষনা। শুরু হয়ে গিয়েছে চূড়ান্ত কাউন্টডাউন। এই আবহের মাঝেই তৃণমূল কংগ্রেসের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে টিকিট বন্টনের ক্ষেত্রে শাসকদলের বড় চমক হতে চলেছে একঝাঁক তরুণ মুখ। ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চর্চা চলছে। জল্পনায় মোড়া সেই বহু প্রতীক্ষিত তালিকা। স্বপ্না বর্মন, তৃণাঙ্কুর, দেবাংশু ভট্টাচার্য, ইমন চক্রবর্ত্তীর মতো নতুন মুখ। বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এবারের তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বড়সড় চমক থাকতে পারে এবং একঝাঁক নতুন মুখকে ভোটের ময়দানে নামাতে পারে দল। অন্যদিকে প্রার্থী নিয়ে দলের অন্দরে যাতে কোনও ক্ষোভ বা অসন্তোষ তৈরি না হয়, তার জন্য আগেভাগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া বার্তা দিতে শুরু করেছে ঘাসফুল শিবির। দলের একটি সূত্রের খবর, এবারের নির্বাচনে শাসক দল মূলত তারুণ্য এবং নতুন মুখের উপর জোর দিচ্ছে। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে পাহাড়ের তিনটি আসন ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস ২৯১টি আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে বলে খবর। এই ২৯১টি আসনের সম্ভাব্য তালিকায় বয়স এবং পারফরম্যান্সের মাপকাঠিতে বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ জনের টিকিট এবার কাটা যেতে পারে বলে জল্পনা। তাঁদের শূন্যস্থানে জায়গা পেতে পারেন দলের তরুণ ও যুব নেতারা। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় থাকতে চলেছেন বেশ কয়েকজন টলিউড তারকা, বিশিষ্টজনেরা। উত্তরবঙ্গে বেশ কয়েকজন নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। ভবানীপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের প্রার্থী হওয়া নিশ্চিত। কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হুগলিতে বেশিরভাগ তৃণমূল বিধায়কই টিকিট পাবেন। দুই বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুরেও অধিকাংশ তৃণমূল বিধায়ক টিকিট পাচ্ছেন।

সম্ভাব্য এই নতুন মুখের তালিকায় বেশ কিছু পরিচিত ছাত্র ও যুব নেতার নাম উঠে আসছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের নাম এই মুহূর্তে জোর চর্চায় রয়েছে, যিনি উত্তর চব্বিশ পরগনার কোনও একটি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি, দলের আরেক পরিচিত যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য, প্রাক্তন ছাত্রনেত্রী জয়া দত্ত এবং যুব নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছে বলে খবর। চমক হিসেবে থাকতে পারে সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে আসা প্রতিকুর রহমানের নামও। যুব নেতাদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন প্রাক্তন সাংসদকেও এবার বিধানসভার লড়াইয়ে দেখা যেতে পারে। প্রাক্তন সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সামিরুল ইসলামের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে আসছে। পাশাপাশি, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বরাবরই বিনোদন ও সাংস্কৃতিক জগতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি থাকে। এবারও টলিউড অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং গায়িকা ইমন চক্রবর্তীর নাম প্রার্থী হিসেবে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে। সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া ক্রীড়াবিদ স্বপ্না বর্মণ উত্তরবঙ্গের ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্র থেকে শাসক দলের টিকিট পেতে পারেন বলে প্রবল জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই নামগুলির পাশাপাশি কুণাল ঘোষ, অরূপ চক্রবর্তী, তন্ময় ঘোষ, এন্টালির সন্দীপন সাহা এবং পূর্ব বর্ধমানের রামমোহন রায়ের মতো নেতাদের নামও প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

২০২৪ লোকসভা ভোটের মডেলে জেলার বড় নেতাদের প্রার্থী করা হবে। দক্ষিণবঙ্গে জেলাগুলিতে সংগঠনের পিছনে পরিশ্রম করা লড়াকুদের প্রার্থী করা হতে পারে। বিজেপি থেকে তৃণমূল আসা বিধায়কদের বেশিরভাগই টিকিট পাচ্ছেন। তবে এক-দুজনের কেন্দ্র বদল হতে পারে। গত দুটি বিধানসভা জেতা বিজেপির আসনগুলিতে তারকা প্রার্থীদের টিকিট দেওয়া হতে পারে। তৃণমূলের তালিকায় উত্তরবঙ্গে একাধিক চমক থাকতে চলেছে। নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগণা ও মালদায় দাঁড়াতে পারেন জেলার বড় নেতারা। মতুয়া গড়ে প্রার্থী বাছাইয়ের আগে স্থানীয় বড় নামদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বেহালা পশ্চিমে টিকিট পাচ্ছেন না প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সেখানকার পাঁচবারের বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বেহালা পশ্চিমে কোনও স্থানীয় দাপুটে কাউন্সিলর টিকিট পেতে পারেন। বেহালা পশ্চিমে ফের রত্না চট্টোপাধ্য়ায়ের টিকিট পাওয়া নিশ্চিত। বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জেলাস্তরের নেতাদের মতামতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি। তৃণমূলের সবচেয়ে বড় চিন্তা পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, মালদা, উত্তর দিনাজপুর, আলিপুরদুয়ার, ও দার্জিলিং নিয়ে। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, নদিয়া নিয়েও অস্বস্তিতে রয়েছে রাজ্যের শাসক দল। তবে এরপরেও রাজ্যে টানা চতুর্থবার সরকার গড়তে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল।

প্রার্থী তালিকা নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে এমন জল্পনা, ঠিক সেই সময়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের আইটি সেল ও সোশ্যাল মিডিয়া পেজগুলি থেকে কর্মীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি এবং জোড়া ফুল প্রতীকই শেষ কথা বলবে। এই প্রচারের প্রেক্ষাপট নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, দল প্রতিটি আসনে যাঁকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবে, তাঁকেই সকলের মেনে নিতে হবে। মূলত এই কড়া বার্তা দলের নিচুতলায় পৌঁছে দিতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন প্রচার শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “ভুলে গেলে চলবে না, ঘাসফুলের প্রার্থী মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী। তাই এই বিষয় নিয়ে দলের কারও মধ্যে যেন বিন্দুমাত্র দ্বিধাদ্বন্দ্ব না থাকে।” নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে রবিবার সকালে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। চেতলা এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিলি করেন। আত্মবিশ্বাসের সুরে ফিরহাদ হাকিম দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর ক্ষমতা কারও নেই এবং তিনি এবার ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে নিজের কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করবেন।

শাসক দলের এই প্রচারকে কটাক্ষ করতে বিন্দুমাত্র দেরি করেনি গেরুয়া শিবির। বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষ এই প্রসঙ্গে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়ে প্রবল চাপে রয়েছে। তাঁর দাবি, গত বিধানসভায় নন্দীগ্রামে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো সম্ভব হয়, তবে ভবানীপুরেও তাঁকে হারানো নিশ্চিতভাবেই সম্ভব। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০ হাজারের কাছাকাছি ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। আর সেই কারণেই শাসক দল ভয় পেয়ে আগেভাগে প্রচারে নেমেছে। তৃণমূল নেত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন, “হয় তিনি কেন্দ্র পরিবর্তন করুন, আর না হলে হারের জন্য প্রস্তুত থাকুন।” যে কোনও সময় ঘোষণা হয়ে যেতে পারে ভোটের দিনক্ষণ। চলছে কাউন্টডাউন। এরইমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে জোর চাপানউতোর। এবার তৃণমূলে এক ঝাঁক তরুণ মুখ টিকিট পেতে চলেছেন বলে জোর চর্চা রাজনৈতিক আঙিনায়। জল্পনার মধ্যেই তৃণমূল শিবিরে কান পাতলেই কিছু নাম নিয়ে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যে নামগুলো নিয়ে এত চর্চা সেই তালিকা ইতিমধ্যেই চলে এসেছে আর কে নিউজের হাতে।

নতুন নামের মধ্যেই শুরুতেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের নাম আলোচনায় রয়েছে। এই তৃণাঙ্কুর বরাবরই অভিষক ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। একেবারে সামনের সারিতে থেকে ছাত্র-যুব ফ্রন্টের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আলোচনায় রয়েছে জয়া দত্তের নামও। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি। বরাবরই উপরতলার নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ। বর্তমানে অশোকনগরের কাউন্সিলর। যদিও বিতর্ক জুড়ে গিয়েছিল তাঁর নামের সঙ্গেও। আগের দশকের শেষ দিকে ভর্তিতে টাকার লেনদেন নিয়ে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে। তারপরই জয়াকে ছাত্র সংগঠনের সভানেত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বিধানসভায় প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে প্রাক্তন সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসার পর আর খুব একটা পিছনে ফিরে তাকে হয়নি তাঁকে। ঘোরাফেরা চলেছে উপরতলার ঘনিষ্ঠবৃত্তে। এসআইআর বিরোধী আন্দোলনে কার্যত অভিষেকের ছায়াসঙ্গী হিসাবেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি আবার দলের সুপ্রিমোকে একেবারে শ্রীচৈতন্যের উত্তরসূরিও বলে বসেছিলেন। সাফ বলেছিলেন, “শ্রীচৈতন্যদেবের উত্তরাধিকারী ছিলেন লালন। লালনের উত্তরাধিকারী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আর এখন শ্রীচৈতন্যদেবের উত্তরাধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যে পথে চলেন তার সঙ্গে লাখো মানুষ চলেন।” এর মনোভাজনের কথা বলে টিকিট অনেকটাই পাকা করে ফেলেছেন ঋতব্রত?‌

দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের যেসব মুখপাত্রদের নাম শোনা যাচ্ছে সেখানেও রয়েছে চমকের পর চমক। তালিকায় জেল খেটে আসা কুণাল ঘোষ থেকে অরূপ চক্রবর্তী, তন্ময় ঘোষ। শেষ উপনির্বাচনের সময় মানিকতলায় সাধন পাণ্ডের শূন্যস্থান পূরণের সময় সুপ্তি-শ্রেয়া নিয়ে চর্চার মধ্যে উঠে এসেছিল কুণালের নাম। গিয়েছেন রাজ্যসভাতে। এবার বিধানসভাতেও টিকিট পাওয়া নিয়ে জোর জল্পনা। সাংসদ সামিরুল ইসলামও হতে পারেন বিধানসভায় দলের প্রার্থী। কিছুদিন আগেই বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর লাগাতার আক্রমণ যখন তোলপাড় চলছিল রাজনৈতিক আঙিনায়। তখন তিনি সরব হয়েছিলেন রাজ্যসভায়। তিনি বীরভূমের কোনও আসন থেকে লড়তে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। ‘পদের লোভে, পদের জন্য তৃণমূলে আসিনি’ বলা সদ্য সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসা প্রতীকূর রহমানও টিকিট পাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও নতুন মুখ হিসেবে জল্পনা শোনা যাচ্ছে সেই তালিকায় রয়েছেন স্বপ্না বর্মন। জলপাইগুড়ির ক্রীড়াবিদ স্বপ্না বর্মন আসলে একজন হেপ্টাথলিট। ২০১৮ সালে এশিয়ান গেমসে হেপ্টাথলনে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন স্বপ্না। কিছুদিন আগেই যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। তালিকায় রয়েছেন ঘাসফুল শিবিরের নেটপাড়ার হার্টথ্রব দেবাংশু ভট্টাচার্য। আগের বিধানসভা ভোটেও প্রচারে ঝড় তুলতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। টিকিট পাওয়া নিয়ে জোর জল্পনাও তৈরি হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত টিকিট পাননি। কিন্তু লোকসভায় তাঁর উপর ভরসা রেখেছিল দল। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন তমলুকে। কিন্তু হারতে হয়েছিল তাঁকে। তালিকায় স্বর্ণকমল সাহার ছেলে সন্দীপন সাহার নাম। স্বর্ণকমল সাহা বর্তমানে এন্টালির বিধায়ক। কিন্তু তিনি এবারে আর দাঁড়াতে চান না বলে দলকে জানিয়েছেন। খবর এমনটাই। বর্তমানে কলকাতা পুরসভার মেয়র ইন কাউন্সিলর জোকা আইআইএমের প্রাক্তনী সন্দীপন। এবার তিনিই পেতে পারেন টিকিট। শোনা যাচ্ছে সংবাদিক দেবদীপ পুরোহিত। তিনি খড়দায় দাঁড়াতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শুভাশিস চক্রবর্তীর নাম। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগানা থেকে দাঁড়াতে পারেন। তারকাখচিত তালিকায় আলাদা করে আলো ছড়াতে পারে ইমন চক্রবর্তী। চর্চায় উত্তরপাড়া। শোনা যাচ্ছে এখান থেকেই তাঁকে দাঁড় করাতে পারে দল। যদিও আগেও তাঁর উত্তরপাড়ায় দাঁড়ানো নিয়ে জল্পনা হয়েছিল। তিনি যদিও এই আসন থেকে দাঁড়ানোর বিষয়ে খুব একটা ইচ্ছাপ্রকাশ করেননি। অন্যদিকে তৃণমূলের হাত ধরে তাঁর কণ্ঠে উন্নয়নের পাঁচালি এখন বাংলার দিকে দিকে। উঠে এসেছেন মমতার ‘প্রিয় বৃত্তে’। টিকিট পেতে পারেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ও। প্রসঙ্গত, গত বছরে ফেডারেশন বনাম পরিচালক গিল্ডের লড়াইয়ের সাক্ষী থেকেছে বাংলা। সেই সময় আচমকাই সব বিবাদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন পরমব্রত। সাফ বলেছিলেন, ফেডারেশনকে তিনি নিজের ‘পরিবার’ হিসেবেই মনে করেন। আদালতের দ্বারস্থ হওয়া তাঁর মতে যথেষ্ট আবেগপ্রবণ ও ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বের প্রশংসাও করতে দেখা গিয়েছিল। শোনা যাচ্ছে রামমোহন রায়, দেবরাজ চক্রবর্তীদের নামও।

মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারে তৃণমূল। একইদিনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারে বিজেপিও। প্রথম দফায় ১৪৫জন প্রার্থীর ঘোষণা করতে পারে বিজেপি। প্রার্থী তালিকা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। শমীক, শুভেন্দু, সুকান্ত, ভূপেন্দ্র যাদবের উপস্থিতিতে বৈঠক। কাল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক, থাকবেন শমীক-শুভেন্দু-সুকান্ত। কালই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে বামেরা।

সোমে প্রার্থী তালিকা প্রকাশে সিপিএম। ভোটের দিন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আর তারই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে বামেরা। সোমবার বামফ্রন্টের তরফে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। এমনটাই জানিয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। এদিকে, আইএসএফ-এর সঙ্গে জোটের ভবিষ্যত কী, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী অবশ্য আগেই স্পষ্ট করেছিলেন জোট হচ্ছে। তবে, আসন সমঝোতা নিয়ে কোনও রফাসূত্র মিলছিল না বলেই খবর। শুধু তাই নয়, বামফ্রন্টের শরিক দল ফরওয়ার্ড ব্লকও আইএসএফ-এর সঙ্গে জোটে রাজি ছিল না। এই আবহে সোমবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিমান বসু জানিয়ে দিলেন জোট নয়। সর্বব্যাপক লড়াইয়ের লক্ষ্যে একটা বড় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাইছেন তাঁরা। কাঁচরাপাড়া সিপিএমের এরিয়া কমিটির উদ্যোগে কুমোর পাড়ায় বীজপুরে কেন্দ্রীয় স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই হাজির ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, সোমবার বামফ্রন্ট একটা প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করবে। এরপরই জোট প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে বিমান বসু বলেন, “আমরা যে বোঝাপড়া করেছি তা একটা বামফ্রন্টগতভাবে। আর একটা বামফ্রন্টের সহযোগী। আমাদের স্লোগান হল বামপন্থার পুনরুত্থান। স্বাভাবিক ভাবে আমাদের এই কাজটা করতে সময় লাগছে। তবে আর অল্প দিনের মধ্য আমরা তা নিষ্পত্তি করে ফেলত পারব।” আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট নিয়ে কিছুই স্পষ্ট করেননি এদিন। বিমান বসু বলেন, “বারবার বলছি, বামফ্রন্ট আছে । বামফ্রন্ট অন্য বামপন্থীদের সঙ্গে বোঝাপড়া করছে। কারণ বামপন্থী ঐক্য চাই। এবং বামের বাইরেও যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করতে চাই। এটাকে জোট বলে না। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বব্যাপক লড়াই করার দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরা কমন একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাইছি।” প্রসঙ্গত দিন কয়েক আগে বামপন্থার পুনরুথ্থান নিয়ে কথা বলেছিলেন সেলিম। সেই সুরও এদিন শোনা গেল বিমান বসুর গলায়। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ নির্বাচনের আবেদন জানিয়েছেন বিমান বসু। সিপিএমের প্রার্থী তালিকায় এবারও প্রাধান্য দেওয়া হবে একঝাঁক তরুণ মুখকে। তবে, ভোটের লড়াইয়ে সৃজন ভট্টাচার্য, শতরূপ ঘোষ ও দীপ্সিতা ধরেরা থাকবেন কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ভোটের লড়াইয়ে দেখা যেতে পারে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে। উত্তরপাড়া কেন্দ্রে তাঁকে টিকিট দিতে পারে দল। এছাড়া যাদবপুর থেকে লড়়াই করতে পারেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় নাম রয়েছে ধ্রুবজ্যোতি সাহা, ময়ূখ বিশ্বাস, সপ্তর্ষি দেব, সায়রা শাহ হালিমদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles