ভোটের দিনক্ষণ প্রকাশ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আদর্শ আচরণবিধি (মডেল কোড অফ কনডাক্ট বা এমসিসি) কার্যকর হয়ে গিয়েছে। এখন রাজনৈতিক দলগুলি কমিশন নির্ধারিত নিয়মবিধি মেনে চলতে বাধ্য। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পরেই রাজনৈতিক দলগুলির জন্য নির্বাচনী প্রচারবিধি বেঁধে দিল নির্বাচন কমিশন। রবিবার কমিশনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কোনও নির্বাচনী প্রচারে লাউডস্পিকার, পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম বা কোনও ধরনের সাউন্ড অ্যাম্পলিফায়ার ব্যবহার করা যাবে না। আরও কয়েকটি শর্তের কথাও দলগুলিকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে কমিশন। ভোটের দিনক্ষণ প্রকাশ হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আদর্শ আচরণবিধি(মডেল কোড অফ কনডাক্ট বা এমসিসি) কার্যকর হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলি কমিশন নির্ধারিত নিয়মবিধি মেনে চলতে বাধ্য। রাতে লাউডস্পিকার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি কমিশন জানিয়েছে, কোনও আসনে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার বন্ধ করতে হবে। এই ‘সাইলেন্স পিরিয়ডে’র মধ্যে লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট ওই কেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ে প্রচারে আকারে-ইঙ্গিতেও কোনও মন্তব্য করা যাবে না। এমনকি ওই এলাকা নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকেও কোনও মন্তব্য করা যাবে না। রাজনৈতিক দলগুলিকে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকারও বার্তা দিয়েছে কমিশন। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, প্রচারের সময় পোস্টার, ব্যানার তৈরির ক্ষেত্রে প্লাস্টিক, পলিথিন বা এই ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তা ছাড়া, নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে নাবালক বা শিশুকে নিয়োগ করা যাবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, পরে প্রচারবিধি সংক্রান্ত সবিস্তার নির্দেশিকা দেওয়া হবে।
২৬ এর নির্বাচন অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ করানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ কমিশনের কাছে। এই অবস্থায় নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখছে না কমিশন। গত কয়েকদিন আগেই গতবারের তুলনায় এবার পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। সেই মতো এবার ২৯৪টি বিধানসভার জন্যেই একজন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। অর্থাৎ ২৯৪ জন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হবে। এছাড়াও ২৮টি পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হবে দু’জন করে পর্যবেক্ষক। ছটি পুলিশ কমিশনারটের জন্য থাকবেন দু’জন করে পর্যবেক্ষক। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন পর্যবেক্ষককে মোতায়েন করা হবে। যাঁদেরকে কমিশন জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়াও রয়েছেন আয়-ব্যয় সংক্রান্ত পর্যবেক্ষক। এবার সেই সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, এবার নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন আয়-ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব খতিয়ে দেখতে আসবেন ৭০ থেকে ৮০ জন পর্যবেক্ষক। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলছে, সে বার রাজ্যে মোট জেনারেল অবজার্ভার ছিলেন ১৬০ জন। অর্থাৎ একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছিল এক এক জন আধিকারিককে। কিন্তু এ বারের বিন্যাস বদলে যাচ্ছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, প্রতি কেন্দ্রে আলাদা পর্যবেক্ষক থাকলে নজরদারি অনেক বেশি নিঁখুত হবে। অন্যদিকে গত বার রাজ্যে মোট ৩৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক ছিলেন। এ বার সেই সংখ্যাটা কেবল বেড়েছে তাই নয়, বরং এলাকাভিত্তিক নিয়োগের ওপর জোর দিয়েছে কমিশন। কমিশনের এই ‘প্ল্যানিং’ থেকেই স্পষ্ট যে, এবারের ভোট ঘিরে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন।




