Sunday, March 15, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

এ বার কেউ তৃণমূলকে বাঁচাতে পারবে না’! বাংলার মা নিঃস্ব, মাটি লুণ্ঠিত, মানুষ চলে যাচ্ছে!‌

সাম্প্রতিক ভাষণগুলির প্রতিটিতেই ‘পরিবর্তন’-এর আহ্বান ছিল, তৃণমূলের ‘মহাজঙ্গলরাজ’ উৎখাত করার ডাক ছিল। তৃণমূলের কারণে পশ্চিমবঙ্গে কী কী থমকে রয়েছে, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে কী কী বদলে যাবে, সে সব কথাও বার বার শুনিয়েছেন শেষ ছ’টি জনসভায়। ব্রিগেড সমাবেশে তার সঙ্গে জুড়ে গেল বিরল হুঁশিয়ারির সুর। শুধু ক্ষমতার অলিন্দে ‘বদল’ নয়, বদলের পরে অনেকের ‘হিসাব’-ও নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একবার নয়। অন্তত তিন বার সেই হুঁশিয়ারি শোনা গেল মোদীর ভাষণে। যা থেকে স্পষ্ট যে, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার অব্যবহিত আগে বিজেপির ‘রাজনৈতিক ভাষ্য’ কিছুটা বদলে গেল। যার ফলে রাজ্যে রাজনীতির পারদ আরও চড়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বা তৃণমূলকে লাগাতার আক্রমণ করলেও মমতার নাম বা ‘দিদি’ শব্দ একবারের জন্যও উচ্চারণ করেননি মোদী। বার বার বলেছেন ‘নির্মম সরকার’ (‘মমতা’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ হিসাবে)। তবে মমতার একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য তুলে ধরে আক্রমণ শানাতে ছাড়েননি। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা সেই মন্তব্যটি করেছিলেন। মোদী সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘‘কোন সম্প্রদায় কোটি কোটি লোককে শেষ করে দেবে? আমি জিজ্ঞাসা করতে চাই, সেই সম্প্রদায় কারা, যারা তৃণমূলের কথায় কোটি কোটি লোককে শেষ করবে?’’ নাম না-করে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের একটি মন্তব্যের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন মোদী। ঘটনাচক্রে, মহুয়াও সেই মন্তব্য মমতার ধর্নামঞ্চ থেকেই করেছিলেন। মোদী বলেন, ‘‘এঁরা বলছেন, কেউ তৃণমূলকে ভোট না-দিলে তিনি নাকি বাঙালি নন! কিন্তু তৃণমূলের গুন্ডামির দিন এ বার শেষ হতে চলেছে।’’ব্রিগেড সমাবেশ রাজ্য বিজেপির এ যাবৎ ‘সফলতম’ সমাবেশ বলে মনে করা হচ্ছে। ভিড় হয়েছিল বিপুল। এবং সে ভিড় ছিল সংগঠিত। বাসে করে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে লোক নিয়ে আসা হয়েছিল। পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গ থেকে ১৬টি ট্রেন ভাড়া করে তাতে করে লোক আনা হয়েছিল। এই ভিড় যদি রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক ক্ষমতা প্রদর্শনের মাপকাঠি হিসাবে ধরা হয়, তা হলে সে কাজে নেতারা সফল হয়েছেন। তবে ব্রিগেড ভরানো ভিড় হলেই যে তা ভোট বাক্সে যায়, তা নয়। অতীতে সিপিএম আমলে বিপুল ভিড়ের ব্রিগেড সমাবেশ করেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে জেতেননি। আবার ব্রিগেড ভরানো সমাবেশ করেও ভোটের হালে পানি পায়নি সিপিএম। তবে শনিবার দুপুরের পর থেকে ময়দান-কেন্দ্রিক এলাকা দৃশ্যতই ভিড়বাহী বাস এবং ভিড়ের দখলে চলে গিয়েছিল। রাজ্য জুড়ে বিজেপি যে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র ডাক দিয়েছিল, শনিবার তারই আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি পর্ব ছিল ব্রিগেডে। ১ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১০ মার্চ পর্যন্ত ‘যাত্রা’ চলেছে জেলায় জেলায়। তার পরে কলকাতায় ফিরে এসে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব মনোনিবেশ করেছিলেন ব্রিগেড সমাবেশের প্রস্তুতিতে। সেই সমাবেশ তথা ‘যাত্রা’র পরিসমাপ্তিতে এসে মোদী প্রথমেই দরাজ প্রশংসা করলেন জমায়েতের। ভাষণের শুরুতেই বললেন, ‘‘যত দূর চোখ যাচ্ছে, শুধু মানুষ আর মানুষ।’’ বললেন, ‘‘এই সমাবেশ আটকাতে তৃণমূল সব রকম অস্ত্র বার করেছে। সেতু আটকেছে, রাস্তা বন্ধ করেছে, ট্র্যাফিক জ্যাম করে দিয়েছে, গাড়ি আটকেছে, পোস্টার ছিঁড়েছে, পতাকা খুলে দিয়েছে। কিন্তু নির্মম সরকার দেখে নাও, তোমরা কাউকে দমিয়ে রাখতে পারোনি। কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে।’’মিনিট পঁয়তাল্লিশের ভাষণের সাত মিনিটের মাথাতেই মোদীর কণ্ঠে প্রথম বার হুঁশিয়ারির সুর শোনা গেল। তিনি বললেন, ‘‘সেই দিন দূরে নয়, যখন পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন হবে।’’ তার পরেই বলেন, ‘‘কোনও অত্যাচারীকে ছাড়া হবে না। খুঁজে খুঁজে হিসাব নেওয়া হবে।’’ অর্থাৎ, রাজ্যে ক্ষমতার অলিন্দে বদল যদি হয়, তা হলে ‘অত্যাচার’-এর ‘বদলা’-ও যে হবে, সে বার্তা স্পষ্ট ভাবেই দিয়ে দিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ‘অসম্মান’ প্রসঙ্গে আগেও মুখ খুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যাশিত ভাবেই শনিবার ব্রিগেডের মঞ্চে দাঁড়িয়েও আবার সে প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন তিনি। ঘটনাটিকে আদিবাসীদের, দেশের সর্বোচ্চ চেয়ারের, সংবিধানের এবং বাবাসাহেব অম্বেডকরের ‘অপমান’ বলে বর্ণনা করেছেন। দেশের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য সরকার তথা তৃণমূলের সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনেও মোদী তোপ দেগেছেন। দেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গেও তৃণমূল এই ধরনের আচরণ করে বলে দাবি করে মোদী বলেছেন, ‘‘২০১৯ সালে ভারতীয় বায়ুসেনা যখন বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইক করেছিল, তখন তৃণমূল তার প্রমাণ চেয়েছিল!’’ তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গে যে ‘অরাজক’ ব্যবস্থা তৈরি করেছে, দিল্লি পর্যন্ত তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন মোদী। উদাহরণ হিসাবে সংসদে তৃণমূলের ভূমিকার কথা মনে করিয়েছেন। সব শেষে ফের ব্রিগেডের জমায়েত নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘‘এই জনস্রোত পশ্চিমবঙ্গে জাগতে থাকা চেতনার প্রমাণ। অনেক বছর এর অপেক্ষা চলছিল। এ বার পরিবর্তন হবেই।’’ প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘এ বারের নির্বাচন শুধু সরকার বদলানোর নির্বাচন নয়। এ বারের নির্বাচন বাংলার আত্মাকে বাঁচানোর নির্বাচন। ভয় কাটানোর নির্বাচন। ব্যবস্থা বদলানোর নির্বাচন।’’

তাঁর ভাষণের আধ ঘণ্টার মাথায় আরও একবার ‘অপরাধী’দের জেলে পাঠানোর ‘গ্যারান্টি’ দেন মোদী। ‘অপরাধী’ বলতে যে তৃণমূলকেই বোঝাচ্ছেন, তা হুঁশিয়ারির আগে ব্যাখ্যাও করে দেন। পিএম বিশ্বকর্মা, পিএম সূর্যঘর, আয়ুষ্মান ভারত এবং চা-বাগান শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে না-দেওয়া নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নির্মম সরকার’কে (মমতার নাম না করে) আক্রমণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার নাম বদলে দেওয়া এবং প্রাপক তালিকায় ‘গড়বড়’ করার অভিযোগ তুলে ধরে তোপ দাগেন। জলজীবন মিশনে অন্য রাজ্যগুলিতে ঘরে ঘরে নলবাহিত জল পৌঁছোলেও পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে এখনও সে সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘তৃণমূলের একটাই লক্ষ্য— কোনও কাজ করবে না, করতেও দেবে না। যতক্ষণ না এদের কাটমানি জুটবে, ততক্ষণ কোনও প্রকল্পের সুবিধা গ্রামে বা গরিবের কাছে পৌঁছোতে দেবে না।’’ এরই পাশাপাশি মোদী সরব হন কর্মসংস্থানের বিষয়ে এবং নারীসুরক্ষা নিয়ে। দুই প্রসঙ্গেই একটি করে বাংলা বাক্য বলেন। পশ্চিমবঙ্গের যুবক-যুবতীরা পড়াশোনা শেষে পশ্চিমবঙ্গেই কাজ পাবেন, সে ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিতে গিয়ে বাংলায় মোদী বলেন, ‘‘এই স্বপ্ন আপনার। আর এই স্বপ্ন পূরণ করা মোদীর গ্যারান্টি।’’ মেয়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মোদী বলেন, ‘‘বাবা-মায়ের মেয়েদের এখন বলেন— বাড়ি ফিরে এসো সন্ধে নামার আগে (বাক্যের শেষাংশ বাংলায়)।’’ সেই মন্তব্যের সূত্র ধরেই প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ‘‘বিজেপির সরকার হলে অপরাধীরা জেলে থাকবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি।’’ তৃতীয় বার মোদীর মুখে হুঁশিয়ারি শোনা গিয়েছে ভাষণের ৩৭ মিনিটের মাথায়। তিনি বলেছেন, ‘‘তৃণমূল সরকারের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। এখানে বিজেপির সরকার গঠিত হওয়ার পরে আমরা এক দিকে ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ’ নীতি নিয়ে চলব। অন্য দিকে প্রত্যেকের হিসাব নেওয়া হবে।’’ এখানেই থামেননি প্রধানমন্ত্রী। ব্রিগেডে ভরা জমায়েতের উদ্দেশে বলেছেন, ‘‘যারা আপনাদের ভয় দেখায়, তাদের ভয়ের দিন শুরু হতে চলেছে। যারা অপরাধী, যারা অনুপ্রবেশকারী, যারা তোষণের রাজনীতিকারী, তাদের একটাই জায়গা— জেল!’’

ব্রিগেড সমাবেশের মঞ্চে ওঠামাত্রই সঞ্চালক তথা রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ‘বিশেষ গুরুত্ব’ সহকারে ঘোষণা করেছিলেন তাঁর আগমনবার্তা। জমায়েত হইহই রবে সাড়া দিয়েছিল। তাঁর নাম বক্তা হিসাবে ঘোষণা হওয়ার পরেও আবার সেই একই উল্লাস দেখা গিয়েছিল। তৃতীয় বার তার চেয়েও বড় হর্ষধ্বনির অবকাশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সে বার কথাগুলো মাইকে শোনা যায়নি। তাই রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার ব্রিগেডের সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে কী বলেছেন, সে কথা জনতা শুনতে পায়নি। কিন্তু যাঁরা সামনে দাঁড়িয়ে সে সংলাপ শুনেছেন, তাঁরা আপ্লুত। ভাষণ শেষ করে মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার আগে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় প্রত্যেকের সঙ্গেই অল্পবিস্তর কথা বলতে বলতে এবং সৌজন্য বিনিময় করতে করতে এগোচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দিলীপের সামনে এসে তিনি একটু থমকে দাঁড়ান। এক মিনিটের মতো কথোপকথন হয়। মোদীর কথা শুনে দিলীপের আশেপাশে প্রত্যেকে যে আহ্লাদিত, তা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। কৌতূহল তৈরি হয় তখনই। বিষয়টি বিজেপি নেতারাও পরে গোপন না-করায় সে কথোপকথন প্রকাশ্যে এসেছে। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতোর কথায়, ‘‘ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে অনেক দিন পরে দেখা হলে যে ভাবে কথা হয়, দিলীপদার সঙ্গে মোদীজি ঠিক সে ভাবেই কথা বলেছেন।’’ ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ না-হলেও মোদী এবং দিলীপ উভয়েই আরএসএসে দীর্ঘ প্রচারক জীবন কাটিয়ে বিজেপিতে এসেছেন। মোদী সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে দিলীপ সাংসদও ছিলেন। এ হেন দিলীপকে করবদ্ধ অবস্থায় সামনে পেয়ে শনিবার মোদী তাঁর হাত ধরেন। তার পরে বলেন, ‘‘বিয়ে করলে লোকে মিষ্টি অন্তত খাওয়ায়। তুমি তো সেটুকুও খাওয়ালে না।’’ এ কথা শুনে বাকিরা হেসে উঠলেও দিলীপ দৃশ্যতই সঙ্কুচিত হয়ে পড়েন। পাশ থেকে জ্যোতির্ময় বলে ওঠেন, ‘‘আমাদেরও দিলীপদা মিষ্টি খাওয়াননি।’’ তবে গোটা পর্ব শেষে দিলীপও আপ্লুত। আনন্দবাজার ডট কমকে তিনি বলেন, ‘‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, নির্বাচন মিটে গেলে দিল্লি গিয়ে মিষ্টি খাইয়ে আসব।’’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিলীপের এই সংলাপ সংক্ষিপ্ত হলেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে অনেকের মত। দিলীপের বিবাহের সিদ্ধান্ত নিয়ে আরএসএস এবং বিজেপির একাংশের বিরূপ মতামত ছিল বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। সে বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তবে বিয়ের অব্যবহিত পরে মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দিলীপ সস্ত্রীক দিঘায় গিয়ে জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন পর্বে শামিল হওয়ায় দল দিলীপের বিরুদ্ধে মুখ খোলে। তার পরে অন্তত আট মাস দলীয় কর্মসূচিতে দিলীপ ডাক পাচ্ছিলেন না। প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছিল না। শনিবারের ব্রিগেড সমাবেশে সে গ্লানি মুছে গেল। প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশমঞ্চে দিলীপ শুধু স্থানই পেলেন না, ভাষণও দিলেন। আর প্রধানমন্ত্রী নিজে দিলীপের বিবাহ সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই মধুর সংলাপ রেখে গেলেন। গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক, রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক জমায়েতে মোদীর যে সব কথোপকথন বা সৌজন্য বিনিময় চোখে পড়ার মতো হয়ে ওঠে, সেগুলির প্রত্যেকটিই ‘সচেতন’ ভাবে ঘটানো হয়। অর্থাৎ মোদী ‘সচেতন’ ভাবেই ওই সব দৃশ্যপট তৈরি করেন, কোনওটিই বেখেয়ালে তৈরি হয়ে যাওয়া দৃশ্য নয়। শনিবার ব্রিগেডে মোদী অন্তত পাঁচ বার তেমন দৃশ্য তৈরি করেছেন। প্রথমেই মঞ্চে বসে থাকাকালীন মিঠুন চক্রবর্তীকে নিজের পাশের চেয়ারে ডেকে নিয়ে আলাদা করে কিছু ক্ষণ কথা বলেন। ভাষণ শেষ করার পরে শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার এবং শমীক ভট্টাচার্যের সামনে দাঁড়িয়ে মিনিটখানেক কথাবার্তা চালান। কী কথোপকথন, সে বিষয়ে তিন জনের কেউই মুখ খোলেননি। এর পরে মোদী দিলীপের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। তার পরে তথাগত রায় এবং অশোক লাহিড়ির সঙ্গেও চোখে পড়ার মতো করে কথা বলতে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা মেঘালয় ও ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত ছিলেন শনিবারের মঞ্চে প্রবীণতম বিজেপি নেতা। মোদীর সঙ্গে কথাপোকথন প্রসঙ্গে তথাগত বলেন, ‘‘কিছু ব্যক্তিগত আলোচনা হয়েছে। তা নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করব না। যে কথাগুলো হয়েছে, তা একেবারেই রাজনৈতিক নয়, এমন কথা বলছি না। তবে কথাগুলো ব্যক্তিগতই।’’ অর্থনীতিবিদ তথা বালুরঘাটের বিধায়ক অশোকের কথায়, ‘‘আমার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর আলাপ তো দু’আড়াই দশক আগে। একসঙ্গে কাজও করেছি। এত দিনের পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা হলে আলাদা করে কথা বলাটাই ভদ্রলোকেদের সৌজন্য। নরেন্দ্র মোদী সেটাই করেছেন। কুশল বিনিময় হয়েছে। তবে ওখানে কোনও রাজনৈতিক কথা হয়নি।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles