তৃণমূলের গুন্ডারা যারা আপনাদের ভয় দেখায়, তাদের খারাপ দিন আসছে। আইনের শাসন হবে। অপরাধীদের একটাই জায়গা জেল… জেল...! বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘‘আমার প্রিয় বাংলাবাসী। আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে প্রণাম। যেখানেই চোখ পড়ছে, সেখানেই মানুষ। অদ্ভুত দৃশ্য।’’ বাংলায় ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। ‘ঐতিহাসিক ব্রিগেড’ থেকে তিনি বলেন, ‘‘বাংলার হাল আর লুকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। কয়েক দিন আগে চন্দ্রকোনায় এক আলুচাষি আত্মহত্যা করেছেন। তৃণমূলের কাটমানি, দুর্নীতি এবং খারাপ রাজনীতির জন্য কৃষক, নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তের জীবন দুর্বিষহ। মা-বোনেদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তৃণমূলের সরকার গেলেই গরিবদের পাকা বাড়ি বানানো শুরু হবে। প্রত্যেক বাড়িতে পরিশুদ্ধ জল যাবে। এ বার বাংলায় জঙ্গলরাজ খতম হবে। বাংলার প্রত্যেক কোণ থেকে আওয়াজ উঠছে, ‘চাই বিজেপি সরকার’। কাল তৃণমূল আপনাদের সবাইকে চোর বলে গালি দিয়েছেন। আসল চোর কে তা বাংলার তামাম মানুষ জানেন। কুর্সি বাঁচানোর জন্য এখানকার নির্মম সরকার সব হাতিয়ার বার করে ফেলেছে। আপনাদের আটকাতে গাড়ি থামিয়েছে। সেতু বন্ধ করেছে… কিন্তু নির্মম সরকার দেখে নাও, তোমরা কাউকে দমিয়ে রাখতে পারোনি। এত জন সমাবেশ দেখুন। কেই দেখতে চাইলে দেখুন বাংলার মানুষ কী চাইছে। ব্রিগেড সাক্ষী এই ময়দান মানুষের কণ্ঠ হয়ে ওঠে। এখান থেকেই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল দেশ। আজ এখান থেকেই নতুন বিপ্লবের নতুন বিইগুল বাজবে। নির্মম সরকারের সমাপ্তি হবে। মহা জঙ্গলরাজের সমাপ্তি হবে। নির্মম সরকার ভয় পেয়েছে। আজ এই সভা বানচাল করতে সব চেষ্টা করছে। ব্রিজ বন্ধ করছে। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে। কিন্তু জনস্রোত আটকাতে পারেনি। কাউন্ট ডাউন শুরু। বাংলায় আবার আইনের শাসন হবে। বেছে বেছে হিসাব নেওয়া হবে। কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। সে দিন আর দূরে নেই। এ বার আইনের শাসন শুরু হবে। যে আইন ভাঙবে, তাকে খুঁজে খুঁজে বার করা হবে। বাংলার নবনির্মাণ করবে বিজেপি। বাংলায় এখন আমাদের সরকার নেই। তা-ও কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে বাংলার উন্নয়নে রয়েছি আমরা। আজও ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন হল। এখানকার নির্মম সরকার যুবক-যুবতীদের পালিয়ে যাওয়ার অভিশাপ দিয়েছে। বাংলার যুবসমাজ মেহনতি। একসময় এই বাংলা সকলের আগে ছিল। আজ এখানকার যুবক-যুবতী না এখান থেকে ডিগ্রি পাচ্ছেন, না চাকরি। তাঁদের ভিন্রাজ্যে চলে যেতে হচ্ছে। প্রথমে কংগ্রেস, তার পর বাম এবং তৃণমূল… এরা একে একে এসেছে। নিজেদের পকেট ভরেছে। উন্নয়নের কাজ পড়ে থেকেছে। তৃণমূল সরকার প্রকাশ্যে চাকরি বিক্রি করেছে। এ বার সময় এসেছে এই হাল বদলের। বাংলায় যুবক-যুবতীরা এ বার বাংলায় কাজ পাবেন। এই স্বপ্ন পূরণের গ্যারান্টি মোদীর। তৃণমূল না নিজে কাজ করে, না অন্যদের কাজ করতে দেয়। কাটমানি না পেলে কোনও প্রকল্পকে গ্রামেগঞ্জে পৌঁছোতে দেয় না। তাই কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে পৌঁছোতে দেয় না। চা-বাগানের শ্রমিকদেরও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা দিতে দেয় না তৃণমূল। পাকা বাড়ি সর্বত্র পাচ্ছেন মানুষ। কিন্তু এখানে প্রকল্পের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। তার পরেও যাঁদের বাড়ি পাওয়ার কথা ছিল, তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। জলজীবন মিশন থেকে আয়ুষ্মান ভারত, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তৃণমূলের জন্য বঞ্চিত। বামেদের হঠিয়ে অনেক আশায় তৃণমূলকে এনেছিলেন এখানকার মানুষ। কিন্তু গুন্ডা, মাফিয়াদের নিদেরে দলে টেনে নিয়েছে। অপরাধীদের ছেড়ে রেখেছে ওরা। কলেজেও দুষ্কর্ম হচ্ছে। তৃণমূল কার্যালয়েও যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটছে। কোনও না কোনও অপরাধে যুক্ত থাকেন তৃণমূলের কেউ না কেউ। অপরাধীদের বাঁচানোর পূর্ণ চেষ্টা করা হয় এখানে। সন্দেশখালির সেই ছবি, আরজি কর কাণ্ড মানুষ ভোলেনি। তৃণমূল কী ভাবে প্রকাশ্যে অপরাধীদের সঙ্গে থাকে, সকলেই দেখেছে। মেয়েদের বলতে হয়, বাড়ি ফিরে এসো সন্ধ্যে নামার আগে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই পরিস্থিতি বদলে যাবে। এটাই মোদীর গ্যারান্টি। এ বার তৃণমূলকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে মহিলারা সুরক্ষিত থাকবে। এটা মোদির গ্যারান্টি। তৃণমূলের গুন্ডারাজ থাকবে না। কেউ বাঁচাতে পারবে না। আপনাদের ভয় দেখাচ্ছে। এরা সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থন দেয়। এরা অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেয়। আজ মায়েরা কাঁদছে। বাঙালিরা বাংলা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। আজ বাংলার রুটি, বেটি, মাটি বিপন্ন। অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার জমি দখল করছে। জনবিন্যাস পালটে গিয়েছে। বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যালঘু করার চেষ্টা হচ্ছে। তৃণমূল করছে। ভোটব্যাঙ্কের জন্য করছে। তাই এসআইআরের বিরোধিতা করছে। বাংলা দেশভাগ দেখেছে। দাঙ্গা দেখেছে। অনুপ্রবেশকারীদের অত্যাচাj দেখেছে। বাম জমানায় হত্যা, ধর্ষণের কথা কেউ ভোলেনি। তাই মানুষ তৃণমূলকে এনেছিল। বিশ্বাস করেছিল। কিন্তু এরা সেই বাম গুন্ডাদের দলে নিয়েছে। বাংলার কোনও জায়গা সুরক্ষিত নয়। কলেজে ধর্ষণ হচ্ছে। আদিবাসী মহিলাদের ধর্ষণ। অপরাধীরা হয় তৃণমূল নেতা নয় তাদের আশ্রিত। মানুষ আর জি কর ভোলেনি। সন্দেশখালি ভোলেনি। কর্ম সংস্থানের জন্য কেন্দ্র বিশ্বকর্মা প্রকল্প শুরু করেছি। টাকা রেন্দ্র দেয়। তবুও তৃণমূল সরকার তা মানুষের কাছে পৌঁছতে দেয় না। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দিতে আমরা প্রকল্প শুরু করেছি। এরা আটকে দিচ্ছে। এরা বাংলার শত্রু। মানুষের শত্রু। চা শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা হয়। পিএম আবাস যোজনার নাম পালটে দিয়েছে। লিস্ট বদল করে দিয়েছে। গরীবদের বাড়ি দেওয়া হয়নি। এই তৃণমূল সরকার তা হতে দেবে না। একই হাল জলজীবন মিশনের। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প এরা চালু করতে দেয় না। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার খরচ পাওয়া যায় এই যোজনায়। কিন্তু বাংলার গরীব পরিবারগুলোকে বঞ্চিত করেছে এই সরকার। কৃষকদের অবস্থাও তথৈবচ। একজন আলু চাষী আত্মহত্যা করেছে। টিএমসির নোংরা রাজনীতির জন্য এচা হচ্ছেষ মা-বোনেদের সম্মান ধুলোয় লুটচ্ছে। আপনারা জানেন বাংলার তরুণরা প্রতিভায়, পরিশ্রমে সবার থেকে এগিয়ে। বাণিজ্যে বাংলা সবার আগে ছিল। কিন্তু আজ এখানে তরুণদের চাকরি নেই। কাজের জন্য অন্য রাজ্যে যেতে হচ্ছে। প্রথমে কংগ্রেস তারপর কমিউনিস্ট তারপর তৃণমূল। এরা লুটেপুটে খেয়েছে। নিজের পকেট ভর্তি করেছে। কারখানা বন্ধ হয়েছে। চাকরি বিক্রি হচ্ছে নিয়োগ দুর্নীতি হচ্ছে। আপনাদের স্বপ্নপূরণ মোদির গ্যারান্টি। কাটমানি না পেলে তৃণমূল নেতারা গরীবদের কোনও প্রকল্প দেয় না। বাংলাকে অসুরক্ষিত করেছে সরকার। এখানে খোলাখুলি ধমক দেওয়া হচ্ছে যে একটি বিশেষ সম্প্রদায় আপনাদের খতম করে দেবে। সাংবিধানের কুর্সিতে বসে এমন কথা, আপনার মুখে শোভা পায় না। ধমকানোই তৃণমূলের রাজনীতি। বাংলায় ভয়ের মহল বানিয়ে রাখা হচ্ছে, দুনিয়ার তা দেখা প্রয়োজন। এরা বলে তৃণমূলকে যে ভোট দেয় না, সেই বাঙালি-ই নয়! আমি তৃণমূলকে মনে করাচ্ছি, ওদের গুন্ডামির দিন এ বার শেষ হওয়ার মুখে। তৃণমূল সরকারের যাওয়ার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। বিজেপি সরকার তৈরি হওয়ার পরে সকলের উন্নয়ন হবে এক দিকে, অন্য দিকে সব কিছুর হিসাব হবে। তৃণমূলের গুন্ডারা যারা আপনাদের ভয় দেখায়, তাদের খারাপ দিন আসছে। আইনের শাসন হবে। অপরাধীদের একটাই জায়গা জেল… জেল। ওঁরা শুধু রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেননি। ওঁরা আদিবাসীদের অপমান করেছেন। কোটি কোটি মহিলাকে অপমান করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ পদের গরিমাকে খাটো করেছেন। ওঁরা সংবিধানের অপমান করেছেন। বাবাসাহেব অম্বেডকরকে অপমান করেছেন। এর সাজা নির্মম সরকার পাবে। সাংবিধানিক ব্যবস্থার উপর প্রতি দিন হামলা করার রাস্তা খোঁজেন ওঁরা। সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কথা বললেই হামলা হয়। যে সংস্থা স্বতন্ত্র এবং নিরপেক্ষ ভাবে ভোট করায়, তাদের বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। একই কথা বলা হয় দেশের সেনা নিয়ে। বালাকোটের সময়ও বায়ুসেনার কাছে প্রমাণ চেয়েছিল ওরা। তৃণমূলের গুন্ডারা যারা আপনাদের ভয় দেখায়, তাদের খারাপ দিন আসছে। আইনের শাসন হবে। অপরাধীদের একটাই জায়গা জেল… জেল। কেউ কেউ ভয় দেখানোর চেষ্টা করবেন, কেউ কেউ বলবেন বদল সম্ভব নয়। কিন্তু মনে রাখুন মানুষ যখন ঠিক করে নেন, তখন ঠেকানোর কেউ থাকে না। বাংলার মানুষ যখনই ঠিক করে নেন, তখন ইতিহাস বদলে যায়। আজ ব্রিগেড দেখে সেই আত্মবিশ্বাস পাচ্ছি। এ বারের ভোট সরকার বদলের নয়, বাংলার আত্মাকে বাঁচানোর। ব্যবস্থা বদলের নির্বাচন, কাটমানি থেকে, ভয় থেকে মুক্তির নির্বাচন। আগত পরিবর্তনের জন্য সকলকে আগাম শুভেচ্ছা। পশ্চিমবঙ্গের জনগণের জয় হোক।’’





