নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ কমিশন। ২০২১-এর তুলনায় ভোটগ্রহণের দফা কমতে পারে বঙ্গে। তবে নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ কমিশন। তাই গতবারের তুলনায় পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। কমিশনের প্রাথমিক চিন্তাভাবনায় রাজ্যের প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য একজন করে পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এছাড়াও পুলিশ ও আয় ব্যয়ের নজরদারির জন্য গতবারের তুলনায় পর্যবেক্ষক আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সূত্রের খবর। রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ আরও আঁটসাঁট করতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, ২০২৬-এর নির্বাচনে পর্যবেক্ষক বা ‘অবজার্ভার’ নিয়োগের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করতে চলেছে কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে এ বার প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য এক জন করে ‘জেনারেল অবজার্ভার’ নিয়োগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলছে, সে বার রাজ্যে মোট জেনারেল অবজার্ভার ছিলেন ১৬০ জন। অর্থাৎ একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছিল এক এক জন আধিকারিককে। কিন্তু এ বারের বিন্যাস বদলে যাচ্ছে। প্রতিটি বিধানসভা পিছু এক জন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হলে, সেই সংখ্যাটা এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যাবে। প্রশাসনিক মহলের মতে, প্রতি কেন্দ্রে আলাদা পর্যবেক্ষক থাকলে নজরদারি অনেক বেশি নিঁখুত হবে। শুধু জেনারেল অবজার্ভার নয়, ব্যয়ের হিসেব নিকেশ দেখতে ‘এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভার’-এর সংখ্যাও এ বার অনেকটাই বাড়ানো হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ‘পুলিশ অবজার্ভার’ নিয়োগের ক্ষেত্রে। রাজ্যে মোট ৩৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক ছিলেন। এ বার সেই সংখ্যাটা কেবল বেড়েছে তাই নয়, বরং এলাকাভিত্তিক নিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে কমিশন। সূত্রের খবর, এ বার জেলা বা মহকুমার বদলে বিশেষ বিশেষ অঞ্চল বা বিধানসভা ভিত্তিক পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হতে পারে। এমনকী কোনও কোনও স্পর্শকাতর বিধানসভা কেন্দ্রে এক জন নয়, একাধিক পুলিশ পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করা হতে পারে। কমিশনের এই ‘মাইক্রো-প্ল্যানিং’ থেকেই স্পষ্ট যে, ভোট ঘিরে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন। বস্তুত, রাজ্যে ভোট ঘোষণা হওয়া অপেক্ষা মাত্র। তার আগে বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে। তালিকায় ন্যূনতম এসডিও র্যাঙ্ক অফিসার রয়েছেন। অর্থাৎ সিনিয়র র্যাঙ্কের আধিকারিক থাকলেও সব চেয়ে কম র্যাঙ্কিং রাখা হয়েছে এসডিও-দেরই। কাকতালীয় ব্যাপার হল, ডিএমডিসি র্যাঙ্কের আধিকারিকরা এতদিন রিটার্নিং অফিসার হতেন। কিন্তু নতুন অর্ডারে ডিএমডিসি র্যাঙ্কের কাউকেই রাখা হয়নি। যাঁদেরই রাখা হয়েছে, তাঁরা সবাই সিনিয়র আধিকারিক।





