Friday, March 13, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কালীঘাটে শেষ মুহূর্তের রান্নাবান্না!‌ বেশিরভাগ ‘সিটিং এমএলএ’ অনিশ্চয়তায়? রবিবারের মধ্যেই তা শেষ করে ‘‌প্রার্থী তালিকা’‌ ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে

সোমবার নাগাদ নির্বাচন কমিশন ভোটের চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা। কালীঘাটে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করলে গরম গরম প্রার্থী তালিকা পরিবেশন করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণত ভোট ঘোষণার পরদিনই দলের প্রার্থী ঘোষণা করেন মমতা। কালীঘাটে এখন শেষ মুহূর্তের রান্নাবান্না চলছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। অবশ্য এবার হেঁসেলের আশপাশেও ঘেঁষতে পারেননি তৃণমূলের বক্সীদা। রান্নাবান্নার জন্য কী বাজার হয়েছে, কী ধরনের মেনু এর কোনওকিছুই সম্ভবত তিনি জানেন না। কালীঘাটের খুব কাছের একজন জানিয়েছেন, দূর থেকে কেবল ১৭ জন প্রার্থীর একটা ফর্দ পাঠিয়েছিলেন রাজ্য সভাপতি। এবার প্রার্থী বাছাইয়ে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের মধ্যেরই দুই রাঁধুনি, এবং তৃতীয় জন পেশাদার প্রতীক জৈন, তাই এবার তালিকা নিয়ে এখনও কিছুই বিশেষ কিছু আসেনি। শুধু আগে থেকে কিছু লোককে ফোন করে তাঁদের সম্ভাব্য আসন জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বালিগঞ্জের জন্য প্রস্তুত হতে বলা হয়েছে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। আবার শুভাশিস চক্রবর্তীকে বলেই দেওয়া হয়েছে সোনারপুর দক্ষিণে যেতে। কিন্তু বাকি বেশিরভাগ ‘সিটিং এমএলএ-ই’ অনিশ্চয়তা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যেমন সোহম চক্রবর্তী জানেন যে তাঁকে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডিপুরে আর প্রার্থী করবে না দল, পরিবর্তে কোথায় পাঠাবে তা তিনি হয়তো জানেন না। আর নতুন যাঁরা এবার টিকিট পেতে পারেন বলে আশা করছেন, তাঁদের কাছে তো কোনও ক্লু-ই নেই বলে খবর। যেমন রাজ্যসভার মনোনয়ন না পেলেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবার বিধানসভায় টিকিট পাবেন। সম্ভবত ঋতব্রতও জানেন না তাঁর কপালে কোন আসন ঝুলছে? কিংবা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফিরে এসে গত চার বছর ধরে তাঁর ‘প্রায়শ্চিত্ত’ চলছে। এবার টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা আঠারো আনা। রাজীবও আন্দাজ করতে পারছেন না, কোন আসনে তাঁকে প্রার্থী করা হবে। একটা বিষয়ে কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিট সম্মত হয়েছে। তা হল পরিবার পিছু এক জনকেই টিকিট দেওয়া হবে। বাবার সঙ্গে মেয়ে, বা মায়ের সঙ্গে ছেলে কিংবা মায়ের সঙ্গে মেয়ে টিকিট পাবেন না। ব্যতিক্রম শুধু দাস পরিবার। ‘দাস’ হলেন বর্তমানে মহেশতলার বিধায়ক দুলালচন্দ্র দাস। তাঁর মেয়ে রত্না চট্টোপাধ্যায় এখন বেহালা পূর্বের বিধায়ক। রত্নাকে শেষমেশ হয়তো বেহালা পূর্বেই প্রার্থী করা হবে। আর দুলাল দাসকে প্রার্থী না করে মহেশতলায় প্রার্থী করা হবে তাঁর ছেলে শুভাশিস দাসকে। ডেকে অভিষেক সে কথা জানিয়েও দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। জেনে যেওয়া যেতে পারে, কেন পরিবারের প্রসঙ্গটি উঠছে। কারণ, ভোটের বাজারে তুমুল আলোচনা যে মেয়র ফিরহাদ হাকিম তাঁর মেয়ে প্রিয়দর্শিনী হাকিমকে প্রার্থী করতে আগ্রহী। একইভাবে দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায় ও বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের ছেলেকে নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সেই সঙ্গে পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের মেয়ে প্রিয়দর্শিনী ঘোষকে নিয়েও জল্পনা রয়েছে। কম্বো অফারে কোনও বিশ্বাস নেই কালীঘাটের। সম্ভবত দ্বিতীয় প্রজন্মের কাউকেই টিকিট দেওয়া হবে না। এবং দেওয়া হলে তাঁর বাবা বা মা টিকিট পাবেন না। এই ব্যাপারটা শুধু ঘটতে পারে কলকাতার মানিকতলা আসনে। সেখানে সুপ্তি পাণ্ডের পরিবর্তে এবার শ্রেয়া পাণ্ডের কপালে অবশেষে শিঁকে ছিড়তে পারে।

চতুর্থবার রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে ঘুঁটি সাজাচ্ছে তৃণমূল। কারা হবেন ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী? পুরনো সব বিধায়কই কি এবার টিকিট পাবেন? নাকি নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে রাজ্যের শাসকদল? তৃণমূল সূত্রে একাধিক প্রার্থীর নাম জানা যাচ্ছে, যাঁরা ছাব্বিশের নির্বাচনে টিকিট পেতে পারেন। কারও হয়ত বিধানসভা কেন্দ্র বদল হতে পারে। আবার কোনও বিধায়কের সন্তানকে বাবার আসনে প্রার্থী করা হতে পারে। কলকাতা ও তার আশপাশের আসনগুলিতে প্রার্থী তালিকা নিয়ে কী জানা যাচ্ছে তৃণমূল সূত্রে? রত্নার বাবা দুলাল দাস মহেশতলার বিধায়ক। সূত্রের খবর, তিনি দলকে জানিয়েছেন, তিনি আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান না। সেক্ষেত্রে রত্নাকে মহেশতলায় প্রার্থী করা হতে পারে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে অনেকে বলছেন, বেহালা পূর্বে যেভাবে রত্না কাজ করছেন, তাতে তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র নাও বদলানো হতে পারে। শোভনকে কোথায় প্রার্থী করা হতে পারে? পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বেহালা পশ্চিমে শোভনকে প্রার্থী করা হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছিল। তবে তৃণমূল সূত্রে খবর, বেহালা পশ্চিমে বিনোদন জগতের জনপ্রিয় কোনও মুখকে প্রার্থী করা হতে পারে। আর উত্তর কলকাতার কোনও আসন থেকে প্রার্থী করা হতে পারে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। ২০১১ সাল থেকে এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তৃণমূলের স্বর্ণকমল সাহা। সূত্রের খবর, এবার তিনি ভোটে নাও দাঁড়াতে পারেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার বার্তা দলকে দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে এই আসনে প্রার্থী করা হতে পারে তাঁর পুত্র সন্দীপন সাহাকে। সন্দীপন বর্তমানে কলকাতা পৌরনিগমের কাউন্সিলর। মানিকতলা আসনে ফের প্রার্থী করা হতে পারে সুপ্তি পাণ্ডেকে। প্রয়াত সাধন পাণ্ডের এই আসনে উপনির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। সাধন পাণ্ডের স্ত্রী সুপ্তি না কন্যা শ্রেয়া, কে টিকিট পাবেন, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। শেষপর্যন্ত তাঁর উপরই ভরসা রেখেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সূত্রে খবর, ছাব্বিশের নির্বাচনেও মানিকতলা আসনে টিকিট পাচ্ছেন সুপ্তি পাণ্ডে। আবার প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিবেক গুপ্তর। জোড়াসাঁকোতে কে প্রার্থী হতে পারেন? ওই কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়কের পুত্রের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। খড়দহের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে এবার দক্ষিণ কলকাতার কোনও আসন থেকে প্রার্থী করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে খড়দহে কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে জল্পনা বেড়েছে। একজন সাংবাদিকের নাম আলোচনায় উঠে আসছে। আবার মদন মিত্রকে নিয়েও আলোচনা চলছে। তিনি টিকিট পাচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। সেখানে তাঁর বর্তমান বিধানসভা কেন্দ্র কামারহাটিতেই তাঁকে প্রার্থী করা হয়, নাকি খড়দহের প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরই রাজ্যের শাসকদলের প্রার্থী তালিকা জানানো হতে পারে।

তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে আরও খবর খুব শিগগির প্রকাশিত হবে ‘‌‘‌আর কে নিউজ’‌’‌। ভোটের সব খবর এখন এখানেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles