আগুনে পুড়ছে রান্নাঘর। নেপথ্যে ইরান যুদ্ধে। সর্বোপরি কালোবাজারীর ভ্রুকুটি। জ্বালানি সংকটে বেসামাল। আতঙ্কিত আমজনতা। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বলেন, “পশ্চিম এশিয়ায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির জেরে ভারতে যে গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠবে দেশ। ঠিক যেমন কোভিড যুদ্ধ জয় করেছিল ভারত।” এনএক্সটি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, “১৪০ কোটি ভারতবাসীর উপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। কোভিড যুদ্ধের মতো আমরা এই সংকটও কাটিয়ে উঠব। আমাদের সংকল্প স্পষ্ট। যুদ্ধের কারণে নাগরিকদের যাতে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়। সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া বাধাগুলি কাটানোর জন্য সরকার নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।” যুদ্ধের আগুনে দেশজুড়ে গ্যাস সংকট সৃষ্টি হতেই কালোবাজারিদের রমরমাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিন প্রধানমন্ত্রী তাঁদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যাঁরা গ্যাসের কালোবাজারি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পাশাপাশি, অসাধু ব্যবসায়ীদের লাগাম টানতে রাজ্য সরকারগুলিকে কড়া নজরদারি চালানোরও আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৩ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলছে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যুদ্ধ। সেই সংঘাতের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে ভারতেও। যুদ্ধের আবহে গোটা বিশ্বের জন্য হরমুজ বন্ধ করে দেয় ইরান। ব্যতিক্রম ছিল রাশিয়া এবং চিন। তার জেরে ভারতে বিপুল পরিমাণ তেল এবং গ্যাস আসার পথ বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকেই ভারতে ধীরে ধীরে মাথাচাড়া দেয় গ্যাসের সংকট। একধাক্কায় অনেকখানি বাড়িয়ে দেওয়া হয় গৃহস্থের ব্যবহৃত এবং বাণিজ্যিক দুই গ্যাসের দামই। তবে জানা গিয়েছে, ভারতের পাতাকাবাহী জাহাজগুলির জন্য ইতিমধ্যেই হরমুজ খুলে দিয়েছে ইরান। দাম বাড়ার পরেও দেশজুড়ে কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয় বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান। বাংলা-সহ গোটা দেশেই রান্নার গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। গ্যাস বুকিং করতে গিয়ে রীতিমতো হয়রানির মধ্যে পড়তে হয় আমআদমিকে। দেশের নানা প্রান্তে বন্ধ হতে থাকে হোটেল-রেস্তরাঁ। সংকটের মধ্যে আমজনতাও যেন অতিরিক্ত গ্যাস বুকিং এবং মজুত করে না রাখেন, তার জন্য বুকিং-এর ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করে দেওয়া হয়েছে। গ্যাসের খরচ বাঁচাতে হু হু করে বাড়ছে ইনডাকশন-সহ বৈদ্যুতিন রান্নার যন্ত্রের। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্র। যার নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এছাড়াও কমিটিতে রয়েছে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী।
দু’দিনের মধ্যেই বিশেষ কোটায় মিলবে গ্যাস সিলিন্ডার। শুধু একটিমাত্র লিঙ্ক ক্লিক করলেই হবে গ্যাস-যন্ত্রণার সমাধান। গ্যাসের সংকট শুরু হতে নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে সাইবার জালিয়াতরা। কলকাতা ও তার আশপাশের বাসিন্দাদের কাছে আসতে শুরু করেছে জালিয়াতদের ফোন। লালবাজারের সাইবার অপরাধ শাখার পক্ষ থেকে প্রত্যেক ডিভিশনের সাইবার শাখাকে সতর্ক করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কেউ সাইবার জালিয়াতের ফাঁদে পা দিয়ে টাকা খুইয়েছেন, এমন অভিযোগ এখনও পুলিশের কাছে আসেনি। তবে যাতে সাইবার জালিয়াতদের ফাঁদে পা দিয়ে কেউ টাকা না খোয়ান, তার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতনও করা হচ্ছে। পুলিশের কাছে আসা খবর অনুযায়ী, গ্যাসের সংকট শুরু হতে বিভিন্নভাবে ফাঁদ পাততে শুরু করেছে সাইবার জালিয়াতরা। ফোন করে কয়েকজনকে কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে সমীক্ষা করা হচ্ছে। ফোনের অন্যদিকে থাকা গ্যাসের গ্রাহক ২৫ দিনের মধ্যেই গ্যাস বুকিং করেছেন বলে তাদের কাছে খবর। তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাঁকে শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়। এতে ওই গ্রাহক কিছুটা ঘাবড়ে গেলে বলা হয়, তাঁকে একটি ফর্ম ভরতে হবে। এর পর তাঁকে হোয়াটস অ্যাপে একটি লিঙ্কও পাঠানো হয়। ওই লিঙ্কে থাকে গ্যাস তথা তেল সরবরাহকারী সংস্থার নাম। এতে যদি কেউ ক্লিক করেন, তখনই তাঁর মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ দখল করে নেবে সাইবার জালিয়াত। তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেবে সে। পুলিশ সূত্রের খবর, অন্য পদ্ধতিতেও জালিয়াতির চেষ্টা করছে সাইবার জালিয়াতরা। তারা ফোন করে গ্রাহকদের বলছে, বিশেষ কোটায় গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা লটারির মাধ্যমে ২৫ দিনের বদলে দু’দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ করছে। লটারিতে ওই গ্রাহকের নাম উঠেছে বলে তাঁকে জানানো হয়। হোয়াটসঅ্যাপে তাঁকে পাঠানো হচ্ছে লিঙ্কও। পুলিশের মতে, এই ফাঁদে কেউ পা দিয়ে লিঙ্কে ক্লিক করলেই তিনি পড়বেন বিপদের মুখে। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও করবে সাইবার জালিয়াতরা। তাই যদি কেউ এই ধরনের ফোনও পান, তিনি যেন সেটি এড়িয়ে চলেন। তিনি যেন কোনওমতেই কোনও লিঙ্ক ক্লিক না করেন, এমনই পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





