সাধারণ ধোসার চেয়ে আলাদা। পুষ্টিগুণেও এগিয়ে। কর্নাটকে ‘কাদালে’ বা কালো ছোলার চাষ বেশি হয়। এক সময়ে সেখানকার কৃষকদের প্রিয় খাবার হয়ে ওঠে কাদালেকালু ধোসা। কারণ সাধারণ চালের ধোসা হজম হয়ে যায় তাড়াতাড়ি। ছোলার ধোসায় ফাইবার বেশি থাকায়, দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভর্তি রাখে। তাই কৃষকেরা এমন খাবারের সন্ধান করেন, যা পেট ভর্তি রাখবে এবং শক্তিও দেবে। কর্নাটকের গ্রামগুলিতে এই ধোসা এক সময়ে প্রাত্যহিক খাবারের তালিকায় ছিল। এখন পুষ্টিগুণের বিচারে তা সকলের কাছেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুতেও এর কদর বেড়েছে। এখন বঙ্গও পিছিয়ে নেই। রাগির ধোসা এখন স্বাস্থ্যসচতেন মহলে বেশ জনপ্রিয়। শহরের রেস্তরাঁগুলিতে ঢুঁ দিলে দক্ষিণী খাবারের তালিকায় রাগির ধোসা দেখতে পাওয়া কিছু অস্বাভিক ব্যাপার নয়। তবে এখন কিন্তু জনপ্রিয়তার নিরিখে চালের বা রাগির দোসাকেও টক্কর দিচ্ছে কাদালেকালু ধোসা। কর্নাটকের অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবারটি এখন কলকাতাবাসীর পছন্দের তালিকাতেও ঢুকে পড়েছে। ‘কাদালেকালু’ শব্দের অর্থ কালো ছোলা। সাধারণ চাল-ডালের ধোসার বদলে কালো ছেলা পিষে এই ধোসা তৈরি করা হয়। স্বাদে ও স্বাস্থ্যগুণে এটি কয়েক কদম এগিয়েই রয়েছে। সাধারণত চাল এবং বিউলির ডাল দিয়ে তৈরি সোনালি আভার সাদা ধোসা খেয়েই অভ্যস্ত বাঙালি। হালে লালচে রঙা রাগির ধোসাও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আর এইসব কিছুকেই এখন পিছনে ফেলে দিয়েছে কালো ছোলার ধোসা। বাদামি রঙের ধোসাটি স্বাদে কোনও অংশে কম নয়। বেশ মুচমুচে। সকালের জলখাবারে খেলে ওজন কমবে, সুগারও বাড়বে না। সাধারণ চালের ধোসায় শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে, কিন্তু ছোলার কারণে এই ধোসায় প্রোটিন ও ফাইবার অনেক বেশি থাকে। এখানেই মূল পার্থক্য। প্রোটিন ডায়েট যাঁরা করছেন, তাঁদের জন্যও আদর্শ জলখাবার হতে পারে কাদালেকালু ধোসা।
কী ভাবে বানাবেন?
উপকরণ : ১ কাপ কালো ছোলা। আধ কাপ আতপ চাল বা দোসা রাইস। ১ চামচ মেথিদানা। ১ চামচ কাঁচালঙ্কা ও আদাবাটা। স্বাদমতো নুন। তেল বা ঘি ভাজার জন্য।
প্রণালী : কালো ছোলা, চাল এবং মেথি আলাদা ভাবে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। ভেজানো উপকরণগুলি জল ঝরিয়ে আদা ও কাঁচালঙ্কা দিয়ে খুব মিহি করে বেটে নিন। স্বাদমতো নুন মিশিয়ে ব্যাটার তৈরি করে রাখুন। তার পর মিশ্রণটি ৪-৫ ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। নন-স্টিক তাওয়া গরম করে তাতে সামান্য তেল বা ঘি দিয়ে ওই ব্যাটার থেকে এক হাতা করে নিয়ে পাতলা করে তাওয়ায় ছড়িয়ে দিন। দুই পিঠ মুচমুচে করে ভাজুন। নারকেলের চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করুন। সাধারণ ধোসার চেয়ে আলাদা। পুষ্টিগুণেও এগিয়ে। এমন দোসা খেলে ওজন কমবে। সুগারও থাকবে নিয়ন্ত্রণে। চাল বা রাগির চেয়ে কালো ছোলার ধোসার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।





