রাজ্যে এই মুহূর্তে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৬৫। তাঁদের মধ্যে কতজন আবার টিকিট পাচ্ছেন, ক’জন বাদ পড়ছেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি বিধায়কদের। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রথম সারির নেতাদের নিয়ে মোদীর বাসভবনে বৈঠকে বসেছিল দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। সূত্রের খবর, ১৫০-র বেশি আসনে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে সেই বৈঠকে। বর্তমান বিধায়কদের সিংহভাগই আবার টিকিট পাচ্ছেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাংশ এবং দার্জিলিং পাহাড়ের তিনটি আসন ছাড়া প্রায় সব আসন নিয়েই রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সেরে নিয়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারের অতিথিনিবাসে আয়োজিত বৈঠকেই সেই আলোচনা সেরে নেওয়া হয়েছিল। অধিকাংশ আসনের জন্য তিনটি করে এবং কিছু আসনের জন্য চারটি করে নাম বেছে নেওয়া হয়েছিল। বুধ ও বৃহস্পতিবার সেই তালিকা হাতে নিয়েই পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নেতারা দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। বিজেপি সূত্রের খবর, জেপি নড্ডার বাসভবনে পর পর দু’দিনের বৈঠকে ১৫০-টির বেশি আসনে প্রার্থীদের নাম নির্ধারিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বাসভবনে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে সেই তালিকা চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিবাসের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির তরফে ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ছিলেন দুই সংগঠন সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী ও সতীশ ঢোন্ড। ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এবং সাংসদ মনোজ টিগ্গাও। তাঁর প্রায় ঘণ্টা তিনেক প্রধানমন্ত্রী আবাসে ছিলেন। বৈঠক সেরে বেরিয়ে তাঁরা কেউই প্রার্থী তালিকার বিষয়ে মুখ খোলেননি। তবে বিজেপি সূত্রের খবর, দলের জেতা আসন এবং সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় আসনগুলি নিয়েই সর্বাগ্রে আলোচনা সেরে ফেলা হয়েছে। বর্তমান বিধায়কদের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই এ বারও টিকিট পাচ্ছেন, তা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিধায়ক এ বার আর টিকিট পাবেন না। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থতার কারণে নিজেরাই লড়তে চান না।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা অনেকগুলি দফায় প্রকাশ করেছিল বিজেপি। তালিকা প্রকাশে বেশ দেরিও হয়েছিল সে বার। এ বার তেমন পরিস্থিতি তৈরি হতে দিতে চান না বিজেপি নেতৃত্ব। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই যাতে অন্তত ১৫০ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দেওয়া যায়, সে লক্ষ্য মাথায় রেখেই নেতৃত্ব এগোতে শুরু করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রী আবাসে সে কাজ সারাও হয়ে গিয়েছে। বিজেপি সূত্র বলছে, নির্বাচন কমিশন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করলেই বিজেপি প্রথম দফার এই প্রার্থী তালিকাটি প্রকাশ করে দেবে। বিজেপির প্রার্থী তালিকায় সংগঠন থেকে উঠে আসা বেশ কিছু মুখ এ বার দেখা যাবে। আগে কখনও বিধানসভা বা লোকসভার ভোটে লড়েননি, এমন কিছু নতুন মুখও টিকিট পাচ্ছেন।




