Wednesday, March 11, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে একটি করে গ্যাসের ওষুধ?‌ কতটা ক্ষতিকর!‌ দীর্ঘমেয়াদে এই সব ওষুধ লাভের চেয়ে ক্ষতিই করে বেশি

চারটি মশলাই অন্ত্রের জন্য খুব উপকারী। আর অন্ত্র ভাল থাকলে ত্বক, চুল, হজমক্ষমতা সব ভাল থাকে। কী কী উপকারিতা রয়েছে এই মশলার? পাচনতন্ত্রের যে কোনও অস্বস্তি হ্রাস করতে পারে মৌরি। পেটফাঁপা হোক বা বমি ভাব ও গ্যাসের মতো সমস্যায় ভুগলে এই মশলার উপর ভরসা রাখা যায়। খাওয়ার পর মৌরি কেবল মুখশুদ্ধি হিসেবে কাজ করে না, এই মশলার অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল এবং প্রদাহনাশী বৈশিষ্ট্য খাবার হজমে সাহায্য করে। তার ফলে অন্ত্র ভাল থাকে এবং সামগ্রিক ভাবে ত্বক ও চুলেরও স্বাস্থ্যরক্ষা হয়। অন্ত্রের স্বাস্থ্যরক্ষায় সকালে খালি পেটে ভেজানো মেথি বা মেথির জল খাওয়া উচিত। এতে হজমশক্তি বাড়ে, কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপার সমস্যা কমে। তা ছাড়াও মেথির দানা বা পাতা চুল ও ত্বক ভাল রাখতে পারে। পাচনতন্ত্রের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে জোয়ানও। এতে থাকা থাইমল নামক উপাদান পেটের অ্যাসিড ক্ষরণ বাড়িয়ে হজমক্ষমতা বাড়ায়। জোয়ানের ফাইবার ও এনজ়াইম গ্যাস দূর করতেও সাহায্য করে। এর অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল গুণ ব্রণ নিরাময়ের জন্য খুব উপকারী। সামগ্রিক ভাবে অন্ত্রকে ভাল রাখার ফল হিসাবে ত্বক ও চুলও ভাল থাকে এই মশলার গুণে। প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে জিরে। অর্থাৎ, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বার করে দেয়। পাশাপাশি, এতে থাকা খনিজ পদার্থ ত্বক উজ্জ্বল ও ব্রণমুক্ত রাখে। অন্ত্রের হজমে সাহায্যকারী উৎসেচকগুলিকে সক্রিয় করতে পারে জিরে। ফলে হজমের সমস্যা কমে যেতে পারে সহজে।

আলসার বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স কমাতে ৬–৮ সপ্তাহ পিপিআই খাওয়ার নিয়ম৷ কিন্তু শুরু করার পর অনেকেই বছরের পর বছর খেয়ে যান৷ কখনও খান জীবনভর৷ সেটিই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অম্বলের কারণে অস্বস্তি যদি খুব বেশি হয়, তা হলে রোজ না খেয়ে ২-৩ দিন টানা খেয়ে বন্ধ করে দিন। আবার এক সপ্তাহ পরে খান। হঠাৎ করে ওষুধ ছাড়লে অনেকেরই কষ্ট হয়। সে ক্ষেত্রে রোজের বদলে এক দিন অন্তর ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। ধীরে ধীরে কমিয়ে ফেলুন। হার্টের অসুখ রয়েছে বা অন্য কারণে ওযুধটি খেতে হয়, এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলবেন। গ্যাস-অম্বলের একটা বড়ি খেয়ে নিলেই স্বস্তি। তার পর সারা দিন যত খুশি চর্বচোষ্য খান, অম্বল হবে না। মনে মনে এটা ভেবেই খুশি থাকেন যে, গ্যাসের ওষুধ তো সকালেই খেয়ে নিয়েছেন, তা হলে যা খুশি খেয়ে নেওয়া যায়। কিছুতেই গলা-বুক জ্বালা হবে না। এই ভাবনায় কোনও ভুল নেই ঠিকই, তবে তা কিন্তু সাময়িক। দিনের পর দিন একই ওষুধ খেয়ে গেলে, তার কার্যকারিতা এক সময়ে ফুরিয়ে যাবে। এর পরে ওষুধ খেলেও অম্বলের সমস্যা কমবে না। অন্য সমস্যাও দেখা দিতে থাকবে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ মুড়িমুড়কির মতো খেলে তা হার্ট ও কিডনির উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে। এই ধরনের ওষুধের পোশাকি নাম প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (পিপিআই)। এই ওষুধগুলি সাময়িক ভাবে অম্বল কমায় ঠিকই, বদলে শরীরের পুষ্টিরস শুষে নেয়। পিপিআই গোত্রের ওষুধ মাসের পর মাস খেয়ে গেলে, অপুষ্টিজনিত রোগ হতে পারে। বিকল হতে পারে কিডনি। হাড়ের ঘনত্বও কমে যায় এই সব ওষুধে। ফলে গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা, অস্টিপোরোসিসের মতো হাড় দুর্বল হয়ে পড়ার রোগের ঝুঁকি বাড়ে। অম্বলে সবচেয়ে ভাল ওষুধ লিকুইড অ্যান্টাসিড৷ কিন্তু মানুষ পিপিআই খান৷ আর তা খান চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়েই। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি গোত্রের পিপিআাই আছে, যেগুলির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মারাত্মক। যেমন, ওমিপ্রাজ়োল, প্যান্টোপ্রাজ়োল বা ইসোমিপ্রাজ়োল জাতীয় ওষুধ। ভাল করে খেয়াল করে দেখবেন, দোকান থেকে এই গোত্রের ওষুধই বেশি কেনা হয়। কমবেশি সকলের বাড়ির ওষুধের বাক্সে এই গোত্রের পিপিআই থাকেই। এরা অম্বল কমানোর জন্য পাকস্থলীর স্বাভাবিক অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ওই অ্যাসিড যেমন খাবার হজমে সাহায্য করে, তেমনই ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়াও নাশ করে। স্বাভাবিক অ্যাসিডের মাত্রা কমে গেলে, তখন শরীর নিজে থেকে খাবার হজম করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, এবং অন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণও বেড়ে যায়।

পুষ্টবিদেরা মনে করাচ্ছেন, ওট্‌স, কর্নফ্লেক্স, মুজ়লি, যেটাই খাওয়া হোক না কেন, তাতে যেন ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিনের শর্ত পূরণ হয়। দুধ অথবা টক দই এবং বাদাম দিয়ে ওট্‌স, কর্নফ্লেক্স বা মুজ়লি খেলে বাড়তি প্রোটিন যোগ হয়। এই ধরনের দানাশস্য জাতীয় খাবার খাওয়ার সময় মুজ়লি বা গ্র্যানোলার সঙ্গে থাকা প্যাকেটবন্দি ড্রাই ফ্রুটস না খেয়ে টাটকা ফল এবং বাদাম জুড়ে নেওয়াই ভাল। তাতে পুষ্টির মাত্রা বাড়িয়ে তোলা যায়। বাদামে থাকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা ফ্যাটি অ্যাসিড, যা শরীরের জন্য জরুরি। কলা, আম, খেজুর, বেরি জাতীয় ফল শুধু ফাইবারের চাহিদা পূরণ করে না বরং ভিটামিন এবং খনিজেরও জোগান দেয়।

ওট্‌স: এটি হল দানাশস্য। রোলড, স্টিলকাট, বিভিন্ন ধরনের ওট্‌স হয়। এতে মেলে উচ্চ মাত্রার ফাইবার (বিটা গ্লুকান)। এ ছাড়া বি ভিটামিন, কপার, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ়ের মতো খনিজও এতে পাওয়া যায়। তা ছাড়া প্রোটিন, সামান্য পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও মেলে এতে।

মুজ়লি: মুজ়লি হল রোলড ওট্‌স, বাদাম, বীজের মিশ্রণ। বাজার চলতি মুজ়লিতে মিষ্টি এবং তেলের ব্যবহারও হয় কোনও কোনও সময়ে। আধ কাপ মুজ়লিতে ৪ গ্রাম ডায়েটরি ফাইবার, ৩.৬ গ্রাম প্রোটিন মেলে। মোটামুটি আধ কাপ মুজ়লিতে ১৫০ কিলোক্যালোরি মেলে।

গ্র্যানোলা: গ্র্যানোলা হল রোল্‌ড ওট্‌স, বাদাম, মধু, বীজের মিশ্রণ। কিছুটা মুজ়লির মতোই। আধ কাপ গ্র্যানোলায় ১৫.৫ গ্রাম পর্যন্ত শর্করা বা চিনি থাকতে পারে। ৫ গ্রাম প্রোটিন মেলে আধ কাপ গ্র্যানোলায়। সমপরিমাণ মুজ়লির চেয়ে গ্র্যানোলায় ক্যালোরির মাত্রা বেশি।

কর্নফ্লেক্স: কর্নফ্লেক্সে ফাইবার কম, তবে প্রোটিনের মাত্রা বেশি। আধ কাপ কর্নফ্লেক্সে ১.২ গ্রাম ফাইবার ৭.৫ গ্রাম প্রোটিন মেলে। তবে অনেক সময় কৃত্রিম চিনি থাকে এতে। ফলে চট করে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে।

তবে চিনি যেহেতু ক্ষতিকর, তাই পুষ্টিবিদেরা গোটা দানাশস্যই বেছে নিতে বলছেন। রোলড বা স্টিলকাট ওট্‌স ফ্লেভার্ড ওট্‌সের চেয়ে ভাল। কর্নফ্লেক্স বা মুজ়লি খেতে হলেও চিনির মাত্রা কতটা, বুঝে নেওয়া ভাল। স্বাস্থ্যের কথা ভাবতে হলে, কৃত্রিম চিনি বাদ দেওয়া দরকার।‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles