Monday, March 9, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিশ্বজয়ে বিশ্বরেকর্ড!‌ হাসছি মোরা হাসছি দেখো!‌ ২০০৭, ২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল ভারত

আহমদাবাদে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। এই জয়ের পথে ১৯টি রেকর্ড গড়েছে ভারতীয় দল। কে নেই সেই তালিকায়। সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিশন, অভিষেক শর্মারা যেমন ব্যক্তিগত নজির গড়েছেন, তেমনই দল হিসাবে রেকর্ড করেছে ভারত। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই ১৯ রেকর্ড কী কী।

তৃতীয় বার বিশ্বজয়
২০০৭, ২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল ভারত। প্রথম বার কোনও দল তিন বার বিশ্বজয়ের রেকর্ড গড়ল। ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ় দু’বার করে এই ট্রফি জিতেছে।

পর পর দু’বার বিশ্বজয়!‌ হাসছি মোরা হাসছি দেখো!‌
ভারতই প্রথম দল যারা পর পর দু’বার এই বিশ্বকাপ জিতল। এই কৃতিত্ব বিশ্বের আর কোনও দেশের নেই।

ঘরের মাঠে প্রথম বিশ্বজয়
কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে এর আগে কোনও দল দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। প্রথম দেশ হিসাবে ভারত সেই রেকর্ড গড়েছে।

বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বাধিক রান
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বাধিক রান (৫ উইকেটে ২৫৫) করেছে ভারত। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে কোনও দল ২০০ রান পার করতে পারেনি।

সর্বাধিক ব্যবধানে জয়
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জ়িল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়েছে ভারত। কুড়ি-বিশের বিশ্বযুদ্ধে ফাইনালে এর আগে কোনও দল এত রানে জিততে পারেনি।

এক বিশ্বকাপে তিন বার ২৫০-র বেশি রান
এই বিশ্বকাপে তিন বার ২৫০ রানের বেশি করেছে ভারত। জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ২৫৬, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৫৩ ও নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৫৪ রান করেছে তারা। এর আগে এক বিশ্বকাপে কোনও দল তিন বার ২৫০-র বেশি রান করেনি।

বিশ্বকাপ ফাইনালে বুমরাহের নজির
নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন বুমরাহ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এটি দ্বিতীয় সেরা বোলিং। ২০১২ সালের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার অজন্তা মেন্ডিস ১২ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। সেটিই রেকর্ড।

বিশ্বকাপ ফাইনালে দ্রুততম অর্ধশতরান
রবিবার মাত্র ১৮ বলে ৫০ করেছেন অভিষেক। বিশ্বকাপের ফাইনালে দ্রুততম অর্ধশতরান করেছেন তিনি। এর আগে এই রেকর্ড ছিল হাইনরিখ ক্লাসেনের দখলে। ২০২৪ সালের ফাইনালে ২৩ বলে ৫০ করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার।

বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর
নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮৯ রান করেছেন সঞ্জু স্যামসন। বিশ্বকাপের ফাইনালে এটি কোনও ব্যাটারের করা সর্বোচ্চ রান। এর আগে ২০১৬ সালের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের মার্লন স্যামুয়েলস ৮৫ রান করেছিলেন।

বিশ্বকাপে সর্বাধিক ছক্কা
এ বারের বিশ্বকাপে ২৪টি ছক্কা মেরেছেন সঞ্জু। একটি বিশ্বকাপে এটি রেকর্ড। ফিন অ্যালেনের ২০ ছক্কার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন তিনি।

টপ অর্ডারের রেকর্ড
রবিবার নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারই অর্ধশতরান করেছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বার কোনও দলের প্রথম তিন ব্যাটার অর্ধশতরানের নজির গড়েছেন।

সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি
ফাইনালে অভিষেক ও সঞ্জুর মধ্যে ৯৮ রানের জুটি হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এটি সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি। ২০০৯ সালে পাকিস্তানের কামরান আকমল ও শাহজ়াইব হাসান ওপেনিং জুটিতে ৪৮ রান করেছিলেন। সেটিই ছিল এত দিন সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি।

পাওয়ার প্লে-তে সর্বাধিক রান
ফাইনাল তো বটেই, বিশ্বকাপের পাওয়ার প্লে-তে সর্বাধিক রান করেছে ভারত। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৬ ওভারে ৯২ রান করেছে তারা। ২০২৪ সালে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাওয়ার প্লে-তে ৯২ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ও। কিন্তু তাদের ১ উইকেট পড়েছিল। ভারত বিনা উইকেটে তা করেছে।

সঞ্জু-ঈশানের নজির
রবিবার প্রথম উইকেটে সঞ্জু ও ঈশানের মধ্যে ১০৫ রানের জুটি হয়েছে, যা বিশ্বকাপ ফাইনালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০১০ সালের ফাইনালে ইংল্যান্ডের ক্রেগ কিজ়ওয়েটার ও কেভিন পিটারসেনের মধ্যে ১১১ রানের জুটি রেকর্ড।

পাওয়ার প্লে-তে অভিষেকের রেকর্ড
অভিষেক বিশ্বের প্রথম ব্যাটার যিনি টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লে-র মধ্যে চার বার অর্ধশতরান করে ফেলেছেন। এই রেকর্ড আর কারও নেই।

৮০-র বেশি রানের হ্যাটট্রিক
বিশ্বকাপের শেষ তিন ম্যাচে শতরান করতে পারেননি সঞ্জু। সেই সুযোগ হাতছাড়া হলেও রেকর্ড গড়েছেন সঞ্জু। শেষ তিন ম্যাচে তিনি যথাক্রমে অপরাজিত ৯৭, ৮৯ ও ৮৯ রান করেছেন। বিশ্বকাপে পর পর তিন ম্যাচে ৮০-র বেশি রান করা দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। ২০১০ সালে এই নজির গড়েছিলেন শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়বর্ধনে।

বিশ্বকাপে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বাধিক রান
চলতি বিশ্বকাপে ৩২১ রান করেছেন সঞ্জু। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি কোনও ভারতীয় ব্যাটারের করা সর্বাধিক রান। এর আগে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ১৪৯ রান করেছিলেন বিরাট কোহলি। তাঁর থেকে ১৭৮ রান বেশি করেছেন সঞ্জু।

বিশ্বকাপে সর্বাধিক দলগত ছক্কা
ভারত এই বিশ্বকাপে ১০৬টি ছক্কা মেরেছে। এক বিশ্বকাপে এর আগে কোনও দল ১০০ বা তার বেশি ছক্কা মারতে পারেনি। রেকর্ড গড়েছে ভারত।

গম্ভীরের রেকর্ড
গৌতম গম্ভীরই প্রথম ব্যক্তি যিনি ক্রিকেটার ও কোচ হিসাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছেন। ২০০৭ সালে ক্রিকেটার হিসাবে কুড়ি-বিশের বিশ্বকাপ জিতেছিলেন তিনি। এ বার কোচ হিসাবে সেই কীর্তি গড়েছেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনি। যারা অংশ নিয়েছে, তারা প্রত্যেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পেয়েছে। যে দল যতটা এগোতে পেরেছে, তার পুরস্কারের অঙ্ক তত বেড়েছে। রবিবার অহমদাবাদের মাঠে নিউ জ়িল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। ফলে সবচেয়ে বেশি টাকা পেয়েছেন সূর্যকুমার যাদবেরা। এ বারের বিশ্বকাপের জন্য ১২০ কোটি টাকার পুরস্কার ধার্য করেছিল আইসিসি। প্রতিটি ধাপে টাকার অঙ্ক নির্দিষ্ট ছিল। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ যাওয়া দলগুলি পেয়েছে ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। যে দলগুলি সুপার এইট পর্বে বাদ গিয়েছে তারা পেয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, পাকিস্তান সাড়ে ৩ কোটি টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড। তারা পেয়েছে ৭ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। ফাইনালে রানার্স দল নিউ জ়িল্যান্ড পেয়েছে ১৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা। আর বিশ্বকাপ জিতে ভারত পেয়েছে ২৭ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা। আইসিসির কাছ থেকে এই পরিমাণ টাকা পেয়েছেন সূর্যেরা। বিশ্বকাপ জিতলে সাধারণত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড একটি পুরস্কারমূল্য ঘোষণা করে। এ বারও তারা সেটা করবে কি না তা এখনও জানা যায়নি। যদি মিঠুন মানহাসদের বোর্ড ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেন, তা হলে আরও বেশি টাকা পকেটে যাবে সূর্যদের।

ভারতীয় দলের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করে শচীন লেখেন, ‘টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে প্রথমবার কোনও দল টানা দুবার বিশ্বকাপ জিতল। ভারত এই ট্রফি জয়ের যোগ্য দল। আমদের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। একইসঙ্গে বিশেষ ধরণের ক্রিকেট প্রদর্শন করেছে ভারত। দারুণ হয়েছে, টিম ইন্ডিয়া। জয় হিন্দ।’ ফাইনালে বল গড়ানোর আগে ট্রফি হাতে মাঠে ঢোকেন দুই বিশ্বজয়ী ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং রোহিত শর্মা। দুই প্রিয় তারকা দেখে উচ্ছ্বসিত দর্শক। ফাইনালের পর ভারতীয় দলের ট্রফিজয়ের ছবি নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন মাহি। লেখেন, ‘আহমেদাবাদে ইতিহাস তৈরি হল। ভারতীয় দল, সাপোর্ট স্টাফ এবং বিশ্বব্যাপী ভারতীয় সমর্থকদের অভিনন্দন। ওদের খেলতে দেখা দারুণ অভিজ্ঞতা। কোচ সাহাব, এভাবেই হাসিখুশি থেক। তোমার মুখে হাসি দেখতে ভালো লাগে। ইনটেনসিটির সঙ্গে হাসি একেবারেই কিলার কম্বো। দারুণ কাজ। সবাই উপভোগ কর। (আর বুমরাকে নিয়ে নতুন করে কিছু না লেখাই ভালো। চ্যাম্পিয়ন বোলার)।’ উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কিংবা ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ভারত জিতেছিল ধোনির নেতৃত্বে। দুই টুর্নামেন্টেই দারুণ খেলেছিলেন গম্ভীর। পরে অবশ্য ধোনি-গম্ভীরের সম্পর্কের টানাপড়েন এবং মাঠের ভেতরের মতবিরোধ নিয়ে বিস্তর চর্চা হয়েছে। তবে বিশ্বজয়ের পর টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচের প্রশংসাই করেছেন মাহি। প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মা লেখেন, ‘গোটা দল দুরন্ত খেলেছে। সকলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার শুভেচ্ছা।” মাহি এবং হিটম্যানের মতো বিরাট কোহলিও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “আমরা আবারও চ্যাম্পিয়ন হলাম। আহমেদাবাদে দুর্দান্ত একটা জয় পেয়েছি আমরা। গোটা প্রতিযোগিতায় অসাধারণ খেলেছ। এই দলটার সঙ্গে কারওর তুলনা হবে না। তোমরা দারুণ সাহসের পরিচয় দিয়েছে। কঠিন পরিস্থিতিতে লড়েছ। চ্যাম্পিয়নও হয়েছ। সকল ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফকে শুভেচ্ছা। জয় হিন্দ।’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় লেখেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য টিম ইন্ডিয়াকে অসংখ্য অভিনন্দন। ভারত ভীষণই শক্তিশালী। বড় ম্যাচে আরও ভালো পারফর্ম করেছে। মহিলা ক্রিকেট দল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে অনূর্ধ্ব ১৯ দল। এবার পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও জিতল ভারত। সত্যিই ভারতীয় ক্রিকেট দুর্দান্ত জায়গায়।’ তাছাড়াও অভিনন্দন জানিয়েছেন টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, যুবরাজ সিং, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন অধিনায়ক গ্রেম স্মিথ, ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার কেভিন পিটারসেন-সহ অনেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles