জালিয়াতি করে এমন জীবন আর বেশিদিন সইল না। নেপাল পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তরের আধিকারিকরা আচমকাই রবিবার হানা দেয় বেলঘরিয়ার শরৎপল্লির ওই আবাসনে। দীপা ও অরিন্দমের ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে লোহার ট্রাঙ্কভর্তি নগদ টাকা, সেইসঙ্গে ৭০ কোটি টাকার জালনোট উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হয়েছে ১২ টি মোবাইল ও বিলাসবহুল গাড়ি উদ্ধার করেছে তদন্তকারী আধিকারিকরা। অরিন্দম ধর ও দীপা ধর-সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে নেপালের গোয়েন্দারা। ধৃত সাতজনের মধ্যে একজন নেপালের নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। কোথা থেকে এত পরিমাণ জালনোট এল, তা জানতে মরিয়া তদন্তকারীরা। ধৃতদের প্রত্যেককে জেরা। নিজেদের এলাকায় এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কামারহাটির সিপিএম নেতা সায়নদীপ মিত্র। তাঁর দাবি, ”শুনেছি ওঁরা খুবই গুণী মানুষ। বাড়িতে রাশিয়ান বেলিড্যান্সাররা আসত, নেপালের টাকা উদ্ধার হয়, রঙিন মদের গ্লাস নিয়ে নাচগান হয়। এখনও পুলিশ খুঁজে বের করুক নেপালের জাল টাকার সূত্র কী। আমাদের এই কামারহাটি এলাকাতেই কখনও কারও বাড়ির খাটের তলা থেকে বিপুল টাকা পাওয়া যাচ্ছে, কখনও নেপালের টাকা উদ্ধার হচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এতে এলাকারই নাম খারাপ হচ্ছে। কিন্তু দেখতে হবে এসব কালো টাকা যোগসূত্র একই নয় তো?”
বাড়িতে রাশিয়ান বেলিড্যান্সারদের নাচানাচি, দেদার উড়ছে মদ আর টাকার ফোয়ারা। সারাক্ষণই যেন উৎসবের মেজাজ। কামারহাটি পুরসভার শরৎপল্লির ওই বাড়ি এলাকায় বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছিল। প্রতিবেশীরা সকলেই জানতেন যে এই বাড়িতে প্রচুর টাকাপয়সা ওড়ানো হয়। গুঞ্জন, ফিসফাসও চলত, এত টাকা আসছে কোথা থেকে? অবশেষে বোঝা গেল টাকার উৎস আসলে কী। বেলঘড়িয়ার শরৎপল্লি থেকে জালনোট কারবারের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করল নেপাল পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। গ্রেপ্তার এক নেপালি নাগরিক-সহ মোট ৭ জন। বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ৭০ কোটি টাকার জালনোট, ট্রাঙ্কভর্তি নগদ অর্থ। এর নেপথ্যে বড়সড় আন্তর্জাতিক পাচারচক্র আছে বলে অনুমান গোয়েন্দাদের। কামারহাটি পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত বেলঘড়িয়া শরৎপল্লি এলাকা। এখানকার এক আবাসনে থাকতেন দীপা ধর ও স্বামী অরিন্দম ধর। দীপা এখানকারই বাসিন্দা। বছর কয়েক আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের হরিনাভি এলাকার অরিন্দম ধরের সঙ্গে বিয়ে হয় দীপার। ২০২৪ সালে স্বামী-স্ত্রী যান নেপালে। সেখান থেকেই সম্ভবত তাঁরা জালনোট পাচারের কারবার শুরু করে। গোয়েন্দা আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ভিডিও কল করে জালনোট দেখিয়ে ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করার কাজ করত এই দম্পতি। নানা সংস্থায় টাকা বিনিয়োগ করে সেটা দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেওয়া হতো। আর সেই বেআইনি ব্যবসার জেরেই তাঁরা বিলাসবহুল জীবন যাপন করতেন। বাড়িতেই দেদার ফুর্তির ব্যবস্থা ছিল। নামীদামি বেলিড্যান্সারদের আনাগোনা, বড় বড় ব্যবসায়ীদের নিয়ে রাতে পার্টি – সব চলত অহরহ।




