Monday, March 9, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিশ্বকাপে পরপর তিন ম্যাচে ৯৭, ৮৯, ৮৯! সঞ্জুকে সাধনার পুরস্কার দিলেন ক্রিকেটদেবতা

পরিশ্রম করেছেন। বেঞ্চে বসে থেকে গা এলিয়ে দেননি। সাধনা করেছেন। ক্রিকেটদেবতা সাধনার ইনাম সত্যিই দেন। ইডেনে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭। ওয়াংখেড়েতে ৪২ বলে ৮৯। আর অহমদাবাদে ৪৬ বলে ৮৯। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ তিন ম্যাচে ২৭৫ রান করেছেন সঞ্জু স্যামসন। ইডেন ও ওয়াংখেড়েতে হয়েছেন ম্যাচের সেরা। অহমদাবাদে ফাইনাল জিতলেও হয়তো তিনিই সেরার পুরস্কার পাবেন। এমনকি, বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটারও হতে পারেন। অথচ, বিশ্বকাপের শুরুতে দেখে মনে হয়েছিল, বেঞ্চে বসেই কেটে যাবে প্রতিযোগিতা। কিন্তু সঞ্জু সুযোগ পেলেন। আর সুযোগ পেয়ে কামাল করে দিলেন। বুঝিয়ে দিলেন, ক্রিকেট সত্যিই মহান অনিশ্চয়তার খেলা। পরিশ্রম করলে ফল আপনি পাবেনই। বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ়ে সুযোগ পেলেও রান করতে পারেননি সঞ্জু। ফলে তিনি বিশ্বকাপের দলে থাকলেও প্রথম একাদশে সদস্য যে হবেন না, তা পরিষ্কার ছিল। শুরুতেও সেটাই দেখা যায়। অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিশন ওপেন করেন। কিন্তু ক্রিকেটদেবতা বোধহয় অন্য কিছু চাইছিলেন। অভিষেক একের পর এক ম্যাচে ব্যর্থ হলেন। ফলে বিকল্প পথে যেতে গল গৌতম গম্ভীরকে। রিঙ্কু সিংহের বদলে সুযোগ পেলেন সঞ্জু। জ়িম্বাবোয়ে ম্যাচে শুরুটা করেছিলেন। কিন্তু বড় রান করতে পারেননি। শেষ তিনটে ম্যাচে সেটাই করে দেখালেন।

সুপার এইট থেকে সেমিফাইনালে উঠতে হলে ইডেনে জিততেই হত ভারতকে। প্রথমে ব্যাট করে ১৯৫ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। চাপের ম্যাচে রান তাড়া সহজ ছিল না। সেটাই সহজ করে দেখান সঞ্জু। অপর প্রান্তে উইকেট পড়লেও তাঁকে থামানো যায়নি। প্রথম বল থেকে চালিয়ে খেলেন। অর্ধশতরানের পর আবার গার্ড নেন। বুঝিয়ে দেন, খেলা শেষ না করে মাঠ ছাড়বেন না। সেটাই করে দেখান। ছক্কা-চার মেরে দলকে সেমিফাইনালে তুলে মাঠ ছাড়েন সঞ্জু। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান। নিজের প্রিয় ব্যাটে চুমু খান। তখনও তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল, বিশেষ কিচ্ছু করেননি। একটি ম্যাচ খেলেছেন শুধু। সঞ্জু বরাবরই চুপচাপ। খুব বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন না। বরং চুপচাপ নিজের কাজ করেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন, কোথায় সমস্যা হচ্ছে। সেটা ঠিক করার প্রয়োজন ছিল। তাই ফিরে যান একেবারে শূন্যে। শুরু থেকে শুরু করেন। যে শটে সমস্যা হচ্ছিল, তা শুধরে নেন। অনেক বেশি ভি (লং অন থেকে লং অফ)-তে খেলেন। বল বেছে বড় শট মারেন। নিজের উপর আত্মবিশ্বাসও রাখেন। এই আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রমের ফল পান সঞ্জু। ইডেনে দলকে জিতেয়ে মাঠ ছাড়েন। সঞ্জু জানতেন, একটি ম্যাচে ভাল খেললে হবে না। ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে। ওয়াংখেড়েতে দেখা যায় সেই ছবি। ইডেনে যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই ওয়াংখেড়েতে শুরু করেন তিনি। শতরানের সুযোগ ছিল। কিন্তু তিনি নিজের মাইলফলকের কথা ভাবেননি। তিনি দলের কথা ভেবেছেন। সেই কারণে, ৮৯ রানের মাথায় বড় শট মারতে গিয়ে আউট হন। ফাইনালে তাঁকে সুবিধা করে দিলেন অভিষেক শর্মা। তিনি যে ভাবে খেললেন, তাতে কিছুটা সময় পেলেন সঞ্জু। অভিষেক আউট হওয়ার পর অবশ্য সঞ্জুকে আর থামানো যায়নি। একের পর এক চার-ছক্কা মারেন। এ বারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২৪টি ছক্কা মেরেছেন সঞ্জু। তা-ও বাকিদের থেকে চার ম্যাচ কম খেলে। শুরু থেকে খেললে হয়তো আরও বড় রেকর্ড গড়তে পারতেন। বিশ্বকাপে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন সঞ্জু। বিশ্বকাপ ফাইনালে এটি কোনও ব্যাটারের করা সর্বাধিক রান। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের মার্লন স্যামুয়েলসের করা ৮৫ রান এত দিন ছিল সর্বাধিক। ৮৯ রান করে তাঁকে টপকে গেলেন সঞ্জু। ভারতীয়দের মধ্যে এর আগে ২০১৪ সালের ফাইনালে ৭৭ রান করেছিলেন বিরাট কোহলি। সেই রেকর্ডও এ দিন ভেঙে গেল। চলতি বিশ্বকাপে ৩২১ রান করেছেন সঞ্জু, যা দ্বিতীয় সর্বাধিক। তা-ও চার ম্যাচ কম খেলেছেন ভারতীয় ওপেনার।খেলা শেষে সঞ্জু বলেন, “আমি কোনও দিনই ব্যক্তিগত মাইলফলকের কথা ভাবিনি। সব সময় ভেবেছি কী ভাবে দলের ভাল হবে। দলের জন্য খেলতে হবে। ১০০ করতে গেলে কয়েকটা বল লাগতে পারত। তাতে দলের ক্ষতি হত। বরং এতে দলেরই ভাল হল।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles