২০২৩-র ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত হারার পর থেকেই ‘অপয়া’ নামে কুখ্যাত। তবে শুধু ভারত নয়, এখানে ভুগেছে আইপিএলের দলগুলোও। ক্রিকেটভক্তদের প্রশ্ন ‘ফাঁড়া’ কাটানোর উপায়? আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম। ভারতের ক্রিকেটভক্তদের কাছে আতঙ্কের অপর নাম। নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের ‘অপয়া’ হয়ে ওঠার ইতিহাস। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম পূর্বে পরিচিত ছিল মোতেরা নামে। বর্তমান দর্শকাসন সংখ্যা ১ লক্ষ ৩২ হাজার।নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের ‘অপয়া’ হয়ে ওঠার ইতিহাস। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম পূর্বে পরিচিত ছিল মোতেরা নামে। বর্তমান দর্শকাসন সংখ্যা ১ লক্ষ ৩২ হাজার। ২০২০ সালে স্টেডিয়ামকে নতুন করে তৈরি করার পর নামকরণ হয় নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম। তবে ‘সমস্যা’ শুরু ২০২৩-র বিশ্বকাপ ফাইনালে। এক যুগ পর ওয়ানডেতে বিশ্বজয়ের অপেক্ষায় ছিল গোটা দেশ। অস্ট্রেলিয়া সেদিন ১ লক্ষ ৩২ হাজার জনতাকে ‘চুপ’ করিয়ে দেয়। ক্রিকেটভক্তদের অনেকে মনে করেন, ফাইনাল ওয়াংখেড়ে বা ইডেনে হলে হয়তো ছবিটা এরকম হত না। আহমেদাবাদের দর্শকরা যেন রোহিত-বিরাটদের উৎসাহ দিতেই ভুলে গিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ জিতল ঠিকই, তবে তারপর থেকেই তাদের পতন শুরু। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হয়েছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া ফাইনালেই উঠতে পারেনি। এবার তো সুপার এইটের টিকিটই পাননি ট্র্যাভিস হেডরা। শুধু আন্তর্জাতিক ম্যাচে নয়। আইপিএলের দলগুলোও সমস্যায় পড়েছে। যেমন গুজরাট টাইটান্স বা চেন্নাই সুপার কিংস এই মাঠে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তারপর থেকে সাফল্যের মুখ দেখেনি। সব থেকে বড় বিপদে পড়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। হিসেব মতো আহমেদাবাদে তাদের ফাইনাল খেলার কথাই ছিল না। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেখানে খেলে এবং বিরাট কোহলি প্রথমবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়। সেলিব্রেটই করতে পারল না। বেঙ্গালুরুতে সেলিব্রেশনে ১৩ জন পদপিষ্ট হয়ে মারা যান। তারপর থেকে ট্রফিজয় চুপ থাকতে হয়েছে আরসিবি’কে। এমনকী আইপিএলের ম্যাচ কোথায় খেলবে, তা এখনও জানেন না বিরাটরা। স্টেডিয়ামে আরও সমস্যা আছে। এর আলো বসানো স্টেডিয়ামের ছাদে। কোনও ফ্লাডলাইট নেই। এই ব্যবস্থাকে বলে রিং অফ ফায়ার। যাতে চোখে সরাসরি আলো পড়ে এবং ক্যাচ ধরতে অসুবিধা হয়। এই স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টিতে ভারতের রেকর্ড খুবই ভালো। ১০টার মধ্যে জিতেছে সাতটিতে। কিন্তু এই বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারতে হয়েছে। সব মিলিয়ে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে জেতাটা ভারতের কাছে বাড়তি চ্যালেঞ্জ। ‘ফাঁড়া’ কাটানোর উপায় কী? অবশ্যই দুরন্ত পারফর্ম করে ম্যাচ জেতা। তবে ম্যানেজমেন্টও কম চেষ্টা করছে না। জানা গিয়েছে, ফাইনালের আগে হোটেলই বদলে ফেলছে ভারতীয় দল। ২০২৩-র বিশ্বকাপ ফাইনাল ও এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের ম্যাচের আগে যে হোটেলে, তাতে থাকছেন না গৌতম গম্ভীররা। গোটা দেশজুড়ে সূর্যকুমার যাদবদের জন্য প্রার্থনা শুরু হয়েছে। হোমযজ্ঞ চলছে। অন্যদিকে গুজরাটেরই ক্রিকেটার অক্ষর প্যাটেল বলেছেন, “আসলে ঘরের ছেলে, এখনও ঘরের মাঠে নামেনি তো, তাই এই ফাঁড়া!” কে বলতে পারে, ‘ঘরের ছেলে’ অক্ষরের ঘুচে গেল নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের যাবতীয় দুর্নাম।





