Monday, March 9, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

শাপমোচন!‌ নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপ জয়ী ভারত!‌রবিবার!‌ বিশ্বের প্রথম দল হিসাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ধরে রাখল ভারত

আবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ান ভারত। আড়াই বছর আগে যে স্টেডিয়ামে বুক ভেঙেছিল এক লক্ষ দর্শকের, রবিবার সেই ক্ষতে প্রলেপ পড়ল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জ়িল্যান্ডকে ৯৭ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বার ট্রফি জিতল ভারত। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে এই কৃতিত্ব অর্জন করল তারা। সব মিলিয়ে তৃতীয় বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এল ভারতের ঘরে। ২০২৪-এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২৫-এর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ২০২৬-এ ভারতের ঘরে আবার এল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সঞ্জু স্যামসন আগুনে ফর্ম। আহমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনাল। অভিষেক-সঞ্জু-ঈশানরা যেভাবে ঝড় তুলেছিলেন, তাতে অন্তত ৩০০-র কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারত। আবার মাঝে নিউজিল্যান্ড এক ওভারে তিন উইকেট তুলে দারুণ কামব্যাক করেছিল। শেষ ওভারে যে শিবম দুবে ২৪ রান। মারকাটারি ইনিংসে সেমিফাইনালের রান টপকে ফাইনালে ভারতের ২৫৫ রান। নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের ‘কলঙ্ক’ কম নয়। এই স্টেডিয়ামে ওয়ানডে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হয়েছে রোহিত-বিরাটদের। ফলে চিন্তা-উদ্বেগ তো থাকেই। সেই একই রকম ১ লক্ষ ৩২ হাজার ভরা স্টেডিয়াম, সেরকমই এক ফাইনাল, টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং। কিন্তু এবার স্ক্রিপ্ট অন্যরকম লিখলেন সঞ্জু-অভিষেকরা। প্রথম দু’টো ওভার থেকে মনে হয়নি কী ঝড় উঠতে চলেছে! বিশেষ করে অভিষেককে নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিলই। বিশ্বকাপজুড়ে রান পাননি। তিনি ব্যাট করতে এলেই বিপক্ষ অধিনায়ক অফ স্পিনার এগিয়ে দিচ্ছিলেন। এদিনও তাই হয়েছে। অভিষেক প্রথমে সাবধানী খেললেন। জেকব ডাফির ওভারে দু’টো চার মারলেন ঠিকই, তবে ততটাও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। পরের ওভারে লকি ফার্গুসনের বলে সজোরে ছক্কা হাঁকাতেই যেন ব্যাটে আত্মবিশ্বাস ফিরে এল। তারপর আর ফিরে তাকাননি। ১৮ বলে হাফসেঞ্চুরি করে ৫২ রানে ফিরলেন। সঞ্জু ফের ‘সুপারম্যান’। ৪৬ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলে গেলেন। ৮টা ছক্কা ও ৫টা চারে সাজানো ইনিংস সত্ত্বেও সেঞ্চুরি পেলেন না। ঈশান কিষানও অনবদ্য। ২৫ বলে ৫৪ রান করে আউট হলেন তিনি। দু’জনে যতক্ষণ একের পর এক বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠাচ্ছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল, রানটা ৩০০-র কাছাকাছি চলে যেতে পারে। জিমি নিশামের একটা ওভার অনেক অঙ্ক বদলে দিল। ১৬ তম ওভারে সঞ্জু, ঈশান ও সূর্যকুমারের উইকেট তুলে নিলেন তিনি। সূর্য এই ম্যাচেও রান পেলেন না। এরকম ম্যাচে, যেখানে সতীর্থরা এত ভালো মঞ্চ গড়ে দিয়ে গেলেন, সেটাকে যদি অধিনায়ক কাজে না লাগাতে পারেন, তাহলে আর কবে ভালো খেলবেন? হার্দিক পাণ্ডিয়ার ‘ফিনিশিং’ নিয়েও প্রশ্ন। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা স্লোয়ারে-কাটারে শেষবেলায় দুরন্ত কামব্যাকের সমস্ত পরিকল্পনা একা ভেস্তে দিলেন শিবম দুবে। ১৬-১৯ ওভারের মধ্যে উঠেছিল ২৮ রান। সেখানে শিবম একা শেষ ওভারে তুললেন ২৪ রান। ভারতের ইনিংস শেষ হল ২৫৫ রানে।

অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিষান। টিম ইন্ডিয়ার টপ অর্ডারের ৩ ব্যাটারেরই হাফ সেঞ্চুরি। এর মধ্যে আবার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন সঞ্জু এবং অভিষেক। দল হিসাবে টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বোচ্চ রান করার নজিরও গড়ল ভারত। ফাইনালে ২৫৫ রান। চলতি টি-২০ বিশ্বকাপের এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। মজার কথা হল বিশ্বকাপের সর্বাধিক তিন স্কোরের দুটিই ভারতের দখলে। সুপার এইটে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ২৫৬ রান তুলে চমকে দিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। ফাইনালে ২৫৫ রান তুললেন সঞ্জু স্যামসনরা। তৃতীয় স্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাঁরা জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে করে ২৫৪। ভারত আবার সেমিফাইনালে করেছিল ২৫৩ রান। উচ্ছ্বাসের দ্বিতীয় কারণ, টিম ইন্ডিয়া বিশ্বকাপ ফাইনালে এযাবৎকালের সর্বাধিক রান তুলল। এর আগে ২০২৪ ফাইনালে এই ভারতই তুলেছিল ১৭৭ রান। ১৮ বলে সেঞ্চুরি করলেন অভিষেক শর্মা। চলতি বিশ্বকাপে এটাই দ্রুততম। এর আগে ৩ ব্যাটার ১৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন। উচ্ছ্বাসের চতুর্থ কারণ, সঞ্জু স্যামসনের রেকর্ড। তিনি যে ৮৯ রানের ইনিংস খেললেন, সেটাই বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনও ব্যাটারের করা সর্বাধিক রান। এর আগে মার্লন স্যামুয়েলস ২০১৬ সালে করেছিলেন ৮৫ রান। ফাইনালে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বাধিক স্কোর ছিল বিরাট কোহলির। ২০১৪ সালে তিনি করেছিলেন ৭৭ রান। সেই ম্যাচ ভারত হারে। খুশির আরও একটা কারণ আছে। ফাইনালে ভারত চলতি টুর্নামেন্টে ছক্কার সেঞ্চুরিও হাঁকিয়ে ফেলল। যা এর আগে আর কোনও দল করেনি। এর আগে ফাইনালে ১৮টি ছক্কাও কোনও দল মারেনি।

মোতেরা স্টেডিয়াম থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরের নাদিয়াদে তাঁর বাড়ি। ঘরের মাঠে জীবনের সবচেয়ে বড় ম্যাচটি খেলতে নেমেছিলেন অক্ষর পটেল, যিনি সতীর্থদের কাছে পরিচিত ‘বাপু’ নামে। অহমদাবাদ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করল ‘বাপু ম্যাজিক’। ২০২৩-এর এক দিনের বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেননি অক্ষর। আগের ম্যাচে রান হজম করেছিলেন। অভিষেকের মতো ফাইনালে তিনিও যেন নেমেছিলেন সব কিছুর জবাব দিতে। দর্শকাসনে তাঁর পরিবার এবং পাড়াপড়শিদের অনেকে ছিলেন। প্রথম ওভারেই তিনি ফেরালেন অ্যালেনকে, যাঁকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তা ছিল ভারতীয় শিবিরে। পরের ওভারে তিনি ফেরালেন গ্লেন ফিলিপসকে। অক্ষরের হাত থেকে বেরোল ‘স্লাইডার’, যা বাইরের দিকে ঘোরার বদলে ঢুকে এল ভেতরে। সোজা শট খেলতে গিয়েছিলেন ফিলিপস। সম্পূর্ণ বোকা বনে গেলেন কিউয়ি ব্যাটার। বল এসে ভেঙে দিল লেগ স্টাম্প। দু’টি উইকেট নেওয়ার পরেই দর্শকাসনের দিকে তাকিয়ে বিশেষ একটি উৎসব করতে দেখা গেল অক্ষরকে। তৃতীয় উইকেটটি পেলেন তৃতীয় ওভারে। প্রথম বলেই মিচেলের ক্যাচ ফেলেন হার্দিক। তৃতীয় বলে তা পুষিয়ে দিলেন ঈশান। ফিল্ডিংয়েও মাতিয়ে দিলেন। প্রথমে তাঁর অসাধারণ ক্যাচে ফিরলেন রাচিন। ডিপ ব্যাকওয়ার্ড লেগে ছুটে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচ নিলেন ঈশান। দ্বিতীয় ক্যাচটি সেইফার্টের। বল ধরে ভারসাম্য হারিয়েছিলেন। আকাশে বল ছুড়ে দিয়ে বাউন্ডারে ও পারে গিয়েই পর ক্ষণে এ পারে এসে সহজেই ফিরতি ক্যাচ ধরলেন। তৃতীয় ক্যাচটি ড্যারিল মিচেলের। আরও একটি ক্যাচ নিয়েছিলেন ১১তম ওভারে। বাউন্ডারির ধারে দাঁড়িয়ে মিচেলের শট লাফিয়ে তালুবন্দি করলেও ঈশানের পা ছুঁয়ে যায় দড়ি। শুধু ক্যাচই নয়, ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও পারদর্শিতা দেখিয়েছেন ঈশান। ফাইনালের আগে ডেল স্টেন দাবি তুলেছিলেন, নিউজিল্যান্ড হারলে তাঁদের ‘চোকার্স’ তকমা দেওয়া হোক। দীর্ঘ দিন এই তকমা সেঁটে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে। তা সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন স্টেন। দেখা গেল, খুব ভুল বলেননি তিনি। শেষ দশ বছরে তারা ছ’টি আইসিসি প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছে। তার মধ্যে একটি, ২০২১-এর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল জিতেছে তারা। হারিয়েছিল ভারতকে। এ ছাড়া পাঁচ বারই হেরেছে তারা। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালেও ভারতের কাছেই হারতে হয়েছিল কিউয়িদের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম হল না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles