নিজেকে বারবার যেভাবে ভেঙেচুরে নতুনভাবে গড়েছেন, সেটাকে স্যালুট করে চর্চা চলছে নেটদুনিয়ায়। ব্রাজিল বলতেই ক্রীড়াদুনিয়া বোঝে একটাই জিনিস-ফুটবল। কিংবদন্তি পেলে থেকে শুরু করে হাল আমলের ভিনিসিয়াস জুনিয়র ফুটবলারদের নামেই পরিচিতি পেয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশটি। সেই ব্রাজিলের ক্রীড়াদুনিয়ায় এক অদ্ভুত জায়গা করে নিয়েছেন গ্যাব্রিয়েলা কাস্ত্রোভিনচি। দেশের ক্রীড়ামহল যাঁকে চেনে ‘গ্যাবি’ নামে। গ্যাবির জন্ম ১৯৮৬ সালের ১০ জানুয়ারি। দক্ষিণ ব্রাজিলের বৃহত্তম শহর কুরিতিবায় তাঁর জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। কেরিয়ার শুরু করেন মডেল হিসাবে। আন্তর্জাতিক মানের একাধিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন গ্যাবি। মডেলিংয়ের পাশাপাশি ফিটনেসেও যথেষ্ট ঝোঁক। সেই আকর্ষণই গ্যাবিকে র্যাম্প থেকে টেনে আনে কুস্তির ম্যাটে। ২০১৫ থেকে পেশাদার কুস্তি শুরু করেন। প্রথম প্রতিযোগিতা থেকে অবশ্য খালি হাতে ফিরতে হয়। পরের বছর অবশ্য গ্যাবি দুরন্ত কামব্যাক করেন কুস্তির রিংয়ে। ২০১৬ সালে অর্থাৎ দশ বছর আগে তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন ব্রাজিলের ডব্লিউডব্লিউইতে। সেবছরই রাইজ অফ দ্য কুইন টুর্নামেন্ট নামে কুস্তির একটি প্রতিযোগিতায় জেতেন গ্যাবি। ‘র্যাকেল’ নাম নিয়ে বেশ কয়েকটি ফাইটে লড়েছেন। কুস্তিগির হিসাবে সেভাবে নাম করতে না পারলেও ব্রাজিলের ক্রীড়াদুনিয়ায় বেশ আলোচনা ছিল গ্যাবিকে নিয়ে। বছরদুয়েক পর, ২০১৮ সালে কুস্তি থেকে অবসর নেন। ৩২ বছর বয়সে পেশাদার খেলাধুলাকে বিদায় জানিয়েছেন। তারপর একেবারে নতুন দুনিয়ায় পা রাখেন গ্যাবি। কুস্তির ম্যাটের হিংস্রতা ভুলে গিয়ে মানবসেবায় মন দেন। গত আট বছর ধরে নার্স হিসাবে কর্মরত গ্যাবি। মূলত ত্বকের পরিচর্যা নিয়েই তাঁর জগৎ। বোটক্স, ডার্মাল ফিলার ইত্যাদিতে স্পেশালাইজেশন করেছেন গ্যাবি। ত্বকের পরিচর্যা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সেন্টারও খুলেছেন তিনি। আমেরিকার নানা জায়গায় রয়েছে গ্যাবির সেন্টার। জানুয়ারিতে ৪০ বছরের জন্মদিন উদযাপন করেছে গ্যাবি। জীবনের মাঝামাঝি পর্যায়ে এসে নিজেকে আর কুস্তিগির বলে পরিচয় দেন না গ্যাবি। বরং তাঁর পরিচয় ‘মা, ব্যবসায়ী এবং সেবিকা’। নিজেকে বারবার যেভাবে ভেঙেচুরে নতুনভাবে গড়েছেন গ্যাবি, সেটাকে স্যালুট করে চর্চা চলছে নেটদুনিয়ায়।





