হরমুজ প্রণালীর দিয়েই ভারত তেল সরবরাহ করে। ভারতের মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। কিন্তু, বন্ধ থাকার কারণে আটকে রয়েছে LNG, PNG, LPG সাপ্লাই।তেলের পরই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সার। বিদেশ থেকে সার আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী উপর নির্ভর করতে হয় ভারতকে। বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ সার সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পর থেকেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে চর্চা চলছে সর্বত্র। বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে হরমুজ প্রণালী। এই প্রণালী দিয়ে শুধু তেল সরবরাহ নয়, বিভিন্ন পণ্যের আমদানি-রপ্তানি হয়। যা এই মুহূর্তে থমকে রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এদিকে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় ভারত কতটা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, কোন দিক থেকে কতটা ক্ষতি হচ্ছে ভারতের বাণিজ্য-অর্থনীতিতে? হরমুজ প্রণালীর দিয়েই ভারত তেল সরবরাহ করে। ভারতের মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। কিন্তু, বন্ধ থাকার কারণে আটকে রয়েছে LNG, PNG, LPG সাপ্লাই। তেলের পরই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সার। বিদেশ থেকে সার আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী উপর নির্ভর করতে হয় ভারতকে। বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ সার সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। দীর্ঘদিন হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে ভারতের কৃষিজাত পণ্যের আমদানির উপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যেই বাসমতী চাল রপ্তানিতে ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহ নির্ভর করে এই প্রণালীর উপর। সারা বিশ্বের ১৫ শতাংশ অ্যালমনিয়াম সাপ্লাই হয় ওই এলাকা দিয়ে। এদিকে, সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে গিয়েছে কুয়েত, কাতার এবং বাহারিন। এই দেশগুলিকে সম্পূর্ণভাবে হরমুজ প্রণালী উপর নির্ভর করতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই এই তিনটি দেশ থেকে আসা সমস্ত পণ্য অবরুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। সব থেকে বেশি জলপথে তেল সরবরাহ করে সৌদি আরব। সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ৭৪৬ মাইল দীর্ঘ পাইপ লাইন ব্যবহার করে লোহিত সাগরের টার্মিনাল থেকে তেল রপ্তানি করা যায় কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ওয়েলফিল্ড থেকে ওমানের পোর্ট পর্যন্ত পাইপলাইন আছে। এছাড়া, ইরাক থেকে তুরস্কের মধ্য দিয়ে ভূমধ্যসাগরের তীর পর্যন্ত পাইপলাইন আছে। হরমুজ প্রণালীর বিকল্প হিসেবে তেল সরবরাহে এই পথগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালী। কার্যত থমকে বাণিজ্য। আমদানি-রফতানিতে প্রভাব পড়ছে। ভারত চাল-সহ একাধিক শস্য রপ্তানিতে বড় ধাক্কা খেতে চলেছে। কোটি কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে ভারত। এই আবহে জানা গেল,হরমুজ প্রণালী ও সংলগ্ন এলাকায় জাহাজের লাইন পড়ে গিয়েছে। বহু জাহাজ আটকে রয়েছে। ইতিমধ্যেই জাহাজ মন্ত্রকের আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। হরমুজ প্রণালী ও সংলগ্ন এলাকায় ৩৮ টি ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রায় ১১০০ নাবিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত। ইতিমধ্যেই মিসাইল হামলায় মৃত্যু হয়েছে জাহাজে কর্মরত তিনজন ভারতীয়র। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরও এক ভারতীয়। এদিকে, পণ্যবাহী জাহাজের ভিড়ে উপচে-পড়ছে ভারতের বন্দর। জাহাজ মন্ত্রকের হিসেব বলছে, প্রায় হাজারের বেশি কনটেনার শিপ দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন বন্দরে। ইতিমধ্যেই জাহাজ মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল। বৈঠকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন ডিজি শিপিং। পরে প্রধানমন্ত্রীর দফতরকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়েছেন কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহিত হয়। এদিকে, ভারত প্রায় ৪০ শতাংশ তেল এবং ৫০ শতাংশের বেশি এলএনজি এই পথ দিয়েই আমদানি করে। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল শিপওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, প্রচুর ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে। সেক্ষেত্রে ১০,০০০ কোটি টাকারও বেশি পণ্যের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের জলপথে বিভিন্ন জাহাজে আটকে রয়েছেন ২৩ হাজার ভারতীয়। তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন ভারত সরকার। ভারত সরকারের তরফে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে কন্ট্রোল রুম। টোল-ফ্রি নম্বরও দেওয়া হয়েছে। এই নম্বরগুলি হল ১৮০০১১৮৭৯৭, ৯১-১১-২৩০১২১১৩, ৯১-১১-২৩০১৪১০৪, ৯১-১১-২৩০১৭৯০৫। বাহরাইন, ইরান, ইরাক, ইজরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী-সহ বিভিন্ন দেশে ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগের নম্বরও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভারতে কত তেল মজুত রয়েছে, তা মনিটর করার জন্য ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খুলেছে নয়া দিল্লি।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের আঁচ কি এবার পৌঁছে গেল ভারতের দোরগোড়ায়? ভারত থেকে ইরানে ফিরে যাওয়ার পথে শ্রীলঙ্কার গল উপকূলে ডুবে গেল ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ। একশো জনের বেশি নাবিক নিখোঁজ। অনেকে আহত হয়েছেন। যুদ্ধজাহাজ থেকে ৩০ ইরানিকে উদ্ধার করেছে শ্রীলঙ্কা নৌসেনা। পরে আমেরিকা জানায়, তাদের সাবমেরিন থেকে হামলা চালানো হয়েছিল ওই যুদ্ধজাহাজে। আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউয়ে যোগ দিতে ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বন্দর শহর বিশাখাপটনমে এসেছিল ইরানের এই যুদ্ধজাহাজ ‘ডেনা’। একাধিক দেশের যুদ্ধজাহাজ এতে অংশ নিয়েছিল। আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউয়ের পর ইরানে ফিরে যাচ্ছিল যুদ্ধজাহাজটি। এদিন শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫টার সময় যুদ্ধজাহাজটি গল উপকূল থেকে ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল। তখনই শ্রীলঙ্কার নৌসেনা ইরানের যুদ্ধজাহাজ থেকে একটা বার্তা পায়। তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকাজে নামে শ্রীলঙ্কার নৌসেনা ও বায়ুসেনা। শ্রীলঙ্কার এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, “আমাদের ধারণা ওই যুদ্ধজাহাজটিতে ১৮০ জনের মতো ছিলেন।” এখনও পর্যন্ত ওই যুদ্ধজাহাজ থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের গলের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের আঘাত দেখে উদ্ধারকারীদের ধারণা, কোনও হামলার জেরে এই আঘাত পেয়েছেন নাবিকরা। আমেরিকার সাবমেরিনের হামলায় যুদ্ধজাহাজটি ডুবল কি না, সেই প্রশ্ন উঠতে থাকে। সেইসময় শ্রীলঙ্কার আর এক আধিকারিক স্বীকার করেন, ভারত মহাসাগরে আমেরিকার সাবমেরিন রুটিন পেট্রলিং করে। বিরোধীরা এদিন শ্রীলঙ্কার সংসদে প্রশ্ন তোলেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের সংঘাতের জেরেই কি এই যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানো হয়েছে? শ্রীলঙ্কা সরকারের তরফে এই নিয়ে কোনও জবাব দেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক এই সংঘাত নিয়ে নিরপেক্ষ নীতি নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। পরে আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, মার্কিন সাবমেরিক ইরানের যুদ্ধজাহাজটিকে ডুবিয়েছে।





