হাওড়া শহর জুড়ে প্রোমোটার রাজ। অবৈধ নির্মান। প্ল্যান পাশের তোয়াক্কা করে না। অধিকাংশ প্রোমোটারের বৈধ নথিপত্র নেই বললেই চলে। প্রয়োজনে গা ঢাকা দিতে হাওড়া কলকাতা জুড়ে নিজের বাসা বাঁধা আছে কোনও কোনও প্রোমোটারের। বিবেক, কেশব, সত্তু, অমর, অশোক, টুলটুল থেকে শুরু করে গদা, রজতদের রমরমা প্রোমোটার রাজ। নাজেহাল শহরতলি। প্রশাসনকে জানিয়েও লাভ হয় না। হুমকি চোখরাঙানি বাড়তেই থাকে। হাওড়া শহরকে শুধু কংক্রীটের জঙ্গলে পরিণত করে একশ্রেণির প্রোমোটার ও মদতদাতা নেতাদের গলায়, হাতে, আঙুলে সোনার অলঙ্কারের সংখ্যা বেড়েছে বললে ভুল হবে, একইসঙ্গে হারিয়ে গেছে হাওড়া শহরের জলধারণ ক্ষমতা ও অক্সিজেন সরবরাহের। জলাশয় গায়েব করার চেষ্টা, জড়িত খোদ প্রাক্তন হাওড়া মিউনিসিপ্যাল প্রশাসক। হাওড়ার ইছাপুর ডুমুরজলা এলাকায় বেশ কিছু পুকুর ভরাট করে নির্মান। কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত খোদ প্রাক্তন প্রশাসকই বলে বিস্তর অভিযোগ। প্রতিবাদ এলেও কোনও কাজ হয়নি। উক্ত বিদায়ী প্রশাসক নিজেই নির্মানকাজে ও প্রোমোটারি ব্যাবসার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। সেই ওয়ার্ডের অধিকাংশ মানুষই ক্ষুব্ধ এই জনৈক প্রতিনিধির উপর। অসংখ্য অবৈধ কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে চলাফেরা করতে দেখা যায় উক্ত ব্যাক্তিকে। জলাশয় রাতারাতি লোপাট করে দেওয়ার বোকামি এখন করা হয় না। প্রথমে ধমকে চমকে এলাকাবাসীকে পুকুরে নামতে বাধা দেওয়া হয়। তারপর যত আবর্জনা রয়েছে নিয়ম করে সেখানে ফেলা শুরু হয়। এলাকার মানুষের মধ্যে কিছু বোকাকে জড়ো করে তাদের দিয়েও বর্জ্য ফেলা হবে। এভাবেই অচিরেই পুকুর বা জলাশয়ের একটা অংশ ধীরে ধীরে ভরাট করে কিছুদিন ফেলে রাখা হবে। টাউন সার্ভেতে একইসঙ্গে পারিতোষিকের কল্যাণে জলাশয় গায়েব করার চেষ্টাচলবে। তারপর হঠাৎই রাতের অন্ধকারে লরি লরি বালি ও নুড়ি পাথর সহ মাটি ফেলা শুরু হয়ে যাবে। পুকুর বা ঐ জলাশয় যদি অবব্যহত হয়ে পড়ে থাকে তাহলে তো কথাই নেই, তা না হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে জেনে এলাকায় দুষ্কৃতিদের আনাগোনা বাড়িয়ে দেওয়া হবে। মদের আসর বসানো হবে, কোমরে চেম্বার গুঁজে প্রকাশ্যে আতঙ্ক ছড়ানো চলবে।
প্রতিবাদ করার চেষ্টা হলে তাদেরও কেনা হবে নয় তো পুলিশ দিয়ে নানা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হবে। ঐ জলাশয়ের মালিকের নাম খুঁজতে গেলে দেখা যাবে পুকুর পরিবারের নামেই রয়েছে। পুকুর ভরাট যেন সেই পরিবারের তরফেই করা হচ্ছে। একেবারেই সাদা মাটা বিষয়। যদিও পুকুর কেন একটা ডোবা বোজানোও দন্ডনীয় অপরাধ। এসব জেনে কেউ এগিয়ে এসে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে অভিযোগ পত্র ভূমিদপ্তর, পুলিশ, পুর দপ্তরে জমা দিলে, দপ্তর নিশ্চেষ্ট হয়েই থাকবে। কেউ মৎস্য দপ্তরে অভিযোগ জমা দেন আরো এগিয়ে এসে। দপ্তর যদি দেখে বহু এলাকাবাসী ঐ অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছে তাহলে এফআইআর করবে। ব্যস এঐ পর্যন্তই। কারণ, এরপর বাকিটা পুলিশের ভূমিকার ওপর নির্ভর করবে। এদিকে পুলিশ নির্ভর করে থাকে নেতার ওপর। দক্ষিণার অন্ত বাড়িয়ে দিয়ে নেতা তখন আই ওয়াশে নামেন। জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে গরমাগরম ভাষণ দিয়ে তা বন্ধ করাবেন, এলাকাবাসী সন্তুষ্টি নিয়ে এরফলে বসে যাবে। ইছাপুরের ডুমুরজলায় টুলটুলের হস্তক্ষেপে বেশ কয়েকটি পুকুর বোজাই করে উঠে গেছে বড় বড় বিল্ডিং। মাঝেমধ্যে লোকদেখানো কাজকর্ম, তার পর যে কে সেই। এক সময়ে জলাশয়ের বিগত তৃণমূল পুর বোর্ডের চেয়ারম্যান অরবিন্দ গুহের বাড়ি থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে চলেছে পুকুর ভরাট যেটা নাকি তাঁর জানা নেই। হাওড়া জুড়ে এমন ঘটনার সংখ্যা কম নয়।
একমাত্র গৌতম রায় দায়িত্বে থাকাকালীন ঐ ১৮ মাসই ছিল ব্যতিক্রম। অন্ততঃ পুরসভার নথি, সঞ্জয় সিং প্রভৃতি বিরোধী নেতা ও সিপিএমের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক নেতার স্বীকারোক্তি তার সাক্ষ্য দিচ্ছে। কি কারণে এই ছাড়পত্র দেওয়া চলত? মানবিকতার কারণে। একজন ছাপোষা লোকের ২০০ বর্গফুটের বিনানুমতির নির্মান মানবিকতার কারণে জরিমানা নিয়ে ছাড়পত্র দেওয়ার ভাবনা ছিল পুর আইন তৈরির সময়। আর সেটাকেই অজুহাত হিসেবে নিয়েছে হাওড়া পুরসভা। ২০০ বর্গফুট তাই পরে বাড়তে বাড়তে ৭ হাজার বর্গফুট ছাড়িয়ে গেছিল। ছাপোষা নাগরিকের জন্য তৈরি মানবিকতার আইন পরে প্রোমোটারের বে-আইনি নির্মানকে ছাড়পত্র দেওয়ার অজুহাত হয়ে দাঁড়িয়েছিল। হাওড়া পুরসভার ২৫ (৪) ধারায় বলা ছিল ১০০ মিটারের ভেতরে কোন নির্মান করতে হলে সামনে ২ ফুট ও বাকি তিনদিকে ৪ ফুট করে ছাড় দিতে হবে। এটা জি প্লাস ১ এর জন্য। তার বেশি হলে সামনে ও দু-পাশে ৪ ফুট এবং পেছনে ২ মিটার ছাড় দিতে হবে। এর বেশি হলে মোট নির্মান এলাকার এক তৃতীয়াংশ ফাঁকা রাখতে হবে অর্থাৎ ছাড় দিতে হবে। ২০১১ সালের সম্ভবত ১৬ আগস্ট থেকে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে হাওড়া পুরসভা কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং আইন লাগু করার পর আইনকে আরো কঠোর করল। দুর্জনে বলে আসলে আরো প্যাঁচ কষে টাকা আদায়ের ফন্দি জোড়া হয়েছিল। যা হোক, বেড়ে গেল ছাড়ের পরিমান। বাতিল হয়ে গেল ২৫ (৪) এর মত বারাগুলো। নতুন নিয়ম হল, যে কোন নির্মানের ক্ষেত্রে তিনদিকে ৪ ফুট এবং পেছনে ২ মিটার ছাড়তে হবে। জি প্লাস ২ হলে আবার পেছনে ৩ মিটার ছাড়তে হবে। জি গ্লাস ২ পর্যন্ত বিল্ডিং প্ল্যানের ছাড়পত্র বরো থেকেই পাওয়া যেত। এরপরের ধাপ পুরসভার সদর দপ্তর থেকে নিতে হত। আইন অনুযায়ী বহুতলের ক্ষেত্রে মোট নির্মান এলাকার ৫২ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিতে হবে। অর্থাৎ ৮ কাঠার নির্মান এলাকায় ৪ কাঠার বেশি ছাড় দিতে হবে। আগে ১ থেকে ৪৪ নম্বর পর্যন্ত (অ্যাডেড এলাকা ব্যতীত) হাওড়া পুর এলাকায় জি প্লাস ৩ এর বেশি নির্মানের অনুমতি ছিল না। এখন ৬/৭ তলার নীচে কোন নির্মানই হয় না। গোটা হাওড়া শহরে মুখে মুখে এ প্রচার এখন খুবই জোরদার হয়ে উঠেছিল ‘যা খুশি বানাও, শুধু কাউন্সিলরকে ২৫০ ও পুরসভাকে ২৫০ টাকা দিলেই চলবে প্রতি বর্গফুট পিছু। প্রথমটির রসিদ মিলবে না, দ্বিতীয়টির রসিদ মিলবে। সত্য-মিষ্যের খোঁজ করবে কে। বর্ণী সিংহ রায় প্রথম দিকে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের দায়িত্বে ছিলেন। বছর না গড়াতেই দুর্নীতির অভিযোগে বর্ষিয়ান প্রয়াত তৃণমূলের এই আদি যুগের নেতার হাত থেকে দপ্তরটি কেড়ে নিয়ে মেয়র রথীন চক্রবর্তী নিজের হাতে রেখেছিলেন। কিন্তু ঐ পর্যন্তই। তার সম্বন্ধেও এর প্লোমেটারের বিশেষ সুবিধা ভোগের চবি শোনা যেত। একের পর এক গদ্বতল আইনের তোয়ালা না করে উঠে চলেছিল হাওড়ার আকাশ ঢেকে আর মেয়র ব্যস্ত ছিলেন তার চাকচিক্য বাড়াতে। অনেকটা নাক মুখ চেপে ধয়ে দামী সুট পরিয়ে দেওয়ায় রয়েছে মত। ১৭৭৩ বাবা আজও চালু রয়েছে কিন্তু অবৈধ নির্মান স্কায়ার ঝুঁকি নেওয়ার মাত প্রশাসক কোথায়।
হাওড়া শহরের বুকে যত্রতত্র বেআইনি বাড়ি ছড়িয়ে রয়েছে। বেশিরভাগ জায়গায় পুরসভা থেকে তিন তলা বাড়ির অনুমতি থাকলেও প্রোমোটাররা বেআইনিভাবে উপরের আরও তিন থেকে চারটি ফ্লোর বাড়িয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনকি গলির মধ্যেও অবাধে বহুতল বাড়ির নির্মাণ চলছে। মূলত প্রোমোটাররা অতিরিক্ত লাভের জন্যে এই কাজ করছে বলে অভিযোগ। এই নিয়ে বিপদের আশঙ্কা বাড়ছে। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাড়ি নির্মাণ সংস্থা Credai. ওই সংস্থার ফাউন্ডার মেম্বার নন্দকিশোর লাখোটিয়া বলেন একশ্রেণীর প্রোমোটার পুরসভার আইনের কোন তোয়াক্কা না করে বেআইনিভাবে বাড়ি তৈরি করছেন। এর ফলে যে কোন মুহূর্তে বড়সড় বিপদ ঘটতে পারে। তিনি আরও বলেন পুরসভার পক্ষ থেকে নজরদারি না থাকায় এই ধরণের ঘটনা বাড়ছে। এ ব্যাপারে পুর আইন আরো কঠোর হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে হাওড়া পুরসভার তরফে বলা হয়, পুরসভায় নজরদারি চালানোর মতো ইঞ্জিনিয়ারের সংখ্যা কম। বাড়ি ভাঙার জন্য একটি ডিমোলিশন স্কোয়াড আছে। যার ফলে বেআইনি বাড়ি ভাঙতে অসুবিধা হচ্ছে। তবে পুরসভার পক্ষ থেকে গত তিন বছরে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ১২৫ টি বেআইনি বাড়ি ভাঙা হয়েছে বলে দাবি। বেশিরভাগ বেআইনি বাড়ি সাত আট বছর আগে তৈরি হয়েছে যেখানে মানুষ বাস করেন। তাই হঠাৎ তাঁদের বাড়ির ভেঙে ফেলার সমস্যা আছে। তার কারণ এর সঙ্গে মানবিকতার সম্পর্ক আছে। তাই যেসব বাড়িতে মানুষ এখনও বসবাস করে না ওইসব বাড়ি ভাঙা হচ্ছে। তবে বাড়ি ভাঙার ক্ষেত্রে নানা ধরনের আইনি জটিলতাও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশের পরেই নড়েচড়ে বসে হাওড়া পুরসভা। হাওড়ার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেণীমাধব মুখার্জি লেনের অবৈধ নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হয় হাওড়া পুরসভার পক্ষ থেকে। হাওড়া শহর জুড়ে বেআইনি বাড়ির রমরমা। যেভাবে দিনের পর দিন শহর জুড়ে বেআইনি নির্মাণ বেড়ে চলেছে তাই নিয়ে গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন সভা ঘরে প্রশাসনিক কর্তাদের কার্যত এক হাত নেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সরু গলির মধ্যে ৯-১০ তলা বাড়ি তৈরি হচ্ছে। এরমধ্যে দমকলের গাড়িও ঢুকতে বাধা পাবে। এর পেছনে বড়সড় দুর্নীতি আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর নড়েচড়ে বসেছে হাওড়া পুরসভা। পুরসভার পক্ষ থেকে শহরের বেআইনি বাড়িগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বেশ কিছু বাড়িকে ভেঙে ফেলা হবে বলে জানানো হয়েছে।
লিলুয়ায় এলাকাবাসীর বাধায় পুকুর ভরাট থমকে। লড়াইটা চলছে প্রায় ২০১৫ থেকে। যেদিন থেকে লিলুয়া ঘোষপাড়ায় (লেনে!) অশোক ঘোষেরা তাঁদের প্রায় ২ বিঘা পুকুর বোজানো শুরু করেছেন। ঐ পুকুর গোটা এলাকার একমাত্র জলধারণ ক্ষেত্র এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারি। কিন্তু চোরা না শুনে ধর্মকথা’। তাই প্রোমোটারের উসকানিতে ঐ পুকুর বুজিয়ে মাঠ করার চক্রান্ত শুরু হয়ে গিয়েছিল সন্তর্পনে। পদ্ধতি সেই এক, আবর্জনা ফেলে পুকুরের একাংশ বোজাতে শুরু করে দেওয়া। সঙ্গে এমন সব বর্জ্য ফেলা হবে যাতে পুকুরের জলে পচন ধরে। এঐ জল ব্যবহার না করায় মানুষের নজরের আড়ালে চলে যাবে। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে এলাকাবাসী উদাসীন হয়ে বসে থাকেন। কিন্তু ঘোষপাড়ার অভি যোষ, ঋতম সরকার, অসীম চক্রবর্তী, অলোক চক্রবর্তীরা উদাসীন হতে পারেন নি। ভবিষ্যতের সঙ্কট আগাম আঁচ করে ওঁরা সম্মিলিত প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। আজও তাঁরা প্রশাসনের দোরগোড়ায় দিনের পর দিন ঘুরে চলেছেন। অভিযোগপত্র সর্বত্র দিয়ে চলেছেন। পুরসভা, থানা, ভূমিদপ্তর থেকে যেখানে যেখানে যেতে বলা হয়েছে সেখানেই ছুটে গেছেন। কিন্তু পুকুর ভরাট রুখে দিতে পারলেও বন্ধ করতে পারেন নি বলে অভি ঘোষেরা জানাচ্ছেন। থানায় এফ আই আর রুজু হয়েও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। হতোদ্যম হয়ে বসে পড়লে পুকুর ভরাট আবার শুরু হয়ে যাবে বলে ওঁদের আশঙ্কা। প্রশাসন কি পারে না বর্জ্যমুক্ত করে পুকুরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে? ওঁদের এই প্রশ্নের জবাব এখনও কোন দপ্তর থেকেই মেলেনি বলে জানা যাচ্ছে। বস্তুতঃ কোনরকমে যদি পুকুর বুজিয়ে মাঠ করে দেওয়া যায়, তাহলে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হবে। প্রোমোটারের লোক ঘুরে গেলেও এলাকাবাসীর অনমনীয় মনোভাবের আঁচ পেয়ে জুলুম করতে এসে পালিয়ে গেছে। ‘যতই বাধা বিপত্তি আসুক আমরা রুখে দেবই’ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অভিরা জানান। অশোক ঘোষের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে যেভাবে প্রবাসে থাকলে এস আই আর হেয়ারিং-এ নিকটাত্মীয়রা হাজিরা দিলেও চলবে বলে জানান নির্বাচন কমিশন। একটা ২ বিঘে পুকুরকে ভ্যাটে পরিণত করেছেন তাঁরা তাতে উদ্দেশ্য পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে। আড়ালে থাকা প্রোমোটারের নাম পাওয়া যায়নি। মৎস্য দপ্তরে ওরা এবার অভিযোগ জানাবেন বলেছেন। এলাকাবাসী চান পুকুরটিকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হোক। ঐ পুকুরটাই এলাকাকে জল জমার হাত থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে বলে জানান অভি ঘোষ।
বাঁকড়া আঞ্জুমান ক্লাবের পেছন দিকে পড়ে থাকা জলা ভূমি। বিঘে ২০/২৫ পরিমাণের। এই ক্লাব আর মোবারক বালিকা বিদ্যালয়ের পেছনে মাঝ বরাবার অংশ বহুদিন আগেই নাকি সরকার অধিগ্রহণ করে নিয়েছে। এই জলাভূমির সিংহভাগ সালেমের হাতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলে তুলে দিয়েছিল বাম সরকার। সালেমের পেছনে ছিলেন এক ব্যঙালি শিল্পপতি, তিনিই সালেমকে এ বঙ্গে এনেছিলেন শিল্প স্থাপনে আগ্রহী করে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সালেম সরে গিয়ে ঐ শিল্পপতি প্রকট হয়ে উঠলেন। গড়ে উঠল পশ্চিম কলকাতা উপনগরী (হাওড়া বলতে সম্ভবত সঙ্কোচ হয়েছিল।)। অনেক বিতর্কের পর ঐ উপনগরী কোনা হাইরোডের দিকের অংশে এগিয়েছে এবং হস্তান্তরিত হয়ে গেছে নাকি সাপুরজী-র নামে। লিজে পাওয়া সম্পত্তি কিভাবে হস্তান্তর হয়। এই জলাশয় নাকি তখন থেকে ফাঁকা পড়ে রয়েছে, সুযোগ থাকলেও সালেমরা তাতে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি-এলাকাবাসী এটাই জানতেন। ত্রী স্কুল পর্যন্ত বাঁকড়া ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকা। হঠাৎই ঐ জলাভূমি ভরাট করতে একদল ঝাঁপিয়ে পড়েছে। পড়ে থাকা ঐ জলাভূমি কিন্তু এলাকার ফুসফুস। সেই ফুসফুস ঝাঁঝরা করতে শাসকদল আশ্রিতরাই নাকি নেমে পড়েছেন। শোনা যাচ্ছে মাহিদ খান, শেখ ভুবনের মতো কিছু নাম। মাহিদ খানের স্ত্রী আবার বাঁকড়া ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোম্পানির কাছ থেকে জলাভূমি ভরাটের বরাত পেয়েছেন বলে ওঁরা জানিয়েছেন। এদিকে ঐ জলাভূমি মাপজোক করতে এসে ঐ কোম্পানির লোকেরা কিছু লোকের বাধায় আক্রান্ত হয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বরাত পাওয়ার জন্য ওটা নাকি পরিকল্পিত ছিল বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। নাম প্রকাশ করতে কেউ রাজী নন। কারণ, অভিযুক্তরা নাকি শাসকদলের লোক। এই জলাভূমির প্রকৃত অবস্থা ফুসফুস ঝাঁঝরা করতে শাসকদল আশ্রিতরাই নাকি নেমে পড়েছেন। শোনা যাচ্ছে মাহিদ খান, শেখ ভুবনের মতো কিছু নাম। মাহিদ খানের স্ত্রী আবার বাঁকড়া ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোম্পানির কাছ থেকে জলাভূমি ভরাটের বরাত পেয়েছেন বলে ওঁরা জানিয়েছেন। এদিকে ঐ জলাভূমি মাপজোক করতে এসে ঐ কোম্পানির লোকেরা কিছু লোকের বাধায় আক্রান্ত হয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বরাত পাওয়ার জন্য ওটা নাকি পরিকল্পিত ছিল বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। নাম প্রকাশ করতে কেউ রাজী নন। কারণ, অভিযুক্তরা নাকি শাসকদলের লোক।





