Thursday, March 5, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আচমকা পদত্যাগের খবরে স্তম্ভিত এবং গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন মমতা!‌ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসের বোসের ইস্তফা!‌

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসের বোসের ইস্তফা সম্পর্কে বৃহস্পতি সন্ধ্যায় প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী সিভি আনন্দ বোসের আচমকা পদত্যাগের খবরে আমি স্তম্ভিত এবং গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন।’ বোসের ইস্তফার কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তে তাঁর (বোস) পদত্যাগের কারণ আমার জানা নেই। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষার জন্য রাজ্যপাল যদি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপের মুখে পড়েন তবে আমি অবাক হব না।’ সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘এই ধরনের পদক্ষেপ ভারতের সংবিধানের চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং আমাদের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত্তিতে আঘাত করে। কেন্দ্রকে সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতিগুলিকে সম্মান করতে হবে, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি মানতে হবে এবং রাজ্যগুলির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে এমন একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন যে শ্রী আরএন রবিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু প্রচলিত নীতি মেনে তিনি এ বিষয়ে আমার সঙ্গে পরামর্শ করেননি।’ মমতা সরাসরি এর বেশি কিছু না বললেও তাঁর দল তৃণমূলের তরফে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করা হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা এবং সময়মতো বিধানসভা ভোট করানোর বিষয়ে অমিত শাহের উদ্যোগে সায় না-দেওয়ার কারণেই কি সরে যেতে হল রাজ্যপাল বোসকে? ওঁর উপরে কি কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপি চাপ সৃষ্টি করেছিল।’’ চন্দ্রিমার অভিযোগ, ‘‘এপ্রিলে রাজ্যে বিধানসভা ভোট রয়েছে। তার এক মাস আগে তারা রাজ্যপালকে পদত্যাগ করাচ্ছে। কারণ, বিজেপি চায় না যে, সময়মতো নির্বাচন হোক।’’ এসআইআর পর্বে পূর্ণাঙ্গ এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা সময়মতো প্রকাশ করা হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে, বোসের ইস্তফা প্রসঙ্গে রাজ‍্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার জানান, অসুস্থতার কারণে পদত‍্যাগ বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্বর্তী রাজ্যপালের দায়িত্বে আসা আরএন রবি এখন ভোটমুখী তামিলনা়ড়ুর রাজ্যপাল। ওই রাজ্যের পাশাপাশি ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্বর্তিকালীন রাজ্যপালের দায়িত্বও সামলাবেন তিনি। এর আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং আইবি (ইন্টালিজেন্স ব্যুরো)-তে ছিলেন রবি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে প্রাক্তন আইপিএস অফিসারকে অন্তর্বর্তী রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের সঙ্গে রবির সংঘাত সর্বজনবিদিত। এ বার সেই পরিস্থিতি কি এ রাজ্যেও তৈরি হতে পারে? উঠছে প্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে বৃহস্পতিবারই ইস্তফা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। তার পরেই অন্তর্বর্তিকালীন রাজ্যপাল পদে রবিকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয় কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। ভোটের আগে এই নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিজেপি-বিরোধী স্ট্যালিনের সরকারের সঙ্গে গত কয়েক বছরে বার বার সংঘাতে জড়িয়েছেন রবি। গত বছর স্বাধীনতা দিবসে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রবির চা-চক্রে অংশ নেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন। ২০২৩ সাল থেকে রাজভবনে সেই চা-চক্র বয়কট করে চলেছে স্ট্যালিনের সরকার। কয়েক বছর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে রাজ্যপালকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছিল তামিলনাড়ু সরকার। চলতি বছরের শুরুতে তামিলনাড়ু বিধানসভায় জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার অভিযোগ তোলেন রাজ্যপাল রবি। সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পাঠ না-করেই ছাড়েন অধিবেশন। এ বার সেই তামিলনাড়ুর পাশাপাশি এ রাজ্যেরও অন্তর্বর্তী রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলাবেন রবি। প্রসঙ্গত, তামিলনাড়ুর বিজেপি-বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সখ্য রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাক্তন রাজ্যপাল বোসের সংঘাতও সর্বজনবিদিত। প্রকাশ্যেই বোস সমালোচনা করেছিলেন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নীতির। আবার যখন এ রাজ্যের রাজ্যপাল হয়ে এসেছিলেন, তখন বাংলায় ‘হাতেখড়ি’ও নিয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গের দত্তকপুত্র হতে চেয়েছিলেন বোস। কেরল থেকে এ রাজ্যে নিজের ভোটাধিকার স্থানান্তর করতে চেয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, তাঁর হাতে ভোটার হওয়ার প্রয়োজনীয় ফর্ম-৮ তুলে দেন বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও) এবং বিএলও সুপারভাইজ়ার। প্রথম দফায় প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে, তার পরেই কেন ইস্তফা দিলেন তিনি? বোসের এই ইস্তফা পূর্ব পরিকল্পিত নয়, বরং ‘আচমকা’। তিনি নিজেও নাকি প্রস্তুত ছিলেন না ইস্তফার জন্য। মাঝেমধ্যেই তিনি দিল্লি যেতেন। বৃহস্পতিবার সেই দিল্লিতে বসেই আচমকা পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি ভবনে। অনেকে মনে করছেন, নেপথ্যে থাকতে পারে কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপির ‘চাপ’। তবে বোস নিজে এই নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি। ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন বোস। মেয়াদ ছিল ২০২৭-এর নভেম্বর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের ২০ মাস আগেই তিনি দায়িত্ব ছাড়লেন। বৃহস্পতিবার রাজ্যপালের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) তাঁর পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা দিল্লিতে আছি। রাজ্যপাল তাঁর ইস্তফাপত্র রাষ্ট্রপতি ভবনে পাঠিয়ে দিয়েছেন।’’ লোকভবন সূত্রে খবর, রাষ্ট্রপতি ভবন তাঁর পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles