বিশ্বজুড়ে এখন জিবলি আর্টের জয়জয়কার! এই অনন্য শিল্পশৈলী মন জয় করে নিয়েছে সব বয়সী মানুষের। এক ঘণ্টায় চাটজিপিটির ইউজার সংখ্যা পেরিয়ে যাচ্ছে ১০ লাখ। জিবলি আর্টের দৌলতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সংস্থার অন্দরে তৈরি হল ইতিহাস। চ্যাটজিপিটির মূল সংস্থা ওপেনআই-এর প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান আপ্লুত। সম্প্রতি সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ভাইরাল ট্রেন্ড জিবলি আর্ট। নেটিজেনরা তাদের ছবি দিয়ে একের পর এক জিবলি আর্টের ছবি পোস্ট করে চলেছেন। ছবি বানাতে দরকার এআই অ্যাপের সাহায্য। চ্যাটজিপিটিই সেই এআই অ্যাপ হিসেবে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় নেটিজেনদের মধ্যে। নিজের এক্স প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট করে স্যাম উল্লেখ করেন রেকর্ডের কথা। জিবলি আর্টের আদলে নিজের ছবি বানাতে গিয়ে নেটিজেনরা দেদার ব্যবহার করছেন চ্যাটজিপিটি। এক ঘণ্টায় ইউজার পেরিয়ে গিয়েছে ১ মিলিয়ন বা ১০ লাখ।

জিবলি জ্বরে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। আট থেকে আশি, জিবলি অবতারে নিজেদের ছবি তুলে ধরছেন সকলেই। জিবলি ঝড়কে আরও শক্তিশালী করতে নতুন সিদ্ধান্ত নিলেন ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যান। জানালেন, এবার জিবলি তৈরি করা যাবে একেবারে বিনামূল্যে। চ্যাটজিপিটির জিবলি ইমেজ জেনারেশন টুল। সেলিব্রিটি থেকে আমজনতা সকলেই জিবলিতে বুঁদ। বিনামূল্যে মাত্র তিনটি ছবি বানাতে পারতেন ইউজাররা। প্রত্যেক ছবি তৈরির মধ্যে ন্যূনতম আট মিনিটের ব্যবধান থাকতে হত। চ্যাটজিপিটির প্রিমিয়াম ইউজারদের জন্য এমন কোনও বাধানিষেধ ছিল না। সকল ইউজাররাই সুবিধা পাবেন বলে জানালেন অল্টম্যান। ফ্রি ভার্সনের ইউজাররাও যতখুশি ছবি বানাতে পারবেন জিবলি স্টুডিও থেকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জিবলি ছবিও নিজের এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন ওপেনএআই সিইও। এআইয়ের সাহায্যে জিবলি ছবি তৈরি করতে পারবেন? প্রথমেই openai.com-এ ঢুকে লগ ইন। তারপর শুরু কনভারসেশন। ‘নিউ চ্যাট’-এ ক্লিক করতে হবে। এরপর সেখানে একটি ইমেজ প্রম্পট লিখে অর্থাৎ স্টুডিও জিবলি স্টাইলে ছবি তৈরির কথা বিস্তারে লিখে এন্টার। ছবি তৈরি। সেভ করলেই ডিভাইসে ডাউনলোড হয়ে যাবে। পাশাপাশি গ্রকের মতো এআই টুল ব্যবহার করেও একই ভাবে এরকম ছবি তৈরি করা যায়। স্ন্যাপচ্যাটে রয়েছে ঘিবলি ফিল্টার। জিবলি আর্ট আসলে কী? এর ইতিহাসই বা কী?

স্টুডিও জিবলির জন্ম: জিবলি আর্টের উৎস জাপানের বিখ্যাত অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘স্টুডিও জিবলি’। ১৯৮৫ সালে টোকিওর কোগানেই অঞ্চলে এই স্টুডিও প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পেছনে ছিলেন অ্যানিমেশনের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব হায়াও মিয়াজাকি, ইসাও তাকাহাতা, ইয়াসুয়োশি তোকুমা এবং তোশিও সুজুকি। জাপানের রাজধানী টোকিওয় অবস্থিত এক বিশ্বখ্যাত অ্যানিমেশন স্টুডিওর নাম স্টুডিও জিবলি ইনকর্পোরেশন। ১৯৮৫ সালে স্থাপিত এই স্টুডিওয় তৈরি হয়েছে জগদ্বিখ্যাত সব অ্যানিমে। যার মধ্যে ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’, ‘গ্রেভ অফ দ্য ফায়ারফ্লাইস’ কিংবা হাল আমলের ‘দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হেরন’-এর মতো অসংখ্য ছবি রয়েছে।
জিবলি শব্দের অর্থ: ‘জিবলি’ শব্দটির উৎপত্তি ইতালীয় শব্দ ‘ঘিবলি’ (Ghibli) থেকে, যার অর্থ সাহারার মরুঝড়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইতালীয় বিমান নির্মাতারা তাদের গোয়েন্দা বিমানের নাম রেখেছিল ঘিবলি।
জিবলি আর্টের বিশেষত্ব: জিবলি আর্ট জাপানি এবং পাশ্চাত্য শিল্পের এক অসাধারণ মিশ্রণ। হাতে আঁকা ছবি এবং সংবেদনশীল জলরঙের ব্যবহার এই শিল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই শৈলীতে মানুষ এবং প্রকৃতির মধ্যে এক গভীর সংযোগ তুলে ধরা হয়। স্টুডিও জিবলির ছবিগুলি অসম্ভব যত্নে বানানো। প্রতিটি ফ্রেম হাতে আঁকা হয়। জলরং ও অ্যাক্রিলিকে রংও করা হয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে কম্পিউটার অ্যানিমেশন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলেও মূলত হাতেই আঁকা হয়।
জিবলির জনপ্রিয়তা: প্রিন্সেস মনোনোক, স্পিরিটেড আওয়ে, মাই নেইবার টটোরোর মতো জনপ্রিয় এনিমেশন মুভিগুলো জিবলি আর্ট শৈলীর অন্যতম উদাহরণ। অনেকেই ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’র মতো ছবির আইকনিক দৃশ্য থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিরাট কোহলির শতরানের মুহূর্তে- সবই তৈরি হচ্ছে জিবলির মেজাজে। স্বাভাবিক ভাবেই নেটিজেনরা নিজেদের ছবি বানিয়েও শেয়ার করা শুরু।
জিবলি এআই আর্টের বিতর্ক: সম্প্রতি, জিবলি আর্টের অনুকরণে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবহার করে শিল্পকর্ম তৈরি করা হচ্ছে। তবে, এর কপিরাইট নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অতিরিক্ত তথ্য: স্টুডিও জিবলি তাদের অ্যানিমেশন তৈরির জন্য পরিচিত হলেও, তাদের নিজস্ব জাদুঘরও পরিচালনা করে। হায়াও মিয়াজাকি পরিচালিত স্পিরিটেড আওয়ে মুভিটি ২০০৩ সালে শ্রেষ্ঠ অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্ম বিভাগে অস্কার পুরস্কার জিতেছিল।