Thursday, April 3, 2025
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ভূগর্ভ ক্রমশ ফোঁপরা হয়ে বিপদ অবশ্যম্ভাবী?‌ যমজ শহরে অপরিকল্পিত ‘উন্নয়ন’ দেদার অবৈধ প্রোমোটিং

ভাগাড়ে ধস। বিপদ বাড়িয়ে তুলেছে শহরতলিতে। বেলগাছিয়া ভাগাড়ে ধসের পর থেকেই সমস্যা আরও ঘোরতর। হাওড়া শহরের জঞ্জাল সাফাই ব্যবস্থা টলমল। বেলগাছিয়া ভাগাড়ে জঞ্জাল ফেলা বন্ধ। পুরসভা বিকল্প জায়গার সন্ধান করতে পারেনি। ভ্যাট থেকেও জঞ্জাল উঠছে না। পুরসভার দেওয়া হিসাবে, প্রায় ১২০০ টন আবর্জনা জমে শহরে। জমে থাকলেই ছড়ায় দূষণ। জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলাও রুজু। হাওড়া শহরের জঞ্জাল ফেলার জন্য কলকাতার ধাপাকে বেছে নেওয়া হলেও তা সম্ভব নয়। হাওড়া শহরের বিপুল আবর্জনা ধাপায় সরানোর উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই পুরসভার। ডাম্পার ভাড়া করা ছাড়া গতিও নেই। হাওড়া পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান সুজয় চক্রবর্তীর কথায়, ধাপায় জঞ্জাল সরাতে ১৩টি ডাম্পার শহরে জমে থাকা ১২০০ টন আবর্জনা ধাপাতে ফেলবে। হাওড়ায় ফের জল সরবরাহ বন্ধের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ‘সয়েল টেস্ট’ নিয়ে চিন্তায় প্রশাসন। জঞ্জাল ধাপাতে নিয়ে যাওয়া রীতিমতো সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। চিন্তায় হাওড়া পৌরনিগমের আধিকারিকরা। যমজ শহর কলকাতাকেও ফের বার্তা দিল বেলগাছিয়াকাণ্ড! কলকাতা ও হাওড়া আদৌ সতর্ক হবে? মাটির তলাতেই বিপদের গন্ধ। হাওড়া কলকাতায় মাটির উপর অপরিকল্পিত চাপ যদি নিয়ন্ত্রণ করা না-যায়, তা হলে বিপদ এড়ানো মুশকিল, বলছেন ভূবিজ্ঞানীরা। প্রাকৃতিক কারণে ভূগর্ভ ফোঁপরা। অপরিকল্পিত ‘উন্নয়ন’ বাড়িয়ে তুলছে বিপদ। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে হেলে পড়া বহুতল। হাওড়ার বেলগাছিয়ায় ভাগাড়ের চাপে মাটি ধসে বিপর্যয়। গঙ্গার দুই তীরে দুই যমজ শহরের তলার মাটির হাল নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। চিন্তিত ভূবিজ্ঞানীরাও। কলকাতা এবং হাওড়ার গঙ্গাতীর থেকে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা বেশী চিন্তার। ভূবিজ্ঞানীর মতে, দুই শহরেই মাটির তলায় বেশ কিছু ‘প্রাকৃতিক রন্ধ্র’ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির জল মাটির নীচে নামার সময় উল্লম্ব ভাবে নামার ফলে ভূস্তরের বিন্যাসের কোনও ক্ষতি হয় না। কলকাতার ভূগর্ভস্থ জলস্তরে সেই ‘ডায়রেক্ট রিচার্জ’ কম হওয়ার ফলে কলকাতার মাটির তলার জলস্তর নেমে গিয়ে ভূগর্ভ ক্রমশ শুকিয়ে যাচ্ছে।

আশপাশের অপেক্ষাকৃত আর্দ্র এলাকা থেকে ভূগর্ভস্থ জল কলকাতার ভূগর্ভ নিজের দিকে টানার চেষ্টা করে। সেই জল মাটির তলা দিয়ে কোনাকুনি ভাবে যাতায়াত করে বেশ কিছু ভূগর্ভস্থ চ্যানেল তৈরি করায় চ্যানেলগুলো এক দিকে বাগজোলা খাল, অন্য দিকে গঙ্গা পর্যন্ত গিয়ে শেষ। চ্যানেলগুলি দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া পলি গিয়ে গঙ্গায় পড়ছে দীর্ঘ দিন ধরে। জোয়ারের সময়েও চ্যানেলগুলি দিয়েই আবার গঙ্গার জল ভিতরে প্রবেশ করে রন্ধ্রগুলিকে আরও প্রশস্ত করে মাটিকে ক্রমশ আরও ফাঁপা করে তুলছে। ভূত্বক মূলত পলিমাটির স্তরে তৈরি। ভূগর্ভস্থ জলস্তরের নির্দিষ্ট একটা সীমা বহাল থাকা জরুরি। জলস্তর স্বাভাবিকের চেয়ে নেমে গেলেই ভূগর্ভে বিন্যাস বদলে যায়। মাটির গভীরে চাপ বাড়তে থাকে। ফলে ধসের প্রবণতা বাড়ে। হাওড়ার বেলগাছিয়ার ক্ষেত্রে যে হেতু বিরাট ভাগাড় রয়েছে, তাই ইঁদুর, ছুঁচো, বেজির মতো প্রাণীর আনাগোনা বেশি। তারা মাটি খুঁড়ে ভূগর্ভে অনেক ফাঁকা জায়গা তৈরি করেছে। আর আবর্জনার স্তূপ থেকে তৈরি হওয়া মিথেন গ্যাস ভূগর্ভের ফাঁপা স্তরে জমে আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ওই গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটালে আরও বড় ধস নামার সম্ভাবনা থাকে।

বেলগাছিয়া ভাগাড়ে জঞ্জালের স্তূপ বহু বছর ধরে বেড়েছে। ভূস্তরে চাপও অতি বেশী পরিমানে বেড়ে যাওয়ায় বড় এলাকা জুড়ে ধস। বেশ কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত। স্থানীয়দের অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে রাখা হয়েছে। ধসের জেরে জলের পাইপও নষ্ট। জলের সঙ্কট হাওড়া শহরের একাংশে। জনবহুল শহরে ধস। বিপর্যয়ের চেহারা। বেলগাছিয়ার কাণ্ডেই স্পষ্ট। কলকাতার গঙ্গা লাগোয়া এলাকাতেও বিপদ লুকিয়ে। ভূবিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা। হাওড়ার বেলগাছিয়া ভাগাড়ে একটি জঞ্জালের পাহাড়ে ধস। হাওড়া শহরের নোংরা আবর্জনা বেলগাছিয়া ভাগাড়েই ফেলে দেওয়ায় ঘোরালো হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায। বেলগাছিয়া ভাগাড়ে জঞ্জাল ফেলা বন্ধ করার নির্দেশ পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। আরও বড় সমস্যা তৈরীর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সমস্যা তৈরি হয়। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, হাওড়া পুরসভার অন্তর্গত ৫০টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৬৫০ টন আবর্জনা তৈরি হয়। বিশাল পরিমাণ আবর্জনা অন্য কোথাও ফেললেই সেখানকার পরিবেশ নষ্ট হবে। আশঙ্কা থেকেই জগাছা থানার আরুপাড়ায় আবর্জনা ফেলতে গেলে সাধারণ মানুষ বাধা দেয়। বিকল্প পথ বেছে পুরসভা ঠিক করে হুগলির বৈদ্যবাটিতে আবর্জনা ফেলবে। তাতেও বিপত্তি। ত্রাতার ভূমিকায় কলকাতা পুরসভা। কলকাতার সবুজ সঙ্কেত পেয়ে হাওড়ার সমস্ত আবর্জনা ধাপাতে ফেলার সিদ্ধান্ত।

হাওড়ার ভ্যাট উপচে রাস্তায় আবর্জনার স্তূপ। দুর্গন্ধে টেকা দায়। কিছুতেই কাটছে না হাওড়ার জঞ্জাল-যন্ত্রণা, হাওড়ার বেলগাছিয়া ভাগাড় সংলগ্ন এলাকায় কয়েক দিন আগে যে ধস নেমেছে, তাতে মিথেন গ্যাস বা তার বিস্ফোরণের কোনও ভূমিকার কথা প্রশাসনের তরফে বলা হয়নি। আবর্জনার স্তূপ বা ভাগাড় যেখানেই থাকে, সেখানেই যে মিথেনের স্তর তৈরি হয় বলে ভূবিজ্ঞানীরা সহমত। কলকাতার ধাপা সংলগ্ন এলাকাতেও মিথেনের বিরাট ভান্ডার ছিল। ইএম বাইপাস পার্ক সার্কাস কানেক্টর ধরে যেতে হলে নাকে রুমাল চাপা দিয়ে যেতে হত। মিথেনের চড়া গন্ধ। এখনও সায়েন্স সিটির কাছে মিথেনের স্তর রয়েছে। ধাপার ভাগাড় জনবহুল এলাকা থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দেওয়ায় বিপদ কমেছে। ভাগাড় এখন ক্রমশ বিদ্যাধরী এবং বাগজোলা খালের কাছাকাছি হওয়ার ফলে ওই অঞ্চলেও মাটির নীচে মিথেনের বিস্ফোরক স্তর তৈরি হওয়া সম্ভব। এলাকা জনবিরল তাই বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই।

জঞ্জাল ফেলার জন্য কলকাতার ধাপার মাঠের ব্যবস্থা। জঞ্জাল-যন্ত্রণা বেড়েছে হাওড়াবাসীর! অলিগলিতে ভ্যাট উপচে পড়ছে। রাস্তাতেই জমছে আবর্জনার স্তূপ। দুর্গন্ধেও টেকা দায়। পুর এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে শহরকে আবর্জনামুক্ত করতে হবে। শহর এখনও জঞ্জালমুক্ত হয়নি। বহু জায়গায় আগের আবর্জনা ভ্যাটেই পড়ে রয়েছে। হাওড়া পুর এলাকা থেকে জঞ্জাল সংগ্রহ করে ধাপায় ফেলে আসার জন্য যে ডাম্পার রয়েছে, সেগুলির সব ক’টিকে কাজে লাগানো যাচ্ছিল না। পুরনো ডাম্পারগুলি দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে উঠতে পারছে না। বাইরে থেকে ১৫টি ডাম্পার নিয়ে দিনরাত কাজ করে শহরের রাস্তায় জমে থাকা জঞ্জাল সাফ করার চেষ্টা। পুরসভা সূত্র বলছে, প্রতি দিন গড়ে ৩০টি ডাম্পার আবর্জনা তুলে ধাপায় ফেলা হচ্ছে। আগে হাওড়ায় মোট ৬০টি ডাম্পার ও লরি বেলগাছিয়া ভাগাড়ে আবর্জনা ফেলত। বিভিন্ন এজেন্সির পাঠানো আবর্জনা ফেলার গাড়িগুলির প্রায় ৫০ শতাংশই লজ্‌ঝড়ে হয়ে যাওয়ায় এবং অধিকাংশ গাড়ির কাগজপত্র ঠিক না থাকায় সেগুলি কলকাতায় পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। রোজকার সমস্ত আবর্জনা ধাপায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা। বেলগাছিয়া ভাগাড়ও পরিষ্কার করা হবে। বায়োমাইনিং পদ্ধতিতে আবর্জনা সরানোর কাজের জন্য বছর দেড়েক লাগতে পারে।

গঙ্গার পশ্চিমে বালি-উত্তরপাড়া এলাকা এবং পূর্বে দক্ষিণেশ্বর থেকে বরাহনগর, কাশীপুর, শোভাবাজার হয়ে নিমতলা ঘাট পর্যন্ত এলাকা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বিপন্ন বলে ভূবিজ্ঞানীদের দাবি। নদী তীরবর্তী এলাকায় মাটির নীচে প্রাকৃতিক রন্ধ্র তৈরি হওয়া খুব স্বাভাবিক ঘটনা। সেই ফোঁপরা মাটিতে বিপদ আরও বাড়িয়ে তুলেছে নিয়ম ভাঙা নগরায়ন। কলকাতা-হাওড়ার মাঝখান দিয়ে গঙ্গা সোজাসুজি বয়ে যায়নি। বাঁক বা বাঁকের প্রবণতা দৃশ্যত। বাঁককে ভেঙে দিয়ে অপেক্ষাকৃত সোজা রাস্তা খুঁজে নেওয়া যে কোনও নদীর প্রবণতা। ফলে জোয়ারের সময়ে জলস্তর বাড়লেই বাঁকপ্রবণ এলাকার পারগুলিতে জল একনাগাড়ে ধাক্কা মারতে থাকে। সেই ধাক্কায় পারের মাটির তলায় অনেক দূর পর্যন্ত জল ঢোকে এবং ক্ষয় হয়। নদীর পারে কোনও বড় নির্মাণ থাকা উচিত নয়। বালি-উত্তরপাড়া এলাকায় গঙ্গাপারের গায়েই বড় বড় বহুতল আবাসন উঠেছে। আবাসনগুলো অচিরেই বিপন্ন। উত্তর কলকাতাতেও গঙ্গাতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় এই বিপদ।নদী সংলগ্ন অনেক পুরনো নির্মাণ বিপজ্জনক। জোয়ারের সময়ে গঙ্গার জল মাটির ভিতরে ঢোকা আটকাতে হবে। গার্ডওয়াল তৈরি করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। গঙ্গার পার বরাবর মাটির নীচে ২০-২২ মিটার গভীর পর্যন্ত প্রাচীর বা গার্ডওয়াল তৈরি করে জল ঢোকা আটকানো দরকার। কলকাতা এবং হাওড়ার মতো পুরনো শহরে গঙ্গাতীরবর্তী এলাকা অত্যন্ত জনবহুল। মাটির উপরে যে চাপে ভূগর্ভ ক্রমশ ফোঁপরা হতে থাকলে, সেই চাপ ধরে রাখা সম্ভব নয় বলে ভূবিজ্ঞানীদের মত।

হাওড়া শহরের রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে জঞ্জাল। উপচে পড়েছে শহরের বিভিন্ন ভ্যাট। রাস্তা দিয়ে চলার উপায় নেই। জঞ্জালের উপর পা দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। জঞ্জাল ভর্তি চ্যাটার্জিহাট, রামরাজাতলা, জগাছা, কালীবাবুর বাজার সর্বত্র। হাওড়া শহরের বিভিন্ন ভ্যাটে আবর্জনার স্তূপ। রাস্তাঘাটে ছড়িয়ে পড়ছে সেই ময়লা। দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় স্থানীয়দের। শুধু বড় রাস্তা নয়, অলিগলিতেও ছড়িয়ে সেই দুর্গন্ধ। বেলগাছিয়ার ভাগাড়ে ধসই আতঙ্কের কারণ এলাকাবাসীর কাছে। অনেকের মাথার উপরই এখন ছাদ নেই। দিন-রাত কাটছে খোলা আকাশের নীচে। প্রশাসন থেকে স্থানীয় নেতা-মন্ত্রীদের আশ্বাসই সার বলে অভিযোগ। চিন্তা বাড়ছে। কিন্তু সদুত্তর মিলছে না। বিপজ্জনক বাড়ির বাসিন্দাদের কাছে অনুরোধ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার। কোথায় যাবেন, তা ঠিক করে দেবে সরকারই?‌ এলাকায় মাইকিং শুরু সিভিল ডিফেন্সের। বাসিন্দাদের বিপজ্জনক এলাকা থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য আবেদন।

সাত বছর ধরে ভোট হয় নি হাওড়ায়? কাউন্সিলরহীন হাওড়া? ২০১৮ সাল থেকে হাওড়া পুরনিগমের ভোট বকেয়া। হাওড়ার সঙ্গে বালি পুরসভাকে সংযুক্ত করেছিল রাজ্য সরকার। সেই সংক্রান্ত বিল পাশ হয়েছিল বিধানসভায়। বিলে সই করেননি তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তার পর আবার হাওড়া থেকে বালিকে পৃথক করারও বিল পাশ হয়েছে। তাতেও অনুমোদন আসেনি রাজভবন থেকে। জটিলতা আর আইনের ফাঁসেই ঝুলে রয়েছে হাওড়ার ভোট। সাধারণ বিষয়েও শংসাপত্রের জন্য এখন বিধায়ক বা সাংসদকে খুঁজতে হয়। পুর প্রশাসনের নিকাশি, পানীয় জলের সমস্যা দাঁড়িয়ে থেকে তদারকি করেন কাউন্সিলরেরা। ভোট না-হওয়ায় কারও নির্দিষ্ট দায়িত্ব নেই। বিস্তীর্ণ এলাকা দেখার ভার পড়ছে প্রশাসকমণ্ডলীর যে সদস্যের উপর। সবটা সামলে উঠতে পারছেন না পুর প্রশাসক। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। অভিযোগ, নিকাশির কাজে সাফাইকর্মীর থেকে এখন ‘সুপারভাইজ়ার’-এর সংখ্যা বেশি হয়ে গিয়েছে।

সাত বছর ধরে হাওড়ার পুর প্রশাসন পরিচালনা করছে প্রশাসকমণ্ডলী। বর্তমানে প্রশাসক পদে রয়েছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সুজয় চক্রবর্তী। প্রশাসকমণ্ডলী দিয়ে হাওড়ার ছবি বদলায়নি। শাসকদল দাবি করছে, ভাগাড় বিপর্যয়ের সঙ্গে ভোটের কোনও যোগ নেই। মুখ্যমন্ত্রীই হাওড়ার যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। হাওড়ার জঞ্জাল শিবপুরে ফেলা নিয়ে ‘আপত্তি’ মন্ত্রী মনোজের? ববি-বৈঠকের প্রসঙ্গ টানলেন সুজয়, আবার দ্বন্দ্বের আবহ? হাওড়াবাসীদের অভিযোগ, সরকারের অপদার্থতায় হাওড়া শহরের আজ এই দুর্দশা। ভাগাড়ের ঘটনা বড় আকারে হয়েছে বলে আজকে প্রশাসনের টনক নড়েছে। প্রতি দিন মানুষকে যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে। হাওড়া ভোগ করছে নরকযন্ত্রণা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles