‘‘ভুল ইংরেজী উচ্চারণ। বাংলা ইংরেজী মিলিয়ে অদ্ভূত উচ্চারণ। ‘আই’ ‘অলসো’ ছাড়া কোঁৎ পেড়ে বলা, ভুলে ভরা ইংরেজীতে লন্ডন সফর। প্রথমে মিথ্যা অপপ্রচার অক্সফোর্ড ইউনিভারসিটির আমন্ত্রণ বিষয়ক। পরে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে। অনেকটা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কানাইলাল ভট্টাচার্য কলেজের মতো। অক্সফোর্ডের অধীনে থাকা কেলগ কলেজ। কোবরা নামে এক বিয়্যারের কোম্পানির মালিক চালাতেন এই কেলগ কলেজ। সেই মদ কোম্পানির মালিকের আমন্ত্রন ও এক তৃণমূল নেতার আমন্ত্রণেই মুখ্যমন্ত্রীর গমন। কোনও কমিউনিটি হল নয় কিংবা কোনও অডিটোরিয়াম নয়। একটি ১৪০ আসনের কনফারেন্স হলে মমতার ভাষন শুনতে উপস্থিত ১৩০ জন। উপস্থিত ১৩০ জনের মধ্যে আবার ১০০ জন তৃণমূল বলে শোনা যাচ্ছে। কয়েকজন পেটোয়া জেলখাটা চোর স্তাবক খবরওয়ালাকে জনগনের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে ও সরকারী তহবিলের টাকায় নিয়ে যাওয়া ও খরচ সবই মুখ্যমন্ত্রী।’’ — এই সব অভিযোগের পাহাড় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জ্জীর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে সোস্যল মিডিয়ায় ছড়াছড়ি।
লন্ডন সফরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে দেশ ও জাতীয়তাবাদ বিরোধী। ‘ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মবলিদানের মূল্য নেই? যে মাটিতে বন্দেমাতরম তৈরি হয়েছে, যে মাটি জাতীয় সংগীত দিয়েছে, সেই মাটি থেকে গিয়ে আপনি ব্রিটিশের প্রশংসা করছেন? কালাপানিতে যারা অত্যাচারিত হয়েছেন তাদের মধ্যে সব থেকে বেশি বাঙালি ছিলেন। একটা দেশবিরোধী, রাষ্ট্রবিরোধী, জাতীয়তাবাদ বিরোধী, স্বাধীনতা আন্দোলন বিরোধী। মমতার এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে সর্বত্র দেশপ্রেমিকদের আন্দোলনে নামা উচিত।’ প্রশ্ন শুভেন্দু অধিকারীর। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বিদেশমন্ত্রীকে আমি আনুরোধ করেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাতে আর সরকারি সফরে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়া হয়। আমি জয়শঙ্করজিকে একটা চিঠি লিখেছি। যে ভারত সরকারের অনুমোদন নিয়ে হাইকমিশনের ব্যবস্থাপনায় উনি যে ভাবে ভারতকে ছোট করেছেন। সাংবাদিক যখন বলছেন ভারত তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে যাবে। উনি বলছেন, না না, আমি মানি না। উনি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে গেছেন, না ভারতকে ছোট করতে গেছেন? আমি জয়শংকরজিকে বলেছি এনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রয়েছে আপনার। আপনি ব্যবস্থা নিন। আর এর পরে আর এনাকে অনুমতি দেবেন না।’
মুখ্যমন্ত্রীকে দেশ বিরোধী ভাষন প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘এছাড়া ১৯০ বছরের ব্রিটিশ শাসনকে তিনি দারুণ ভাবে গ্লোরিফাই করেছেন। আমার বাড়ির লোক ব্রিটিশের জেলে ছিল। বিপিন অধিকারী। আমি সেটা মেনে নেব না কি? আমরা মেদিনীপুর তো, আমরা স্বাধীন করে দিয়েছিলাম ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার করে। আমরা ৫ বছর আগে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছি। আপনি গিয়ে বললেন, ব্রিটিশরা ১৯০ বছর ধরে অনেক কিছু করে দিয়ে গিয়েছে।’ ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতে গেছেন, না ভারতকে ছোট করতে গেছেন? মমতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবিতে বিদেশসচিব এস জয়শঙ্করকে চিঠি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
মমতার হৃদয় ভারতবিরোধী। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ বিহারের নেতাদের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেলগ কলেজে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘ব্রিটেনকে পিছনে ফেলে ভারত বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। শীঘ্রই এটি তৃতীয় স্থান অর্জন করবে এবং ২০৬০ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতি বিশ্বের এক নম্বর হতে পারে, এ সম্পর্কে আপনার মতামত কী?’ এর জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি এর সঙ্গে সহমত নই। লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক বিহারে। গিরিরাজ সিং, সঞ্জয় জয়সওয়াল, বিজয় কুমার সিনহা, শাহনওয়াজ হুসেন সহ একাধিক বিজেপি নেতা মমতাকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। বিহারের বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে ঢুকিয়ে ভোট পেতে চান।
বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে পথে হেঁটেছেন, গোটা দেশ কীভাবে তাঁর পাশে দাঁড়াবে? তাঁরা যদি সনাতনের সন্তানদের লজ্জা দিয়ে থাকে, তাহলে তার ফল তাদের ভোগ করতে হবে। অপরদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেছেন, গোটা বিশ্ব ভারতের অর্থনীতির শক্তির কথা স্বীকার করে। আইএমএফ বলছে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারতের অর্থনীতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সত্য গোপন করে ভারতকে অপমান করছেন। যখনই টুকরে টুকরে গ্যাং বিদেশে যায়, তখনই তারা ভারতকে অপমান করে। এটা দুর্ভাগ্যজনক।
‘বিদেশে গেলে মনে করে ২০-২৫ বছর আগের ছবি প্রিন্ট করে নিতে হবে।’ নাম না করে মমতাকে কটাক্ষ ঋত্বিকের? ঋত্বিক লেখেন, ‘ট্রাভেল এজেন্ট বলল লিখে নিন, বিদেশে গেলে কিন্তু মনে করে পাসপোর্ট ভিসা বিদেশি মুদ্রা আর ২০-২৫ বছর আগেকার কিছু ছবি বড় করে প্রিন্ট করে নিয়ে যেতে হবে। যদি কাজে না লাগে তাহলে বার করবেন না কিন্তু ক্যারি করবেন সবসময়…’। বিলেতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা। অক্সফোর্ডে তাঁর বক্তব্য রাখার সময়ই আচমকাই শ্রোতাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। অনেকেই চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলতে শুরু করেন, ‘মিথ্যে বলছেন মমতা’। বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। উঠে আসে আরজি কর প্রসঙ্গও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরজি কর প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিষয়টি বিচারাধীন, এনিয়ে তাই কথা বলা ঠিক হবে না।’ ১৯৯৩ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহাকরণ অভিজানের প্রসঙ্গও। সেসময় চোট পেয়েছিলেন মমতা। মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা পুরনো সেই ছবি দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন এই ছবিটা, এটা নাটক নয়। আমাকে তখন কীভাবে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। এটা নাটক নয়। এখানে আমাকে অপমান না করে, বাংলায় গিয়ে নিজের দলকে শক্তিশালী করুন। গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই করুন।’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই ছবি প্রদর্শন প্রসঙ্গ টেনে ফেসবুকে আক্রমণ করলেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। ঋত্বিক লেখেন, ‘ট্রাভেল এজেন্ট বলল লিখে নিন, বিদেশে গেলে কিন্তু মনে করে পাসপোর্ট ভিসা বিদেশি মুদ্রা আর ২০-২৫ বছর আগেকার কিছু ছবি বড় করে প্রিন্ট করে নিয়ে যেতে হবে। যদি কাজে না লাগে তাহলে বার করবেননা কিন্তু ক্যারি করবেন সবসময়…’। ফের ক্য়াপশানে লেখেন, ‘বিদেশে মোরে রক্ষা কর,এ-নহে মোর প্রার্থনা! বিদেশে আমি না যেন করি ভয়…’।
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে বিতর্ক। প্রশ্নকর্তা বলেন, ‘ভারত ইতিমধ্যেই লন্ডনকে ছাপিয়ে গেছে, আমরা বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি, ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি, খুব তাড়াতাড়ি তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠবে, আমরা মনে করি, ২০৬০-র মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠবে…’ আর সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কে, কে? আমি একমত নই।’ এই ইংরেজীটা কী ‘হু হু’ বলা যায়। বলা যেত হুইচ কান্ট্রি অথবা আওয়ার কান্ট্রি? তীব্র কটাক্ষ ও অভিযোগ নেটিজনের। বিদেশের মাটিতে ভারতের সুনাম নষ্ট করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দেশবিরোধী মন্তব্য শুধু বাঙালি বা ভারতীয়দের কাছে লজ্জাজনকই নয়, তাঁর সাংবিধানিক পদের অপমান। এটা প্রমাণ করে যে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনি ব্যর্থ। কিন্তু আপনি কি নিজেকে ভারতীয় বলতেও দ্বিধাবোধ করেন? আপনি কি সত্যিই একজন ভারতীয়? ভারতবর্ষের ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন। সাংবাদিকরা বলছে যে ওমুক রিপোর্ট অনুসারে ভারতবর্ষ এক নম্বর অর্থনীতি হতে চলেছে আগামীদিনে, মুখ্যমন্ত্রী বলছেন আই ডিফার। পশ্চিমবঙ্গ ভারতবর্ষের কোনও অঙ্গরাজ্য, না বাইরের কোনও কিছু? আপনি তার মুখ্যমন্ত্রী না অন্য কোনও দেশের মুখ্যমন্ত্রী, সেটাই তো বুঝতে পারছি না। এই কাজ একজন মুখ্যমন্ত্রীর সংবিধানের শপথ নিয়ে করা উচিত? আমি যদি বিদেশে যাই, আমার স্টেটের বিরুদ্ধে গিয়ে কথা বলব? মন্তব্য সুকান্ত মজুদারের।