Thursday, April 3, 2025
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

চর্চায় ধোনির বিদ্যুৎ গতির স্টাম্প!‌ সিংহ বৃদ্ধ হলেও শিকারে সময়ের ত্রুটিবিচ্যূতি হয়না!

ধোনির বিদ্যুৎ গতির স্টাম্প। সিংহ বৃদ্ধ হলেও শিকার করতে ভুল করে না। ৪৩ বছরের ধোনির স্টাম্পিং। অবাক ক্রিকেট বিশ্ব। উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে আগুন ঝরানো পারফরমেন্স মহেন্দ্র সিং ধোনির। শুক্রে চেন্নাই-এ এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে উইকেটরক্ষক ধোনির ম্যাজিক। চকিতে ধোনির স্টাম্পিং। আক্রমণাত্মক মেজাজে ফিল সল্টের ১৫ বলে পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ২০০-র বেশি স্ট্রাইক রেটে ৩২ রান। আফগানিস্তানের স্পিনার নুর আহমেদকে বলে আনেন চেন্নাইয়ের অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। পঞ্চম ওভারের শেষ বল ‘রং ওয়ান’ করেন নুর। অর্থাৎ, তাঁর বল পিচে পড়ে ডানহাতি ব্যাটারের ভিতরের দিকে ঢোকার বদলে বাইরের দিকে যায়। সল্ট বলটি বুঝতে না পেরে ব্যাট চালান। ব্যাটে-বলে হয়নি। নূর আহমেদের ওভারের শেষ বল একটু এগিয়ে গিয়ে খেলতে গিয়েই ফিল সল্ট মিস করার সোজা ধোনির গ্লাভসে। নূর আহমেদের বলে উইকেটের ক্লোজ হয়ে মাহি চকিতে উড়িয়ে দিলেন স্ট্যাম্প। মাহির বিদ্যুতের গতিতে স্টাম্প। ধোনির আবেদন। হতবাক রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। চেন্নাই সুপার কিংস নিশ্চিত ছিলেন কারণ, আবেদন করেছিলেন ধোনি। মাঠের আম্পায়ার তৃতীয় আম্পায়ারের ইঙ্গিত। তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে স্টাম্প আউট ফিল সল্ট। আউট দেখে সোস্যল মিডিয়ায় বলা হচ্ছে, ‘সিংহ বুড়ো হলেও শিকার করতে ভোলেন না।’ ধারাভাষ্যে থাকা প্রত্যেকেই অবাক হয়ে ধোনির প্রশংসা

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বৈরথ। বিরাট বনাম ধোনি। আইপিএলের সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ। চিপকে প্রথম ইনিংসে চর্চায় ধোনির বিদ্যুৎ গতির স্টাম্প। ০.১২ সেকেন্ড! কম সময়ে একজন উইকেটরক্ষক কোনও ব্যাটারকে স্টাম্প করেন? নেপথ্যে কোন বিজ্ঞান? মুচকি হাসেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সূর্যকুমার যাদবকে স্টাম্প করতে ধোনি নিয়েছিলেন ০.১২ সেকেন্ড সময়! রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ফিল সল্টকে স্টাম্প করতে ০.০৯ সেকেন্ড। এক সেকেন্ডের ১০০ ভাগের ন’ভাগ। আইপিএলে ধোনি জাদু। ৪৩ বছরে মাহির কাছে বয়স শুধুমাত্র একটি সংখ্যা। উইকেটের পিছনে ধোনির বিদ্যুতের ঝলক নতুন নয়। ভারতীয় দলে খেলার সময় বহু বার বহু ব্যাটারকে স্টাম্প আউট করেছেন। নেপথ্যে রয়েছে বিজ্ঞান। ভরত সুন্দর্শনের লেখা বইয়ে ধোনির উইকেটরক্ষণের ব্যাখ্যায় লেখা, “সাধারণত উইকেটরক্ষকের হাতে যখন বল আসে, তখন নিজের হাত শরীরের দিকে টেনে নেওয়ার ফলে বলের গতি ক্রমশ কমে যায়। বল যাতে হাত থেকে না বেরিয়ে যায়, সেজন্য এই পদ্ধতিতে বল ধরেন উইকেটরক্ষকেরা। ধোনি সেটা করেন না। ধোনি হাত সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। অর্থাৎ, বল যে দিকে থেকে আসছে, ধোনির হাত সেই দিকেই এগিয়ে যায়। সবচেয়ে অবাক ব্যাপার হচ্ছে, ধোনির হাত সেই সময় শক্ত বা স্টিফ হয়ে যায় না। অর্থাৎ, ও বেশি শক্তি প্রয়োগ করে না। কারণ বেশি শক্তি দিয়ে বল ধরতে গেলে, হাতে লেগে বল বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বল ধরার সময় ধোনি হাত হালকা রাখেন। বলের গতি কিছুটা কমে যায়। স্পিনার এমনকি অনেক পেসারের বিরুদ্ধেও উইকেটের কাছে দাঁড়াতে দেখা যায় ধোনিকে।” প্রবল চাপে চেন্নাই সুপার কিংস। তখন জয়ের জন্য ৪৩ বলে প্রয়োজন ছিল ১১৭ রান। রিকোয়ার্ড রানরেট ১৬-র উপরে। চেন্নাইয়ের ষষ্ঠ উইকেটের পতনের পরেও মহেন্দ্র সিং ধোনি মাঠে নামেননি। আট নম্বরে রবিচন্দ্রন অশ্বিন। নয় নম্বরে ধোনি। ধোনি চেন্নাইয়ের অধিনায়ক নন বলেই কী তাঁকে নামানোর সিদ্ধান্তটা টিম ম্যানেজমেন্টের?‌ নয় নম্বরে নেমে ১৬ বলে ৩০ রান করেন ধোনি। ইনিংসে তিনটি চার এবং দুটি ছক্কা।

ধোনির-র বিরুদ্ধে নতুন ইতিহাস কোহলির! আইপিএল ২০২৫-এ ভেঙে দিলেন ধাওয়ানের বিরাট রেকর্ড। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে কোহলি মোট রান ১,০৮৪ রান। শিখর ধাওয়ানের ১,০৫৭ রানের আগের রেকর্ড ভাঙেন। ৩০ বলে ৩১ রানের ইনিংস। আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের মাইলফলক স্পর্শ। ৩৪ ম্যাচের ৩৩ ইনিংসে রেকর্ড বিরাট কোহলির। শিখর ধাওয়ান ২৯ ইনিংসে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। দুজন ব্যাটারই আইপিএলে সিএসকের বিরুদ্ধে ১,০০০+ রান করেন। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে বিরাট কোহলির সর্বোচ্চ স্কোর অপরাজিত ৯০ রান। হাফ সেঞ্চুরি ৯টি। গড় ৩৭.৩৭। স্ট্রাইক রেট: ১২৫.৪৬। ধাওয়ানের রয়েছে সর্বোচ্চ ১০১* সেঞ্চুরি, ৮টি হাফ সেঞ্চুরি। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বিরাট কোহলি ১,০৮৪ রান ৩৪ ম্যাচে। শিখর ধাওয়ান ১,০৫৭ রান ২৯ ম্যাচে। রোহিত শর্মা ৮৯৬ রান ৩৫ ম্যাচে। দীনেশ কার্তিক ৭২৭ রান ৩৩ ম্যাচে। ডেভিড ওয়ার্নার ৬৯৬ রান ২১ ম্যাচে। চেন্নাই ম্যাচের ১১তম ওভারে বিরাট কোহলির মাথায় বাউন্সার লাগে মাথিসা পাথিরানার বলে। প্রথমে গ্রিল ও পরে হেলমেটে আঘাত। কোহলি পরের দুই বলে ছক্কা ও চার হাঁকিয়ে জবাবও দেন! ১৩তম ওভারে নূর আহমেদের বলে ভুল শট খেলে রাচিন রবীন্দ্রের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন আইপিএলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান!

২০০৮ সালের পর প্রথম বার চেন্নাইয়ের ঘরের মাঠ চিপকে জয় বেঙ্গালুরুর। অধিনায়ক রজত পাটীদারের অর্ধশতরান এবং জশ হেজলউডের তিন উইকেট বেঙ্গালুরুকে জেতাল। প্রথম ম্যাচে কেকেআরকে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে চেন্নাইকে হারিয়ে দু’বারই অ্যাওয়ে ম্যাচে জয়। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন চেন্নাই অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। শুরুতেই ঝড় ফিল সল্টের। কোহলির ব্যাটিং ছিল ধীরগতির। ধোনি বিদ্যুৎগতিতে স্ট্যাম্প সল্টকে ৩২ রানে থামিয়ে দেয়। দেবদত্ত পাড়িক্কলকে ফেরান রুতুরাজ দুরন্ত ক্যাচ নিয়ে। খলিল আহমেদ, দীপক হুডারা আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদারের সহজ ক্যাচ ছাড়েন। কোহলি৩০ বলে ৩১ রানের ধীরগতির ইনিংস খেলে নুর আহমেদের বলে রাচীন রবীন্দ্রের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ইংরেজ ব্যাটার লিয়াম লিভিংস্টোনও নুরের বলে বোল্ড হন। পাতিদার হাফ সেঞ্চুরি করে আউট হন। টিম ডেভিড ৮ বলে ২২ রান করেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে আরসিবি’র স্কোর ১৯৬।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে সিএসকে শিবিরে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা দেন হ্যাজেলউড। রাহুল ত্রিপাঠী ৫ এবং রুতুরাজ ০ রানে আউট হন। রাচিন রবীন্দ্র বোল্ড ৪১ রানে। দলের স্কোর তখন ৭৫। আস্কিং রেট ১৫ টপকেছে। ক্রিজে আসেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ম্যাচের শেষ ৪ বলে দুই ছক্কা ও একটি চারে ১৬ বলে অপরাজিত ৩০ রান। হলুদ জার্সি গায়ে রবিচন্দ্রণ অশ্বিনকে বল হাতে ২ ওভারে ২২ রান দিয়ে পেলেন একটি উইকেট। ব্যাট হাতে করলেন ১১ রান। ১৭ বছর পর চিপকে চেন্নাই সুপার কিংসকে হারিয়ে আইপিএল ২০২৫-এর পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান আরসিবির। ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট। আরসিবির নেট রান-রেট +২.২৬৬। ২ ম্যাচে চেন্নাইয়ের ২ পয়েন্ট। নেট রান-রেট -১.০১৩। সিএসকে ৪ নম্বর থেকে তিন ধাপ পিছিয়ে সাত নম্বরে। লখনউ সুপার জায়ান্টস ২ ম্যাচে ২ পয়েন্ট। নেট রান-রেট +০.৯৬৩। সুপার জায়ান্টস পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। তৃতীয় স্থানে পাঞ্জাব কিংস। ১ ম্যাচে ২ পয়েন্ট শ্রেয়স আইয়ারদের। পাঞ্জাবের নেট রান-রেট +০.৫৫০। দিল্লি ক্যাপিটালস পয়েন্ট তালিকার চার নম্বরে। ১ ম্যাচে ২ পয়েন্ট অক্ষর প্যাটেলদের। দিল্লির নেট রান-রেট +০.৩৭১। সানরাইজার্স হায়দরাবাদও আইপিএল ২০২৫-এর পয়েন্ট তালিকায় পাঁচ নম্বরে। ২ ম্যাচে সানরাইজার্সের ২ পয়েন্ট। নেট রান-রেট -০.১২৮। কলকাতা নাইট রাইডার্স ছয় নম্বরে। ২ ম্যাচে কেকেআরের ২ পয়েন্ট। নেট রান-রেট -০.৩০৮। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স পয়েন্ট তালিকার ৮ নম্বরে। ১ ম্যাচ খেলে মুম্বই পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি। নেট রান-রেট -০.৪৯৩। গুজরাট টাইটানস পয়েন্ট তালিকার ৯ নম্বরে। ১ ম্যাচ খেলে গুজরাট এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি। নেট রান-রেট-০.৫৫০। রাজস্থান রয়্যালস পয়েন্ট তালিকার একেবারে শেষে ১০ নম্বরে। ২ ম্যাচ খেলে রাজস্থান এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি। নেট রান-রেট -১.৮৮২।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles