ফের পিচ বিতর্ক! ইডেনে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পিচ। হয়েছে একমাত্র ম্যাচ। আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচ। প্রথম ম্যাচেই কেকেআরের হার আরসিবির কাছে। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে হারের পরই কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, স্পিন-সহায়ক পিচ হলে ভাল হয়। ইডেনের পিচ প্রস্তুতকারক সুজন মুখোপাধ্যায় জানান, কলকাতা নাইট রাইডার্সের তরফে কোনও আবেদন করা হয়নি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী আইপিএলে কোনও দলই পিচ কেমন হবে তা নির্ধারণ করতে পারে না। যত নষ্টের মূল সোস্যল মিডিয়া? সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে ঝড়। দ্বৈরথে ব্যাটে-বলে বাজিমাত করেছেন কারা? ধোনি ও বিরাটের সামনে নজিরের হাতছানি দ্বৈরথে ব্যাটে-বলে বাজিমাত করেছেন কারা? ধোনি ও বিরাটের সামনে নজিরের হাতছানি
শেম অন সিএবি ট্যাগ ট্রেন্ডিং। ইডেনের কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়কে লক্ষ করে ঝড় সোশ্যাল মিডিয়ায়। অথচ কারুর মাথায় সহজ কথাটা কিছুতেই ঢুকছে না যে, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে আইপিএলেই সেরা মাঠের শিরোপা আদায় করেছে ইডেন। সাইমন ডুল ও হর্ষ ভোগলের বক্তব্যেই বিতর্ক জোরদার। ধারাভাষ্যকার সাইমন ডুল এবং হর্ষ ভোগলে। ডুল বলেছিলেন, “যদি পিচ প্রস্তুতকারক কথা শুনতে না চায় তা হলে কেকেআরের উচিত ইডেন থেকে কেন্দ্র সরিয়ে ফেলা। পিচ প্রস্তুতকারকের কাজ নিজের মতামত দেওয়া নয়। দলের চাহিদা মেনে কাজ করা। সেই জন্য তাকে টাকা দেওয়া হয়। মতামত দেওয়ার জন্য হয় না।” ভোগলে বলেছিলেন, “যদি আমি কেকেআরে থাকতাম, তা হলে খুব হতাশ হতাম। আমি তো ১২০ রানের পিচ চাইছি না। আমি চাইছি এমন একটা পিচ যেখানে আমার বোলারেরা ম্যাচ জেতাতে পারবে। আমি যেমন ১২০ রানের পিচ চাইছি না, তেমনই ২৪০ রানেরও পিচ চাইছি না। কিন্তু আমার মনে হয়, আইপিএলে প্রতিটা দল ঘরের মাঠের সুবিধা নেয়। এটা তাদের পরিকল্পনার অঙ্গ। কিন্তু কেকেআর সেটা পাচ্ছে না।” এসব মন্তব্যে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন সুজন মুখোপাধ্যায়।
ইডেনের পিচ প্রস্তুতকারক সুজন মুখার্জ্জী আর কে নিউজ ডট কমকে জানান, তাঁর কাছে কেকেআর কোনও আবেদনও করেনি, “পিচ নিয়ে কেন বিতর্ক হচ্ছে বুঝতে পারছি না। বিসিসিআই বা কেকেআরের তরফে পিচ নিয়ে কিছুই বলা হয়নি। আমি বিসিসিআইয়ের গাইডলাইন মেনেই পিচ বানিয়ে আসছি। এবারও বানাচ্ছি। আগামী ম্যাচগুলির জন্য সেটাই করব। বোর্ডের গাইডলাইনে বলা আছে, পিচ নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা কিছু বলতে পারে না। কেকেআর তো আমাকে কিছু বলেনি। কেমন পিচ হবে তা নিয়েও কথা হয়নি। রাহানে আমার ছেলের মতো। ওর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। বলছিল পিচ থেকে স্পিনারেরা আরও সাহায্য পেলে ভাল হয়। তবে সেটা নিছকই মজা করে।”
১৮ তম আইপিএলে প্রথম পিচের পরিসংখ্যান বলছে, কেকেআর-আরসিবি ম্যাচে ১১ উইকেট পড়েছিল। তার মধ্যে ৬টি পেয়েছিলেন স্পিনাররা। আরসিবির ক্রুণাল পাণ্ডিয়া তিনটি ও সুযশ শর্মা ১টি উইকেট পান। কেকেআরের বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারিন পান ১টি করে উইকেট। ২২ মার্চ ইডেনে কলকাতা বনাম বেঙ্গালুরু ম্যাচ দিয়েই শুরু হয়েছিল এ বারের আইপিএল। সেই ম্যাচে হেরে যায় কলকাতা। প্রথমে ব্যাট করে কেকেআর ১৭৪ রান করেছিল। আরসিবি-র স্পিনার ক্রুণাল পাণ্ডিয়া নিয়েছিলেন তিন উইকেট। কেকেআরের হয়ে খেলে যাওয়া স্পিনার সূযশ শর্মা আরসিবি-র হয়ে একটি উইকেট নিয়েছিলেন। ১৭৪ রানে আটকে গিয়েছিল কলকাতা। আরসিবি-র স্পিনারেরা দাপট দেখালেও কেকেআরের বরুণ চক্রবর্তী, সুনীল নারাইনেরা সে ভাবে দাগ কাটতে পারেননি। ম্যাচের আগের দিন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় কেকেআরের মিস্ট্রি স্পিনারদের নিয়ে বলেছিলেন, দেখুন না কী হয়। বিরাট এমন স্পিনারদের আগেও খেলেছেন। সৌরভের কথা মিলেছিল সঠিকভাবেই।ইডেনের প্রধান কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় অবশ্য এই বিষয়টাতে এতোটা গুরুত্ব বা বিতর্কিত বলতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘আমি সমাজমাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় নই। কে কী বলছে জানি না। তবে ধারাভাষ্যকারেরা কেউ কিছু বললে সেটা নিয়ে ভাবার কোনও প্রয়োজন নেই। কেকেআর ফিরলে ওদের সঙ্গে কথা বলব।’
প্রাক্তন জাতীয় ক্রিকেটার তথা কোচ লক্ষ্মীরতন ইডেনের উইকেটের প্রশংসা করে বলেন, ইডেনের পিচ কমপ্যাক্ট। খুব ভালো মাটি দিয়ে বানানো। স্পিন উইকেট করতে হলে জল না দিয়ে শুষ্ক করতে হবে। যাতে মাটির বাঁধন না থাকে। ফলে ইডেনের উইকেটের চরিত্র বদল রাতারাতি সম্ভব নয়। আইপিএল খেলার সঙ্গে বিনোদনের মিশেল। মাঠে দর্শকরা চার-ছয় দেখতে যান, হাই স্কোরিং ম্যাচ দেখতে যান। ভারতের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে সেটাই হচ্ছে। ঘূর্ণি উইকেট হলে প্রথমে ব্যাট করা সুবিধাজনক। কারণ, পরের দিকে বল গ্রিপ করবে। ব্যাটিং করা কঠিন। ১৩০ রান তুলেও জেতা যাবে। টি২০ ক্রিকেটে এখন বেশিরভাগ দল টস জিতলে রান তাড়া করতে চায়। ৪০ ওভারে পিচের চরিত্র বিশেষ বদলায় না। টেলর-মেড উইকেট হলে তা হবে না। ঘূর্ণি উইকেট বানালে কেকেআরকে টস হেরে পরে ব্যাট করতে হলে ম্যাচ জেতা সহজ হবে না। দর্শকরাও লো-স্কোরিং ম্যাচ দেখতে পছন্দ করবেন না।
ইডেনের উইকেট হাতের তালুর মতো চেনেন। ইডেনে খেলতে সকলেই পছন্দ করেন। উইকেটে বাউন্স থাকে। বল ভালো ব্যাটে আসে। বছরের পর বছর এই মাঠ সেরা। ক্রিকেটের মূল বিষয় ব্যাটিং, জোরে বোলিং ও স্পিন বোলিং। তিন ধরনের বিভাগ ইডেনের উইকেটে সমানভাবে সাহায্য আদায় করে। ক্রিকেটমহলে ইডেনের সুনাম রয়েছে ভালো উইকেটের জন্য। স্পিনারদের জন্য শুধুমাত্র উইকেট বানানো হয় তাহলে তা ইডেনের পক্ষে ভালো বিজ্ঞাপন হবে না। সব বিভাগে ভারসাম্য বজায় রেখেই ভালো উইকেটই ইডেনে তৈরী হয়ে আসছে। ২০২৩ সালেও ইডেনের পিচ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কেকেআরের অধিনায়ক নীতীশ রানা। স্পিন-সহায়ক পিচ চেয়েছিলেন। সুজন মুখার্জ্জী সেই দাবি মানতে চাননি। ইডেনের পিচ পেস সহায়কই রেখেছিলেন। ব্যাটারেরাও সাহায্য পেয়েছিলেন। একাধিক বার ২০০-র উপরে রান উঠেছিল। এ বারের পিচেও রান হবে বলে দাবি সুজনের। ২০২৩ সালে ইডেনের পিচ নিয়ে কেকেআর অখুশি হলেও, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তরফে আইপিএলে সেরা মাঠের পুরস্কার পেয়েছিল ইডেন। কেকেআরের ইডেনে পরবর্তী ম্যাচ ৩ এপ্রিল। পেস-নির্ভর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে। প্যাট কামিন্স, মহম্মদ শামি, হর্ষল প্যাটেল, সিমরজিৎ সিং বিপক্ষ দলে। স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা, অভিষেক শর্মা। কেকেআরের স্পিন আক্রমণ বৈচিত্র্যপূর্ণ সুনীল নারিন, বরুণ চক্রবর্তী ও মঈন আলি। প্রতিপক্ষে ভালো পেসাররা আছেন। উইকেটে জল কম দিয়ে বা রোল কম করালেই স্পিনারদের খেলতে সুবিধা হবে। বিতর্ক নয়। কেকেআরের ম্যানেজমেন্ট ও কিউরেটরের ভাববিনিময়ের পরিবেশই প্রত্যাশিত।
৬ এপ্রিল, অর্থাৎ রামনবমীর দিন ইডেনে হচ্ছে না কেকেআর বনাম লখনউ দ্বৈরথ। দিন বদলালেও ইডেনেই হবে ম্যাচ। বিসিসিআইয়ের তরফে খবর, ৬ তারিখের পরিবর্তে আগামী ৮ এপ্রিল ইডেনে মুখোমুখি হবেন রাহানে ও পন্থরা। বিকেল সাড়ে ৩টে-তেই শুরু ম্যাচ। ৬ এপ্রিল রাজ্যজুড়ে পালিত হবে রামনবমী। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কিছু মিছিল রামনবমী উপলক্ষে। রামনবমীকে কেন্দ্র করে রাজ্যে অশান্তির আশঙ্কায় সতর্ক কলকাতা পুলিশ। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই ম্যাচ সরানো হচ্ছে। ইডেনেই যাতে ম্যাচ আয়োজন করতে আসরে খোদ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। সিএবির তরফে বোর্ডকে অনুরোধ ৬ তারিখের পরিবর্তে অন্যদিন ম্যাচের দিনক্ষণ। মঙ্গলবার হবে ডবল হেডার। ৬ এপ্রিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচটি সাড়ে সাতটাতেই হবে। ৮ এপ্রিল বেলা ৩.৩০ মিনিটে ইডেনে কেকেআর এবং লখনউ। ওইদিনই রাত সাড়ে সাতটায় মুখোমুখি পাঞ্জাব কিংস ও চেন্নাই।