ম্যাসকট ও ট্যাগলাইন ছাড়াই এবারের রাজ্য গেমস অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। অষ্টম রাজ্য গেমসের ম্যাসকটের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘আবাং’। এই নাম দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ট্যাগলাইন দেওয়া হয়েছিল ‘এসো খেলি’। ২০২৫ রাজ্য গেমস অর্থাৎ নবম রাজ্য গেমসের ম্যাসকট ও ট্যাগলাইন সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের তরফে। রাজ্য গেমস শুরু ৭ এপ্রিল। ২০২৫ এর রাজ্য গেমস অনুষ্ঠিত হবে মালদায়। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিন সংবর্ধিত করা হবে জাতীয় গেমসের পদকজয়ীদের। রাজ্য গেমসের মূল আসর মালদায় বসলেও কলকাতায় শহরের বাইরে ব্যাপৃত পদক্ষেপ নিয়েছে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন অর্থাৎ বিওএ। সবকটি খেলার পরিকাঠামো মালদাতে সর্বোতভাবে না থাকার কারণে কয়েকটি ইভেন্ট কলকাতা ও দূর্গাপুরে হবে। ৭ এপ্রিল শুরু রাজ্য গেমস। ১০ এপ্রিল পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা চলবে মালদহতেই। ২৭ মার্চ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। রাজ্য গেমস শুরুর আগের দিন অর্থাৎ ৬ই এপ্রিল মালদহে বিশেষ অনুষ্ঠান থাকছে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন অর্থাৎ বিওএর তরফে। মালদা, কলকাতা ও দূর্গাপুরে বিভিন্ন ইভেন্টের খেলা। মোট ৩৬টি ইভেন্টের মধ্যে ২৯টি ইভেন্টের খেলা হবে মালদায়। বাকি ৭টি ইভেন্ট কলকাতা ও দূর্গাপুরে। রোয়িং, রাইফেল শুটিং, বোলিং, ইকুয়েস্ট্রেন, জিমন্যাস্টিক, গল্ফের পরিকাঠামো মালদাতে না থাকায় ইভেন্টগুলি কলকাতায় করার সিদ্ধান্ত। ব্যাডমিন্টন হবে দূর্গাপুরে। বাকি ইভেন্টগুলি হবে মালদায়। ৭ ও ৮ এপ্রিল ১৩টি ইভেন্ট এবং ৯ ও ১০ এপ্রিল ১৬টি ইভেন্ট। মোট ৩৬টি অলিম্পিক ইভেন্টে অংশ নেবেন ৬৭০০ জনেরও বেশি ক্রীড়াবিদ।

সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডে অনুষ্ঠিত জাতীয় গেমসে অর্থাৎ ৩৮ জাতীয় গেমসে অভাবনীয় সাফল্য বাংলার। রাজ্য সরকার পদকজয়ীদের আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি চাকরিও দেন। রাজ্যের সর্বত্র সবরকমের খেলাধূলার প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে ব্রতী রাজ্য সরকার। বিশেষ নজর গ্রামগুলোর দিকে। রাজ্য গেমসকে কলকাতা শহরের বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের। ২০২২ সালে শেষবার কোচবিহারে অনুষ্ঠিত হয়েছিল রাজ্য গেমস। কলকাতা শহরের বাইরে রাজ্য গেমস অনুষ্ঠিত হবে মালদহে। সবরকমের খেলার পরিকাঠামো মালদগে না থাকার কারণে কিছু ইভেন্ট কলকাতা ও দূর্গাপুরে অনুষ্ঠিত হবে। সল্টলেকের সাই কমপ্লেক্স এবং রাজ্যের কয়েকটি জেলায় এই প্রতিযোগিতা চলবে। ২০২২ সালে রাজ্য গেমস অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দু’বছর অন্তর এই প্রতিযোগিতায় আয়োজন করা হয়। রাজ্য গেমস বহুল পরিচিত নেতাজী সুভাষ গেমস নামে। ২০২২ এর পর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। জাতীয় গেমসের জন্য একবছর পিছিয়ে দেওয়ার কারণে ৭ থেকে ১০ এপ্রিল ২০২৫ রাজ্য গেমস অনুষ্ঠিত হবে। ২৭ মার্চ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে থাকবেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

২০২৩ সালে শতবর্ষ পূর্ণ করেছে বেঙ্গল অলিম্পিক সংস্থা। ১ বছর ধরে শতবর্ষ পালন অনুষ্ঠান চলছে। বিওএর শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ২৭ মার্চ রাজ্য গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিন বিশেষ পরিকল্পনা করেছে রাজ্য অলিম্পিক সংস্থা। বাংলার অলিম্পিয়ানদের বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এবছর জাতীয় গেমসে পদকজয়ীদেরও সংবর্ধিত করা হবে। ব্যক্তিগত বিভাগে সোনাজয়ীদের ২৫ হাজার, রুপোজয়ীদের ২০ হাজার ও ব্রোঞ্জজয়ীদের ১৫ হাজার করে আর্থিক পু্রস্কার দেওয়া হবে। দলগত বিভাগে সোনাজয়ীদের ১২ হাজার, রুপোজয়ীদের ১০ হাজার ও ব্রোঞ্জজয়ীদের ৭ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। জাতীয় গেমসে সবথেকে বেশি পদক পেয়েছেন প্রণতি দাস। মোট ৮২ হাজার টাকা পাবেন প্রণতি। অষ্টম রাজ্য গেমসের ম্যাসকটের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘আবাং’। এই নাম দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ট্যাগলাইন দেওয়া হয়েছিল ‘এসো খেলি’। ২০২৫ রাজ্য গেমস অর্থাৎ নবম রাজ্য গেমসের ম্যাসকট ও ট্যাগলাইন সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের তরফে। সাংবাদিক সম্মেলনে এবারের রাজ্য গেমস সম্পর্কে সবকিছু বিস্তারিত জানানো হলেও বিওএ কর্তারা ভুলেই গেছেন যে রাজ্য গেমস আয়োজন করতে হলে কোনও ট্যাগলাইন বা ম্যাসকটের প্রয়োজন হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চন্দন রায়চৌধুরী, রাজ্য গেমসের চেয়ারম্যান স্বরূপ বিশ্বাস, জেনারেল সেক্রেটারি জহর দাস, ট্রেজারার কমল কুমার মৈত্র সহ বিওএ কর্তারা।