বামিহ্যাম, লন্ডন : ‘দিদি’র অত্যন্ত স্নেহের বাংলার ‘দাদা’। তিনি বাংলার মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের পর প্রাক্তন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট এবার বাংলার অন্যতম শিল্পপতি সৌরভ। সম্প্রতি বাংলার শিল্প মহলে যোগ। বাংলার একাধিক কারখানা তৈরিতে কর্মসংস্থানে উদ্যোগী সৌরভ। মমতার আরও ঘনিষ্ঠ। অক্সফোর্ডেও মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের শ্রোতা বাংলার ‘দাদা’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তৃতা করবেন অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজে। ২৭ তারিখ সন্ধ্যায় কর্মসূচি অক্সফোর্ডে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই সেখানে যাবেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। মমতার অক্সফোর্ড কর্মসূচির আগেরদিন লন্ডনে আসছেন সৌরভ। লন্ডনে সৌরভ অতিথি নন। টেমসের ধারে লন্ডন আইয়ের কাছে ফ্ল্যাটে থাকেন কন্যা সানা। লেখাপড়া শেষ করে সানা লন্ডনেই কর্মরতা। আপাতত সৌরভের স্ত্রী ডোনাও লন্ডনে তাঁর ট্রুপ নিয়ে হোলির অনুষ্ঠানের মহড়া দিতে ব্যস্ত থাকলেও দেখা করবেন দিদির সঙ্গে।

সোম সকালে লন্ডনের রাস্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার ভাষায় ‘ওয়ার্ম আপ’। পরনে সাদা শাড়ির উপর গাঢ় নীল ফ্লিস জ্যাকেট, গলায় চাদর, পায়ে পাতলা মোজা আর সাদা হাওয়াই চটি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, নিরাপত্তা প্রধান পীযূষ পান্ডে, শিল্পপতি সত্যম রায়চৌধুরী এবং তাঁর পুত্র দেবদূত, বিলায়্যান্সের প্রেসিডেন্ট তরুণ ঝুনঝুনওয়ালা, শিল্পপতি সিকে ধানুকা, সঞ্জয় বুধিয়া। হোটেল থেকে বেরিয়ে বাকিংহাম প্যালেসের রাস্তা ধরে হাইড পার্ক। প্রাসাদের সামনে ভিড় ‘চেঞ্জ অফ গার্ডস’ হওয়ার কারণে। ২০১৫ সালে লন্ডন সফরে বাকিংহাম প্যালেসে গিয়েছিলেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর লন্ডন সফরের গুরুত্বপূর্ণ দিন ২৭ মার্চ, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ। অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভাষণ শুনতে হাজির থাকবেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে ভারতের এক প্রতিনিধি দলে থাকছেনবাংলার অন্যতম বিশিষ্ট শিল্পপতি সৌরভ গাঙ্গুলি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের মূল বিষয়, সামাজিক উন্নয়ন। বিশ্ববন্দিত সামাজিক উন্নয়নে মমতার মডেল সাফল্যের কথা শুনবেন অক্সফোর্ডের পড়ুয়ারা।

লন্ডন থেকে কলকাতা পর্যন্ত সরাসরি বিমান পরিষেবা চেয়ে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী। লন্ডনের হাই কমিশনে ভাষণে আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, লন্ডনের থেকে বাংলা বেশি দূরে নয়। কিন্তু একটা সরাসরি বিমান চাই। মুখ্যমন্ত্রীর বলেন, “বাংলা বেশি দূরে না। কিন্তু লন্ডন থেকে একটা সরাসরি বিমান হলে খুব ভালো হয়। আমি ইউকের অ্যাম্বাস্যাডরকে বলব যদি বিষয়টা দেখেন। আগে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ছিল। এখন সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হলে সুবিধা হবে। হিথরোর ঘটনাটার জন্য সব হচপচ হয়ে গেল। ৩০ জন মিলে আসার কথা। ৮ ঘণ্টায় যেখানে চলে আসা যেত, ১৮ ঘণ্টা লাগল। তার আগের ২৪ ঘণ্টা আবার চিন্তায় কাটল যে টিকিট বাতিল হচ্ছে, নাকি হচ্ছে না।” কলকাতা থেকে দুবাই হয়ে লন্ডন পৌঁছানো কষ্টসাধ্য। ভারতীয় হাই কমিশনে কলকাতা থেকে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হলে দুই শহরের মধ্যে যাতায়াত আরও মসৃণ এবং আরামদায়ক হবে বলে জানালেন মমতা। মঙ্গলে লন্ডনেই শিল্প সম্মেলন।

ইন্ডিয়া হাউসে ভারতীয় দূতাবাসে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা। বলেন, ‘‘আমরা কি এখানে একটা বিশ্ব বাংলার বিপণি খুলতে পারি? তা হলে এখানে কলকাতার দই, সন্দেশও পাওয়া যাবে। বিশ্ব বাংলা হল বাংলার পরিচিতি। বাংলায় ফুটবল আছে ঠিক কথা, তেমন প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেও ভুললে চলবে না। তিনি অক্সফোর্ডের অনুষ্ঠানে আমার সঙ্গে যোগ দেবেন। ওঁর মেয়েও এখানে পড়ে। সৌরভ বাংলার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যই আমাদের শিকড়। ভারতে অনেক রাজ্য রয়েছে। কোনওটা ধনী, কোনওটা গরিব, কোনওটা বড়, কোনওটা ছোট। আমাদের বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য বর্তমান।’’ অক্সফোর্ডের পাশাপাশি আমন্ত্রণ লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্স, কুইনস্ ইউনিভার্সিটি এবং ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ফুটবল ক্লাবে। হাই কমিশনার বিক্রমকে নিজের আঁকা ছবি উপহার দেন মুখ্যমন্ত্রী। ভারত-ব্রিটেন, কলকাতা-লন্ডনের সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে গিয়ে উল্লেখ করলেন বাংলার ইতিহাসে সিস্টার নিবেদিতা থেকে মাদার টেরেসার অবদানের কথাও।
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক