Thursday, April 3, 2025
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

অকপট পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী! তালিম, রেওয়াজ, শিক্ষার অভাবেই এই প্রজন্মের গায়কেরা ক্ষণস্থায়ী!

সা থেকে সা। খাদের সা আর চড়া সা। সামান্যটুকু করে দেখাতেই হবে। পণ্ডিতজির কাছে তালিম নিতে জানতেই হবে। তিনি তো পণ্ডিত অজয় চক্রবর্ত্তী। কিছুদিন আগেই অজয় চক্রবর্তীর শ্রুতি নন্দনে হাজির হয়েছিলেন অস্কারজয়ী সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমান। বলিউডের ছবিতে খ্যাতনামা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর গান। করণ জোহরের আগামী ছবিতে গান গাইবেন কিংবদন্তি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী অজয় চক্রবর্তী। ছবিটিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছেন অক্ষয় কুমার। গানের সুরকার কী সঙ্গীতশিল্পী নিজেই?‌ রহমানের সুরে কিংবদন্তি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী হিন্দি ছবিতে গান গেয়েছেন। সিনেমাতে রাগাশ্রয়ী গানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অস্বীকার রহমান, শঙ্কর-এহসান-লয়, অনন্ত মহাদেবনের মতো প্রথিতযশা সঙ্গীতজ্ঞরা পরামর্শ নেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী অজয় চক্রবর্তীর কাছে।

সিনেমার সঙ্গে রাগাশ্রয়ী গানের বন্ধন অনন্ত। গানের রাগের ছোঁয়া না থাকলে সেই গান প্রাণ লাভ করে না। কালজয়ীও হয় না। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডকে পটভূমিকায় হিন্দি ছবিতে গান গাইতে চলেছেন অজয় চক্রবর্তী। ২৪ মার্চ গানের রেকর্ডিং মুম্বইয়ে। অজয় চক্রবর্তীর ‘গদর: এক প্রেমকথা’, ‘বন্দিশ ব্যান্ডিটস’-এ গাওয়া ‘আন মিলো সজনা’, ‘গরজ গরজ’ গানগুলি বেশ জনপ্রিয়। লতা মঙ্গেশকর কোনও দিন খেয়াল গাননি। বড়ে গুলাম আলি খাঁ সাহেব ছায়াছবির গান রেকর্ড করেননি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী অজয় চক্রবর্তীর কথায়, “ছায়াছবি আর রাগাশ্রয়ী গানের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি হয়নি। এই মেলবন্ধন তৈরি হওয়া গান কালজয়ী। আজও নানা অনুষ্ঠানে সেই গান শোনা যায়। সমস্ত গান এই ধারার বাইরে তারা স্থায়ী হয়নি।” খড়্গপুর আইআইটি-তে সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শ্রুতিনন্দনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের নিবেদক গায়ক-পুত্র অনঞ্জন চক্রবর্তী। অরিত্র চক্রবর্তী, মেধা বসু-সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একঝাঁক শিক্ষার্থীরাও।

রাগাশ্রয়ী গানে ষাট বা সত্তর দশকের হিন্দি-বাংলা ছবির গানে কিন্তু রাগাশ্রয়ী সুর শোনা যেত। সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর ‘হম দিল দে চুকে সনম’ ছবিতে সুলতান খান, কবিতা কৃষ্ণমূর্তি, শঙ্কর মহাদেবন গেয়েছিলেন ‘আলবেলা সজন আয়ো রে’ …। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পীদের অনেকেই মনে করেন, ছায়াছবির গান অত্যন্ত লঘু। দুই ধারার গানের মেলবন্ধন ঘটেনি বলেই এই সচেতনতার অভাব। প্রয়াত রাশিদ খানের গাওয়া গান এই প্রজন্ম গানের রিয়্যালিটি শো-তে পরিবেশিত হয়।

শিল্পী বলেন, “যে গান জনপ্রিয় সেই গানে কোনও না কোনও রাগের ছোঁয়া রয়েছে।” তাঁর দুঃখ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এখন আর সেই ধারা বজায় নেই। কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, রাগসঙ্গীতের মূল্য এখনও সঠিক জানেন না দেশবাসী। অথচ ভারতীয় সঙ্গীত বিশ্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। রাগাশ্রয়ী গান সম্পর্কে সচেতনতা নেই বলেই ভারতবাসী এ সম্বন্ধে সজাগ নন। এই কারণেই কি বাংলা বা হিন্দি ছবির গান আগের মতো দীর্ঘস্থায়ী নয়? এই প্রজন্মের সুরকারদের মধ্যে সেই শিক্ষা নেই, যা ষাট বা সত্তর দশকের সুরকারদের মধ্যে ছিল। তাঁরা খ্যাতনামী শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পীদের থেকে তালিম নিয়ে গানের সুর দিতেন। এই প্রজন্মের সেই তালিম কোথায়? তালিম, রেওয়াজ, শিক্ষার অভাবেই এই প্রজন্মের গায়করা ক্ষণস্থায়ী। রিয়্যালিটি শো থেকে যাঁরা উঠছেন, তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ের পর হারিয়ে যাচ্ছেন। ব্যতিক্রমী সোনু নিগম, শ্রেয়া ঘোষাল, সুনিধি চৌহান, অরিজিৎ সিং সঠিক তালিম নিয়েছেন। নিয়মিত রেওয়াজ করেন। ছায়াছবির গানে সুরকাররা অভাব মেটানোর তাগিদ অনুভূব করেন। ছায়াছবিতে রাগাশ্রয়ী গান ছাড়া গতি নেই বলে মনে করেন অজয় চক্রবর্তীর।‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles