অঙ্কিত শ্রীবাস্তব : দিশা দেখিয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ফলও মিলেছে। সাফল্য নজরকাড়া। প্রচুর ক্রিকেটার উঠে আসছেন সিএবি-র ভিসন পরিকল্পনা থেকেই। বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থা আজও সমান ভাবে মহারাজের ভাবধারাতেই এগিয়ে নিয়ে চলেছেন সিএবি-র ভিশন ২০২৮। ২০ জন অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগের এবং ২৩ জন অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগের মেয়ারা শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। শিবিরের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক জাতীয় ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি। ভিসনের প্রশিক্ষণে বাংলার মেয়েদের কড়া নজরে রেকেছেন বেঙ্কটেশ প্রসাদ। ‘ভিশন ২০২৮’-শিবিরের তৃতীয় পর্যায় শনি থেকে শুরু সল্টলেকের যাদবপুর ক্যাম্পাসের মাঠে। প্রথম দিনে প্রথম অর্ধে বাংলার অনূর্ধ্ব-১৯ মেয়েরা যোগ দেন। শিবির চলবে আগামী ২৪ মার্চ পর্যন্ত। এরই মধ্যে শিবির দেখে এলেন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল প্রেসিডেন্ট স্নেহাশীষ গাঙ্গুলী। সঙ্গে ছিলেন সঞ্জয় দাস।

অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগের মেয়েরা শিবিরে যোগ দেন। শিবিরের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে থাকা মনোজ তিওয়ারি সদ্য কোচিং লাইসেন্স পরীক্ষায় পাশ করেছেন। পেস বিভাগকে নজরে রেখেছেন ভারতের বিখ্যাত জোরে বোলার বেঙ্কটেশ প্রসাদ এবং অশোক দিন্দা। স্পিন বোলিংয়ের দায়িত্বে নরেন্দ্র হিরওয়ানি। বাংলার প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেটার পূর্ণিমা চৌধুরীও দায়িত্বে। দু’টি অর্ধে চলা শিবিরে অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-১৫ মেয়েরা শিবিরে যোগ দেন।

স্পিন বোলিং প্রশিক্ষণে বাংলার মেয়েদের হাতে ধরে বুঝিয়ে দেন নরেন্দ্র হিরওয়ানি। ভেঙ্কটেশ প্রসাদ, নরেন্দ্র হিরওয়ানি এবং মনোজ তিওয়ারী ভবিষ্যতে তারকা হওয়ার লক্ষ্যে থাকা ক্রিকেটারদের প্রেরণামূলক কথা বলার পাশাপাশি অর্জিত অভিজ্ঞতাকে আগামী দিনে প্রত্যেকে মেয়েদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। এরপর টানা ব্যাট-বলের অনুশীলন। প্রত্যেক ক্রিকেটারদের উপরেই কড়া নজর রেখেছিলেন কোচরা। প্র্যাকটিসের শেষের দিকে প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন প্রশিক্ষকরাও।
শিবিরের মুখ্য লক্ষ্য ঘরোয়া মরসুমের প্রত্যেক বয়সভিত্তিক বিভাগে আগামীর তারকাদের যথাযথভাবে প্রস্তুত করা। সিএবি পরিচালিত ‘ভিশন ২০২৮’-এর প্রথম পর্যায়ের প্রস্তুতি শিবির। ব্যাটিং কোচ মনোজ তিওয়ারি, পেস বোলিং কোচ বেঙ্কটেশ প্রসাদ এবং স্পিন বোলিং কোচ নরেন্দ্র হিরওয়ানি তিনজনেই বঙ্গ প্রতিভা অন্বেষণের শিবির নিয়ে যথেষ্ঠ আস্থা প্রকাশ করে বলেন, এখান থেকেই ভবিষ্যতের তারকার আগমন ঘটবে। ভবিষ্যদ্বাণীতে আশা প্রকাশ তিন কোচেরই।

মনোজের কথায়, “ভিডিয়ো বিশ্লেষণ করে অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগের ক্রিকেটারদের প্রাথমিক জ্ঞান বৃদ্ধি করার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। সকল বিভাগের ক্রিকেটারদেরই হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান। ভবিষ্যতে ঠিক ভাবে নিজেদের মেলে ধরতে কোনও সমস্যা না হয় সেদিকেই নজর। ব্যাটিং বিভাগের খুঁটিনাটির উপরে জোর দিয়েছি। খুব ভাল শিবির হয়েছে বলাই বাহুল্য।”

ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন লেগস্পিনার হিরওয়ানি বলেন, “তরুণদের মধ্যে প্রতিভার কোনও অভাব নেই। পরামর্শ ঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারলে ওরা আরও উপকৃত হবে। অনূর্ধ্ব-১৫ ক্রিকেটারেদর প্রাথমিক জ্ঞান এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে ঠিক দিশা দেখানোতে জোর দিয়েছি।”

বেঙ্কটেশ প্রসাদ তরুণ জোরে বোলারদের শক্তি এবং দক্ষতার উপরে আরও কাজ করার কথা বলে জানান, “জোরে বোলারদের শক্তি এবং দক্ষতা আরও বাড়াতে হবে। শুধু প্রতিভা থাকলেই হবে না, ভাল জোরে বোলার হতে গেলে অতিরিক্ত পরিশ্রমও করতে হবে।”

সিএবি-র ভিশন ২০২৮, প্রথম পর্যায় চলবে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত। তিন কোচই প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আলাদা সময় দেন। হক-আই প্রযুক্তিতে অনুশীলন দেখে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করেন। মালদার ১১ বছরের মেয়ে শ্রুতি মন্ডল মিডিয়াম পেসার অনুর্দ্ধ ১৫ রাজ্য দলে সুযোগ ভেঙ্কটেশ প্রসাদের তত্বাবধানে প্রশিক্ষণ শুরু। ভিসন ২৮ আরও সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে তৎপর বলে জানান সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশীষ গাঙ্গুলী।
ছবি সৌজন্য : সিএবি